রহনপুর রেলস্টেশনের টাওয়ার-সবুজে মোড়ানো কাঠামো ॥ যেন বাজপাখির রাজ সিংহাসন!
রহনপুর রেলস্টেশনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে রেলপথ বিভাগের একটি টেলিফোন টাওয়ার। এটি শুধুই যোগাযোগ ব্যবস্থার অংশ। কিন্তু আজ তা বদলে গেছে। লোহার পিলারগুলো জড়িয়ে ধরেছে সবুজ লতাপাতা, আর টাওয়ারের মাথায় প্রতিদিন বসে থাকে এক রাজসিক বাজপাখি। প্রযুক্তি, প্রকৃতি আর প্রাণীকুলের এই অনন্য মিলন মানুষকে মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত। দূর থেকে তাকালে টাওয়ারটিকে আর যন্ত্র মনে হয় না বরং মনে হয় যেন অদ্ভুত এক বৃক্ষ। লতাগুলোর সবুজ আবরণ কাঠামোকে নতুন প্রাণ দিয়েছে। “আগে এই টাওয়ারটিকে খুব সাধারণ মনে হতো, এখন মনে হয় যেন প্রকৃতির তৈরি শিল্পকর্ম,” বললেন স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ। কলেজ পড়ুয়া সোহেল রানা বলেন, বাজপাখির রাজসিংহাসন-সবচেয়ে বিষ্ময়কর হলো টাওয়ারের মাথায় নিয়মিত বসে থাকা বাজপাখি। শিকারি চোখে সে নজর রাখে চারপাশে। মাঝে মাঝে ডানা মেলে উড়ে যায়, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এসে বসে পড়ে তার প্রিয় আসনে।

“বাজপাখিটা যেন টাওয়ারের পাহারাদার। প্রতিদিন দেখি, মনে হয় এটি ছাড়া টাওয়ার অসম্পূর্ণ,। রেলস্টেশনে আসা যাত্রীরাও থেমে যান এই দৃশ্য দেখে। ট্রেনের অপেক্ষায় ক্লান্ত মানুষদের কাছে এটি এক প্রাকৃতিক বিনোদন। “ট্রেন দেরি করলে আমরা বিরক্ত হই, কিন্তু এই টাওয়ার আর বাজপাখির দৃশ্য দেখলে মনটা ভালো হয়ে যায়,” জানালেন ঢাকা থেকে আগত এক যাত্রী। মানুষের তৈরি একটি কাঠামো কিভাবে প্রকৃতির আঁচলে বদলে যেতে পারে, রহনপুর টাওয়ার তার জীবন্ত উদাহরণ। সবুজ লতায় মোড়ানো পিলার আর বাজপাখির রাজসিক উপস্থিতি যেন জানিয়ে দেয়, প্রকৃতি সর্বদা তার জায়গা খুঁজে নেয়। রহনপুরের এই টাওয়ার এখন আর শুধুই টেলিফোনের অবকাঠামো নয়, এটি মানুষের চোখে এক কবিতা, প্রকৃতির শিল্পকর্ম, আর পাখির নিরাপদ আশ্রয়। আর চোখ জুড়ানো মনোমুগ্ধকর এক প্রাকৃতিক দৃশ্য।

Leave a Reply