নওগাঁয় মহিলার নগ্ন ছবি ভাইরালের হুমকী-৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবী ॥ জীবন বিপন্নের আশংকা
নওগাঁয় এক মানবাধিকার কর্মীর স্ত্রী’র ফেসবুক থেকে ছবি সংগ্রহ করে তা বিশেষ প্রক্রিয়ায় নগ্ন ভিডিও তৈরী করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করেছে একটি চক্র। এ ব্যাপারে থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করে কোর্টে মামলা করার পরামর্ম দেয় পুলিশ। সে পরামর্শ অনুযায়ী নওগাঁ ১ নম্বর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করার ১ বছর অতিবাহিত হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বরং আসামীদের নানা হুমকী’র ফলে ভীত সন্ত্রস্ত জীবন যাপন করছেন ওই পরিবার।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, সোসাইটি ফর ইষ্টাবলিশ এন্ড ইমপ্লিমেন্ট অব হিউম্যান রাইটস এর নওগাঁ জেলার সাধারণ সম্পাদকের স্ত্রীর ফেসবুক থেকে একটি ছবি সংগ্রহ করে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে একটি চক্র তা নগ্ন ভিডিও তৈরী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকী দেখিয়ে ডেকে নেয়। অভিযোগ মোতাবেক জানা গেছে, সদর উপজেলার রজাকপুর গ্রামের মোঃ বকুল হোসেনের পুত্র মোঃ রবিউল আওয়াল জনি, চকমারপুর গ্রামের ফজলে আবু ফরহাদের পুত্র মোঃ সামিউল রহমান প্রিন্স এবং রানীনগর উপজেলার রানীনগর খট্টেশ^র গ্রামের লইমুদ্দিন খলিফার পুত্র মোঃ উজ্জল খলিফা নামের ৩ যুবক গৃহবধুর স্বামীকে ঐ ভিডিও দেখিয়ে তার নিকট থেকে ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দিলে সেই ছবি তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকীও দেয় ওই প্রতারণাকারীরা। স্বামী ঐ মানবাধিকার কর্মী চাঁদা দাবীকারী যুবকদের সাথে ভিডিও ডিলিট করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এ ব্যাপারে নওগাঁ সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ব্যবস্থা পুলিশ গ্রহণ করবে বলে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করে টালবাহানা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর বিকাল ৩টায় ভিক্টিমের স্বামী নওগাঁ শহরে যাওয়ার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে চকরামপুর তুলশীগঙ্গা ব্রীজের পশ্চিম পাশের্^ তার পথরোধ করে আবারো ৩ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লঠি দিয়ে মাথায় প্রচন্ডভাবে আঘাত করা হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শ^াসরোধ করে হত্যার প্রচেষ্টা চালানো হয়। এসময় তার নিকট থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, সোনালী ব্যাংকের একটি এটিএম কার্ড, ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রশিদ বই এবং ৩০২ মডেলের একটি মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরে তাকে নওগাঁ ২৫০ শয্যবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ১২ নভেম্বর ’২০২৪ তারিখে হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করে কোটে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়। সেই মোতাবেক নওগাঁ ১ নম্বর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলা নম্বর নম্বর ১৯৫৬ সি/২০২৪ ধারা দন্ডবিধি আইনের ১৪৩/১৪৭/৩২৩/৩২৪/৩০৭/৩৭৯/৩৮৫/৫০৬(২)/৩৪। প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও মামলার কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ভূক্তভোগী পরিবার প্রতিনিয়ত হুমকীর মুখে অনিশ্চিত জীবনযাপন করছেন।

Leave a Reply