স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
পোরশায় ক্লুলেস শিশু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন-গ্রেফতার-৩
নওগাঁ জেলার পোরশায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস শিশু হত্যা মামলার রহস্য ৪৮ ঘন্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পোরশা থানা পুলিশ। এঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আসামীরা বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার কুশারপাড়ার মোঃ আব্দুল বারির ছেলে মোঃ মাহবুব আলম (৩০), একই এলাকার বদিনাথ এর ছেলে শ্রী সুজন (১৯) এবং পাঁচরাই গ্রামের মৃত আঃ জব্বার এর ছেলে মোঃ নুর আলম (৩০)। নওগাঁ জেলা পুলিশের এক প্রেসনোটে জানানো হয়, পোরশায় চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস শিশু সুমাইয়া ইয়াসমিন (৯) কে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালতে গ্রেফতারকৃত আসামীরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রেসনোটে আরও জানানো হয়, পোরশা থানার ছাওড় ইউনিয়নের মোঃ হাসিম উদ্দিন এর মেয়ে সুমাইয়া ইয়াসমিন (৯) গত ৯ অক্টোবর সকালে বাসায় খাওয়া দাওয়া করে অনুমানিক ৯টার দিকে খেলাধুলার জন্য বাড়ীর বাইরে গেলে কিছু সময় পর তার মা মোবাইলের মাধ্যমে জানতে পারেন যে সুমাইয়া ইয়াসমিনকে কে বা কারা পোরশা থানাধীন ছাওড় ইউনিয়নের হীরাডাঙ্গা গ্রামস্থ জনৈক মোশারফ হোসেন মশা এর আমবাগানের ভিতরে হাত বেঁধে মুখের ভিতর মাটি দিয়ে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ঘটনার বিষয়ে সংবাদ পেয়ে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণসহ পোরশা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং এ বিষয়ে পোরশা থানায় তাৎক্ষনিক একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলার পরপরই নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাফিউল সারোয়ার বিপিএম এর তত্ত্বাবধানে এবং মহাদেবপুর সার্কেল নওগাঁ এর তদারকিতে সংশ্লিষ্ট পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিন্টু রহমানের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল মামলার ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। ঘটনার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই আভিযানিক দল ১০ অক্টোবর রাতে ঘটনায় জড়িত তিনজন আসামী পোরশার মোঃ মাহবুব আলম, শ্রী সুজন, এবং মোঃ নুর আলম কে গ্রেফতার করে। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ভিকটিম সুমাইয়া একটি প্লাস্টিকের সাদা ব্যাগ নিয়ে আসামী মাহবুব এর কাছে বাগানে পেয়ারা নিতে গেলে পেয়ারা দেওয়ার কথা বলে ভিকটিমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে আসামীরা পালাক্রমে ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশু সুমাইয়া চিৎকার করলে তাকে কাপড়ের মোটা ফিতা গলায় পেঁচিয়ে হাত বেঁধে এবং মুখের ভিতর মাটি দিয়ে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
মামলার ঘটনা বর্ণনা দিয়ে নিজেদের জড়িয়ে উক্ত আসামীরা বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত চারজন আসামীর মধ্যে একজন আসামী পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে অতিদ্রুত এ চাঞ্চল্যকর মামলার রিপোর্ট দাখিল করা হবে বলেও জানানো হয় প্রেসনোটে।

Leave a Reply