আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া-দূর্গাতলী ‎সড়কে গাছ রেখেই চলছে রাস্তা পাকাকরণ কাজ

আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া-দূর্গাতলী ‎সড়কে গাছ রেখেই চলছে রাস্তা পাকাকরণ কাজ

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়ার সিদ্ধেশ্বরী মোড় থেকে দূর্গাতলী মোড় পর্যন্ত সড়কের বান্দাইখাড়া ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন স্থানে একাধীক গাছ রেখেই চলছে পাকাকরণ কাজ। ফলে সড়ক সংকোচিত হওয়ায় চলাচলে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। জানা গেছে, স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) আওতায় এক কোটি ৭০লক্ষ টাকা ব্যয় ধরে বান্দাইখাড়া থেকে ফতেপুর সড়কের দূর্গাতলী পর্যন্ত পৌনে দুই কিলোমিটার সড়ক পাকা করণ কাজের টেন্ডার দেয়া হয়। ইতিমধ্যে সড়ক খননের মাধ্যমে বেড করে বালু, খোয়া বিছালেও এখন পর্যন্ত গাছ না কেটেই কাজ চলমান রেখেছেন ঠিকাদার। স্থানীয়রা বলছেন, এই সড়ক দিয়ে এলাকার ফতেপুর, সুন্যাসবাড়ী, ক্ষুত্র বান্দাইখাড়া, চকসিমলা, কালুপাড়া, চরকতোলাসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা চলাচল করেন এবং জেলা ও উপজেলা সদর থেকে বিভিন্ন মালামাল পরিবহন করেন। কিন্তু এই জনবহুল সড়কে একাধিকস্থানে গাছ রেখেই কাজ করায় সড়কটি সংকোচিত হয়ে পড়েছে। ফলে ওই স্থানে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটার আশংকা করছেন তারা। ‎ভ্যান চালক ছিমুল বিশ্বাস বলেন, এমনিতেই সড়কের প্রসস্ত কম, তার মধ্যে বান্দাইখাড়া ডিগ্রী কলেজের লাগানো মেহগুনির একাধীক গাছ রেখেই সড়ক পাকা করণ কাজ করছেন ঠিকাদার। ফলে সড়ক চিকন হওয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে এখানে গাড়ী পারাপার করতে হচ্ছে। ‎বান্দাইখাড়া গ্রামের মাহাতাব আলী বলেন, গাছ কেটে সড়কের কাজ করার জন্য আমরা এলাকার লোকজন বহুবার ঠিকাদারকে বলেছি। কিন্তু তার পরেও গাছ না কেটেই কাজ চলমান রেখেছেন। এতে চলাচলে চরম ভোগান্তি হবে। ‎সুন্যাসবাড়ী গ্রামের ইব্রাহিম আলী বলেন, যেখানে গাছ রয়েছে, ঠিক তার বিপরীত দিকেই বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। ফলে ওই স্থানে একটু বাঁকা করে বা বিপরীত দিক ঘেঁসে যে যানবাহন পার করা হবে, তার কোন সুযোগ নেই। ফলে এখানে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটা ঘটতেই থাকবে। তাই দ্রুত সড়কের গাছ কেটে পাকা করন শেষ করার দাবি জানান তিনি। ‎এব্যাপারে ঠিকাদার মনোয়ার হোসেন মুনু বলেন, সড়ক পাকাকরণ কাজ শুরু করলেও গাছ না কাটায় কাজ সমাপ্তের নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে সময় বর্ধিত করা হয়েছে। তার পরেও এখন পর্যন্ত গাছ কাটার কোন ব্যবস্থা হয়নি। তবে গাছ কাটার জন্য ইতি মধ্যে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবেদন করেছেন এমনটি শুনেছি। ‎আত্রাই উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নিতিশ কুমার বলেন, গাছগুলো কাটার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন দেয়া হয়েছে। এটা মিটিংয়ে পাশ হলেই টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি দিয়ে গাছ কেটে সড়ক ফাঁকা করা হবে। ‎এব্যাপারে গাছ নিলাম বিক্রয় কমিটির সভাপতি আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, আবেদন পাওয়ার পর বন বিভাগকে চিঠি দিয়েছি। সেখান থেকে উত্তরপত্র পাওয়ার পর দ্রুতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *