নওগাঁয় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের ব্যাপক ক্ষতি
অসময়ে দুই দিনের বৃষ্টি আর ঝড়ে চলতি আমন মওসুমের উঠতি প্রায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কৃষকদের স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়ায় কান্না জেলা জুড়ে। হাজার হাজার কৃষক তাদের উৎপাদন খরচও ঘরে তুলতে পারবেন না বলে মনে করছেন কৃষকরা। নওগাঁ জেলায় চলতি আমন মওসুমে ১ লাখ ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করেছেন কৃষকরা। ধানের আবাদ হয়েছিল খুব ভালে। থোকা থোকা ধান গাছে গুচ্ছ গুচ্ছ ভরাট শীষ ক্রমেই সোনালী হয়ে উঠছিল। আর মাত্র ১০/১৫ দিনের মধ্যেই পাকা ধান ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু মাত্র দু’দিনের বৃষ্টি আর ঝড়ে কৃষকের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। মাঠে ফলন্ত ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। জমিতে জমেছে বৃষ্টির পানি। লুটিয়ে পড়া ধান সেই পানিতে ডুবে গেছে।

অপরদিকে যে সামান্য ধান পেকে গেছে পানিতে ডুবে থাকার ফলে সেই ধান থেকে গাছ গজিয়ে গেছে। কৃষকরা বলেছেন স্বাভাবিকভাবে যদি ধান উৎপাদিত হতো তাহলে বিঘা প্রতি ১৬ থেকে ২০ মন হারে ধান উৎপাদিত হতো। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে প্রতি বিঘা জমি থেকে ৫/৬ মন হারে ধান উৎপাদিত হওয়া কঠিন। মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এদিকে, আমন ধানের ক্ষতি কাটিয়ে পরবর্তী ফসল হিসেবে সরিষা, আলুসহ বিভিন্ন রবি ফসল চাষ করবেন তারও সুযোগ কম। কারন জমিতে যে পানি জমেছে সে পানি নেমে যেতে সে সময় পেরিয়ে যাবে। দিব্য দৃষ্টিতে মাঠে মাঠে প্রায় ২৫ শতাংশ জমির ফসল বিনষ্ট হলেও কৃষি বিভাগ বলেছে জেলায় সাড়ে ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতির শিকার হয়েছে। জমিতে লুটিয়ে পড়া ধান দাঁড় করিয়ে আঁটি বেঁধে রাখার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে আগাম জাতের রবি ফসল চাষ করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে তুলতে সরকারের সহায়তা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

Leave a Reply