এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি
এ কান্নার শেষ কোথায়? ব্যর্থ সংলাপের পর শিক্ষক নেতার অশ্রু!
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন দেলোয়ার হোসেন আজিজী, হতাশার অশ্রুতে ভিজল শিক্ষাঙ্গন। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অমানবিক বৈষম্য আর অবহেলার প্রতিবাদে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। রাজধানীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংলাপ শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন আজিজী। হতাশ মুখে সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে যখন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন, তখন সেই অশ্রু যেন গোটা শিক্ষক সমাজের বেদনার প্রতীক হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি শিক্ষকদের সমান বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, অবসর সুবিধাসহ ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এসব দাবির দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস না মেলায় হতাশা ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষক সমাজে। দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন,

“আমরা সরকারের কাছে ভিক্ষা চাই না, অধিকার চাই। এভাবে আমাদের দাবি উপেক্ষা করা মানে শিক্ষা ব্যবস্থার অবমূল্যায়ন।” চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে এখন আন্দোলনের ঢেউ। অনেক স্কুলে শ্রেণি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকরা বলছেন, “আমরা শিক্ষার্থী পড়াতে চাই, কিন্তু পেটে ভাত না থাকলে কীভাবে শিক্ষা দেব?”
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি এই এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। কিন্তু রাষ্ট্রের বাজেট ও নীতিগত অবহেলায় তারা আজ চরম হতাশায়। শিক্ষক সমাজ মনে করছে, এই অশ্রু শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি যুগের অবহেলার ইতিহাস। দেলোয়ার আজিজীর সেই কান্না যেন প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়, শিক্ষক যদি কাঁদে, তাহলে শিক্ষা কাঁদে না কেন? এ কান্নার শেষ কোথায়? দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দিয়ে শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে আনার কথা বলছেন শিক্ষানুরাগীরা।
Leave a Reply