মারাত্মক ফলন বিপর্যয় এবং দাম কম হওয়ার ফলে উৎপাদন খরচ ঘরে তোলা অসম্ভব কৃষকদের

নওগাঁ জেলায় আমন ধান কাটা শুরু

মারাত্মক ফলন বিপর্যয় এবং দাম কম হওয়ার ফলে উৎপাদন খরচ ঘরে তোলা অসম্ভব কৃষকদের

নওগাঁ জেলায় চলতি আমন মওসুমে ধানের ফলন বিপর্যয় এবং দাম কম হওয়ার কারনে উৎপাদন খরচ ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে কৃষকদরে মধ্যে হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। লাভ তো দুরের কথা এ বছর বিঘাপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন জেলার কৃষকরা। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে নওগাঁ জেলায় চলতি আমন মওসুমে মোট ১ লক্ষ ৯৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষ করেছেন কৃষকরা। উল্লেখিত পরিমাণ জমি থেকে ৬ লক্ষ ৬৭ হাজার ১২৬ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের প্রত্যাশা নিয়ে ধান কাটা শুরু করেছেন তাঁরা। ইতমধ্যে গত ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার ৪৩ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর মাঠে মাঠে সোনালী ধান কৃষকদের আশায় বুক ভরে উঠেছিল। কিন্তু হঠাৎ করে অসময়ের একদিনের ঝড় বৃািষ্টতে কৃষকদের সে স্বপ্ন ভেঙ্গে খান খান হয়ে যায়। জেলার অধিকাংশ মাঠে প্রায় প্রায় পাকা ধান মাটিতে শুয়ে পড়ে। এতে মারাত্মকভাবে ফলন বিপর্যয় ঘটে। কৃষকরা জানিয়েছেন এ বছর ধানের উৎপাদন ভালোই হয়েছিল।

স্বাভাবিকভাবে প্রতি বিঘা জমি থেকে ২০ থেকে ২২ মন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের ফলে কৃষকদের ধারনা বর্তমানে বিঘায় সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ মন ধান উৎপাদিত হবে। কোন কোন জমিতে আরও কম। জমিতে চাষ দেয়া. চারা তৈরী. সেচ, নিড়ানী, কীটনাশক সার, কাটা মাড়াই ইত্যাদি বাবদ প্রতি বিঘা জমিতে কৃষকদের খরচ হয়েছে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকা। কেবলমাত্র জমি থেকে ধান কেটে খলিয়ানে তোলার জন্যই বিঘা প্রতি খরচ লাগছে ৬ হাজার টাকা। এদিকে ধানের বাজার মূল্য খুবই কম। চলতি বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ১০৫০ টাকা থেকে ১১০০ টাকায়। বর্তমান বাজার অনুযায়ী তার বিক্রি মূল্য ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। সার্বিকভাবে কৃষকরা লোকসানের মুখে। কাজেই হতাশ তাঁরা। কৃষি বিভাগ বলছে হঠাৎ অসময়ের ঝড়বৃষ্টির ফলে জেলায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান বিনষ্ট হয়েছে। এসব জমির ধানের ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। তবে ফলন বিপর্যায় ঘটলেও গড়ে প্রতিবিঘা জমিতে ১৬ থেকে ১৭ মন ধান উৎপাদিত হবে। আমন ধানের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য পরবর্তীতে রবি মওসুমের বিশেষ করে সরিষা, গম ও বোরো ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে সরকারী প্রনোদনা দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন নওগাঁ খামার বাড়ি’র অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ খলিলুর রহমান। সচেতন মহল মনে করেন কেবল প্রনোদনা দিয়ে কুষকদের এতো ক্ষতি কাটিয়ে উঠা অসম্ভব। সরকারীভাবে কৃষকদের উৎপাদিত ধানের যুক্তিসংগত নায্যমূল্য রিশ্চিত করা প্রযোজন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *