নগদ অর্থ লুট-থানায় মামলা
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল বিষ্ফারণ ও দলবদ্ধ হামলায় দুইজন গুরুতর আহত ॥ গ্রেপ্তার ২
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঘটেছে রক্তাক্ত সংঘর্ষ। পূর্বশত্রুতার জেরে সশস্ত্র দলবদ্ধ হামলায় এক ব্যবসায়ী গুরুতর জখম ও তার সহযোগী আহত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, হামলাকারীরা নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর/২৫, রাত ৮টা ৩০ মিনিটে সদর মডেল থানাধীন দূর্গাপুর মাদ্রাসা মোড়ের দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা মাঠে। ভুক্তভোগীর মামা মোঃ আবুল কাশেম (৫৪) থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১. মোঃ রুবেল (৪০), ২. মোঃ রাজ্জাক (৩৫), ৩. মোঃ নাসিরুল (৪৫),৪. মোঃ মেহেদী (২২), ৫. মোঃ আবুল (২০), ৬. মোঃ শরিফ (৫৫), ৭. মোঃ সিফাত (২০)সহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী ব্যক্তি লাঠি-সোটা, লোহার রড, পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এজাহারের বিবরণে জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রথমে ব্যবসায়ী আব্দুল হক আব্বাসীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পরে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি মারপিট চালায়। হামলার এক পর্যায়ে তার হাত ভেঙে যায়। এসময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার বন্ধু সাগর আহম্মেদও হামলার শিকার হন এবং তার পায়ে গুরুতর জখম হয়। তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে। অভিযুক্তরা আব্দুল হক আব্বাসীর পকেট থেকে ব্যবসার নগদ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আসামিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। গুরুতর আহত আব্দুল হক আব্বাসীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান। আহত সাগর আহম্মেদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এঘটনায় ঘটনাস্থরে পর পর ২টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও অজ্ঞাত কারনে এজাহারে বিষয়টি সংযুক্ত করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দলের (জামায়াত) নেতার বিশেষ তদবিরে থানা পুলিশ বিষয়টিকে নিয়ে গড়িমসি করে এবং সন্ত্রাসীদের বাঁচাতে নানান কৌশল করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ককটেল বিষ্ফোরণের ঘটনাকে আড়াল করা এবং গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেন। যাহার মামলা নং-২৫। তারিখ ১৭/৯/২০২৫। মামলার পরই দ্রুত অভিযান চালিয়ে পুলিশ ৩নং আসামী নাশিরুল ও ৬নং আসামী শরিফকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশ দ্রুত বাকি আসামীদেরও গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনবেন-এমনটাই প্রত্যাশা করছেন তারা। এব্যাপারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরে প্রাথমিক তদন্ত শেষে মামলা গ্রহণ করা হয় এবং এজাহারে উল্লেখিত ৩ ও ৬ নং-দু’জন আসামি কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামীদের সদর মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি মতিউর রহমান।

Leave a Reply