গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময়
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪০ শতাংশ শিশু-কিশোরের টাইফয়েড টিকা রেজিষ্ট্রেশন-সকল শিশুই পাবে টিকা
আগামী ১২ অক্টোবর থেকে মাসব্যাপী ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ শিশু টাইফয়েড টিকা দেয়া হবে। টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছে সিভিল সার্জন অফিস। “টাইফয়েডে জ্বর প্রতিরোধে-টিকা নেবো দল বেঁধে” এ প্রতিপাদ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার প্রতিটি শিশু-কিশোরদের টাইফয়েড টিকার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সে লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৭২ হাজর ৭শত ৩৪ জন শিক্ষার্থী, শিবগঞ্জ উপজেলায় ১লক্ষ ১৫ হাজার ৩শত ৩৪ জন, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৫৭ হাজার ৫শত ৩৩ জন, নাচোল উপজেলায় ৩৩ হাজার ৬শত ৮৬ জন, ভোলাহাট উপজেলায় ১৯হাজার ৭শত ৩৩ জন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ৪১ হাজার ৮শত ৮০জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, জেলার ৫ উপজেলা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় কমিনিউটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ১লক্ষ ৫৬হাজার ২শত ৫৩ জন শিশু, কিশোর,

কিশোরী কে টাইফয়েড টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলায় ৪লক্ষ ৯৭হাজার ১শত ৫৭ জন লক্ষ মাত্রার মধ্যে ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩৬৬ জন, অর্থাৎ ৩৯.৩০% শতাংশ শিশু, কিশোর অনলাইনে টিকার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। সব শিশু-কিশোরকে টিকার আওতায় আনতে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াও এই টিকা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন। বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিভিল সার্জন ডাঃ এ কে এম শাহাব উদ্দিন । তিনি আরো জানিয়েছেন, সরকারের ইপিআই কর্মসূচির আওতায় দেশব্যাপী রোববার (১২ অক্টোবর) টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে স্কুল পর্যায়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এবং কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে ১-১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টিসিবি টিকা দেওয়া হবে। জেলায় ১১৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠনে টিকা কেন্দ্র এবং জেলার প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ১ টিসহ মোট ৬ টি স্থায়ী টায়ফয়েড টিকা কেন্দ্র নির্ধারন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত কমিউনিটির ৯ মাস (২৭০ দিন) থেকে ১৫ বছরের কম (১৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন) বয়সী সব শিশু এবং প্রাক প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি/সমমানের সব শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ১ ডোজ টাইফয়েড প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হবে। ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য দিয়ে অ্যাপে নিবন্ধন চলছে। টাইফয়েড টিকা সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন সার্ভিলেন্স ও ইমুনায়েশন মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফারহানা হক। স্বাগত বক্তব্য দেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুলতানা পাপিয়া।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মোঃ ইনজামাম উল হক, জেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণসহ সিভিল সার্জন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। কর্মশালায় টাইফয়েড কিভাবে হয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গুরুত্ব, পানি ফুটিয়ে খাওয়া, এসব বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং টাইফয়েড টিকা নিবন্ধন ও টিকাদান বিষয়ে ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ এ.কে এম শাহাব উদ্দীন বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষ সচেতন হওয়ায় নিবন্ধনের হার বৃদ্ধি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় শতভাগ নিবন্ধন সম্পন্ন হবে। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, টিকা দেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা অসস্থি আসতে পারে, এটাকে কেন্দ্র করে গুজব ছড়ানো যাবে না। বিশ্বব্যাপী এই টিকা নিরাপদ ও কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে বছরে ৯০ লাখ মানুষ প্রতিরোধযোগ্য টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়, মারা যায় ১ লাখ ১০ হাজার। এবং বাংলাদেশে প্রায় ৮ হাজার রোগী মারা যায়। টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন বা টিসিভি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রি-কোয়ালিফায়েড। বাজারে টাইফয়েডের যেসব টিকা আছে তার তুলনায় আরও বেশি কার্যকর। এই টিকা শিশু-কিশোরদের পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেবে। এছাড়াও নতুন এই টিকা সম্পূর্ণ হালাল। টিকার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্ব অপরীসিম বলে জানান সিভিল সার্জন।

Leave a Reply