চেক প্রত্যাখ্যান মামলায় জামিন পেলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিক
চেক প্রত্যাখ্যান (ডিজঅনার) মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকার অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে চাইনিজ রফিক জামিন পেয়েছেন। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক আবুল বাসার মো. নাহিদুজ্জামান শুনানি শেষে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়েরের শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন শুনানিকালে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আসামিপক্ষের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪০ লাখ টাকার মধ্যে ২০ লাখ টাকা ট্রেজারিতে জমা দিয়ে জামিন আবেদন করা হয়। আইনজীবী নূরে আল সিদ্দিকী আসাদ বলেন, রায়ের পর অর্থদণ্ডের অর্ধেক পরিমাণ অর্থ জমাপূর্বক আদালতে রফিকুল ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আপিলের শর্তে জামিন মঞ্জুর করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদালতে আপিল করা হবে।

এদিকে, জামিন পেয়ে আদালত চত্ত্বরে রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের দোসর হাম্মাদ আলী মিথ্যা মামলা দায়ের করেন তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে বিএনপির কিছু নেতা ফ্যাসিস্টের দোসরের প্রভাবে তার বিরুদ্ধে রায় দেন আদালত। বিচার বিভাগে এখনও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমরা আশা করেছিলাম বিচার বিভাগ নিরপেক্ষ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করবে কিন্তু সেটা হয়নি। এর আগে গত ২১ অক্টোবর (মঙ্গলবার) চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (১ম আদালত) রফিকুল ইসলামকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড দেন। মামলার বাদী ব্যবসায়ী হাম্মাদ আলী জানান, তিনি রফিকুল ইসলামকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ৪০ লাখ টাকা ধার দেন।

টাকা ফেরত না পেয়ে তাগাদা দিলে রফিকুল ইসলাম প্রাইম ব্যাংকের চারটি চেক (প্রতি চেক ১০ লাখ টাকার) মাধ্যমে পরিশোধের আশ্বাস দেন। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়ার পর অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকগুলো প্রত্যাখ্যাত হয়। ২০১৩ সালের ২৭ মার্চ হাম্মাদ আলী এই মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত গত সপ্তাহে রায় ঘোষণা করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী রবিউল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিন পর হলেও আমরা আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট।”

Leave a Reply