গাইবান্ধায় পুলিশ সুপার ও ওসি’র বিরুদ্ধে পুলিশের স্ত্রীর মামলা

গাইবান্ধায় পুলিশ সুপার ও ওসি’র বিরুদ্ধে পুলিশের স্ত্রীর মামলা

অধীনস্থ এক উপ-পরিদর্শক (এস.আই) কে পুর্বপরিকল্পিতভাবে এসপি কার্যালয়ে অন্যায়ভাবে ডেকে নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ আটকের অভিযোগে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার ও ওসির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধা সদর আমলী আদালতে ভুক্তভোগি এস.আই মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কাজলী খাতুন বাদি হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ ও দুই/তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন, গাইবান্ধা পুলিশ সুপার (এসপি) নিশাত এ্যঞ্জেলা, গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদার, লালমনিরহাট জেলার তারেকুজ্জামান তুমিন (২৩)। তিনি পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারি-ইসলামপুর এলাকার মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে ও ভুক্তভোগি এস.আই মনিরুজ্জামানের বোনের সাবেক স্বামীর মামাতো ভাই। মামলা সুত্রে জানা গেছে, বাদির স্বামী এস.আই মনিরুজ্জামান তখন গাইবান্ধা সদর থানায় কর্মরত ছিলেন। মনিরুজ্জামানের আত্নীয় আসামি তারেকুজ্জামান তুহিন পারিবারিক পুর্ব শক্রতার জেরে ফেসবুকে ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে ছবি প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে এসআই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা এসপি কার্যালয়ে একটি মৌখিক অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগে চলতি বছরের ২৫ মার্চ পুলিশ সুপার ও ওসি, এসআই মনিরুজ্জামানকে এসপি কার্যালয়ে ডেকে নেয়। মনিরুজ্জামান এসপি কার্যালয়ে প্রবেশ করা মাত্রই গাইবান্ধার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব জ্যোর্তিময় গোপ মনিরুজ্জামানের কাছ থেকে তার মোবাইল ফোন, ল্যাপটব ও ১৩ হাজার টাকা জোরপুর্বক কেড়ে নেয়। পরে মোবাইল ও ল্যাপটপ যাচাই-বাচাই শেষে ডিভাইসগুলো সদর থানার ওসির কাছে আটক রাখে। এসময় বিষয়টি বাহিরে প্রকাশ করলে চাকুরীর ক্ষতি হবে বলে ভয় দেখানো হয় মনিরুজ্জামানকে। নিষেধ না শুনলে, ভাড়াটিয়া গুণ্ডা দিয়ে গুম হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কৌশলে পূর্বের আয়না ঘরের মতো গুম করা হবে। এক পর্যায়ে উদ্দেশ্য মুলক ভাবে মনিরুজ্জামানকে গাইবান্ধা থেকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলী করা হয়। পরে মনিরুজ্জামান উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিষয়টি তিনি তার পরিবারকে জানায়। পরে আসামিদের ভয়ভীতি ও চাপে নিরুপায় হয়ে প্রাণ বাঁচাতে আদালতে মামলা দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাদি পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, আমলী আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলম মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামি ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলায় এজাহার নামীয় তিনজন ও অজ্ঞাত ২/৩ আসামি করা হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *