শিক্ষক ১৮-ওরিয়েন্টেশন ক্লাস উদ্বোধনে বাদ ১২
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজে নতুন শিক্ষাবর্ষের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস আয়োজনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ১৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ১২ জনকে বাদ দিয়ে সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ মোঃ এজাবুল হক বুলি এককভাবে আয়োজন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশের কলেজগুলোতে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথম ক্লাস উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত থাকলেও এই কলেজে কিভাবে বা কখন উদ্বোধন হবে, সে বিষয়ে কোনো শিক্ষককেই অবহিত করেননি কর্তৃপক্ষ। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মচারী কেউই অনুষ্ঠান আয়োজন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে শিক্ষকরা বিস্মিত হন বিশাল মঞ্চ ও গ্যালারি সাজানো দেখে। তবে মঞ্চে কোনো অতিথি উপস্থিত ছিলেন না। শিক্ষার্থীদের বসানো হলে অধ্যক্ষ মিলনায়তন থেকে সকলকে অনুষ্ঠানে যোগদানের আহ্বান জানান এবং দুপুরে ভোজের আমন্ত্রণ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ১২ জন শিক্ষক অনুষ্ঠান বর্জন করে শিক্ষক মিলনায়তনে অবস্থান নেন। পৌরনীতি বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক মোঃ জোহরুল ইসলাম বলেন, “আমার সকালেই ক্লাস ছিল, কিন্তু এসে দেখি বিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে—যা আমি জানতামই না।” ইসলাম শিক্ষার সহকারী অধ্যাপক মোঃ দুরুল হোদা অভিযোগ করেন, “জুলাই ২০২৪ আন্দোলনের পর পলাতক অধ্যক্ষ এক বছর পর ফিরে এসে আবারও স্বেচ্ছাচারী আচরণ শুরু করেছেন।” বাংলা বিষয়ের শিক্ষক মোঃ জোনাব আলী বলেন, “অধ্যক্ষ একদল ছাত্রলীগপন্থি শিক্ষার্থীকে পেছনে রেখে কলেজে রামরাজত্ব কায়েমের চেষ্টা করছেন। পিছনের দরজা দিয়ে ঢুকে নানা নাটক করে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখছেন।” উল্লেখ্য, আওয়ামী আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার, ষড়যন্ত্র এবং বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত চলছে। আন্দোলনকারীরা এখনো তার অফিসকক্ষ তালাবদ্ধ রেখে চাবি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন। আইনগতভাবে তার কক্ষ এখনো সিলগালা অবস্থায় রয়েছে। এদিকে, অনুষ্ঠানে শিক্ষক উপস্থিতি কম থাকায় শিক্ষার্থীরাও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা জানতাম না যে, এই কলেজে এত কম শিক্ষক আছে।”এ ঘটনায় কলেজজুড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এব্যাপারে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

Leave a Reply