নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে স্বাস্থ্যসেবার মান

ডাঃ মোঃ ফয়সল নাহিদ পবিত্র’র প্রচেষ্টা

নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে স্বাস্থ্যসেবার মান

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে স্বাস্থ্যসেবার মান। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউএইচএফপিও হিসেবে যোগদান করেন ডাঃ মোঃ ফয়সল নাহিদ পবিত্র। যোগদানের পর থেকে কয়েক মাসেই তিনি নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীবান্ধব হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নেন নানা উদ্যোগ। দুই মাসের মধ্যে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘ কয়েক বছর পর হাসপাতালের ওয়ার্ডে আধুনিক বেড সংযোজন, ইসিজি মেশিন সংযোজন, প্যাথলজি বিভাগে ডিজিটাল কলোরিমিটার সংযোজন। উক্ত পদক্ষেপসমূহ রোগীদের সেবা মান বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তার সুদক্ষ পরিচালনা ও সুযোগ্য নেতৃত্বে এক সময় নওগাঁ জেলার সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে নওগাঁ জেলার শীর্ষ উপজেলাগুলোর একটি। ২০২০ সালে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সের সেবা তালিকায় যুক্ত হয়েছিল বেশ কিছু নতুন সেবা। সেগুলো হলো- অপারেশন থিয়েটার চালু : মেজর সার্জারি চালু, সিজারিয়ান অপারেশন চালু, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ, শ্বাসকষ্ট, ক্যানসারসহ নানাবিধ অসংক্রামক রোগের সেবা প্রদানের জন্য এনসিডিসি (অসংক্রামক ব্যাধি) কর্তার চালু, মাতৃ-স্বাস্থ্য নিশ্চিতে এবং অন্যান্য রোগ নির্ণয়ের জন্য আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা চালু, প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি বাড়াতে বিশেষ করে স্বাভাবিক প্রসবে উৎসাহিত করতে এবং মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যু কমাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের উপহার প্রদান প্রথা চালু। ২০২৫ সালে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৫০০ জন রোগী সেবা গ্রহণ করছেন। জরুরি বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৬০-৭০ জন রোগী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৬৫-৮৫ জন রোগী ভর্তি থেকে সেবা গ্রহণ করছেন। বর্তমানে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৫ জন এমবিবিএস ডাক্তারের বিপরীতে মাত্র ৪ জন কর্মরত রয়েছেন। তার পরেও এই চারজন নিয়ে সতটা সম্ভব সততার সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অনতিবিলম্বে এই হাসপাতালের ডাক্তার সংকট দুর করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সৌন্দর্যবর্ধনে ২টি ফুলের বাগান এবং একটি ভেষজ বাগান করা হয়। রাতে বাগানের সৌন্দর্য বাড়াতে নানা রঙের গার্ডেন লাইট লাগানো হয়।
২০২২ সালে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবা তালিকায় যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু নতুন সেবা। যেমন-মহিলাদের জন্য আলাদা নামাজ কক্ষের ব্যবস্থা, বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা মায়েদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে এডোলসেন্ট হেলথ কর্তার, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেন্টাল হেলথ কাউন্সিলিং কর্নার, ২৫০০ গ্রামের চেয়ে স্বল্প ওজনের নবজাতকদের চিকিৎসার জন্য চালু করেছেন ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার ওয়ার্ড, ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার ওয়ার্ডে স্বল্প ওজনের নবজাতকদের শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য রয়েছে রেডিয়েন্ট ওয়ার্মার। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অতীতে প্রদত্ত সেবার সব রেকর্ড নতুন করে লিখিয়েছে। মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ মোঃ ফয়সাল নাহিদ পবিত্র’র ইনোভেটিভ উদ্যোগ হলো ‘কানেক্টিং নিয়ামতপুর’। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জুম লিংকের মাধ্যমে প্রত্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিকে মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা গর্ভবতী মায়েদের নানা পরামর্শ এবং স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন। ভবিষ্যতেও স্বাস্থ্যসেবায় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *