নিয়োগের ৮ বছরেও বেতন ভাতা চালু হয়নি শিক্ষকের ॥ সীমাহীন দারিদ্রতার মধ্যে কাটছে জীবন
নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলাধীন সুদরানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী গ্রন্থাগারিক/ ক্যাটালগার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও বেতনভাতা না হওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন মোঃ রজব আলী নামের একজন শিক্ষক। শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালীপনা এবং অবহেলার কারনে বেতনভুক্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বার বার ফেরত পাঠাচ্ছে শিক্ষা অধিদপ্তর। এ জন্য প্রধান শিক্ষক অমরেন্দ্রনাথ সাহা ভুক্তভোগী শিক্ষক মোঃ রজব আলীর নিকট থেকে ৫ লক্ষ টাকা গ্রহণ করলেও দায়িত্বের সাথে এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেননা। বেতন না হওয়ায় দরিদ্র ভুমিহীন উক্ত রজব আলী সীমাহীন দুর্দশার মধ্যে থেয়ে না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন যাপন করছেন।
খোঁ নিয়ে জানা গেছে উক্ত রজব আলী সুদরানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত ২২ নভেম্বর ২০২২ সালে সহকারী গ্রন্থাগারিক/ ক্যাটালগার পদে যোগদান করেন। এমপিওভুক্তির জন্য অন লাইনে কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে দেখা যায় ২০২০, ২০২১, ২০২২ এবং২০২৩ সালে ডাটা এন্ট্রি থাকলেও ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ব্যানবেইস-এ ডাটা এন্ট্রি না থাকায় এমপিওভুক্তির আবেদনটি বাতিল করা হয়। প্রেক্ষিতে প্রদান শিক্ষক পুনরায় জেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে আবেদন পাঠান। প্রধান শিক্ষক বার বার ইচ্ছাকৃতভাবে ভূল এবং অসামঞ্জস্য কাগজপত্র পাঠিয়ে দেন যা অধিদপ্তরে গ্রহণযোগ্য হয়না। প্রদান শিক্ষক উক্ত রজব আলীর শিক্ষাযোগ্যতার সার্টিফিকেটের সাথে মিল নেই এমন তথ্য সম্বলিত কাগজপত্র পাঠিয়ে দেন।
জানা গেছে পুনরায় ৩০ নভেম্বর’২০২৫ তারিখের মধ্যে সঠিক এবং পূর্নাঙ্গ কাগজ পত্র অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিষয়টিকে সামান্যতম গুরুত্ব না দিয়ে দিনের পর দিন স্কুলে অনুপস্থিত থাকছেন। ঐ স্কুৃলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ ইসমাইল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ লিয়াকত আলী আকন্দ বলেছেন প্রধান শিক্ষক ইচ্ছামত ৭/৮ দিন পর পর হঠাৎ স্কুলে এসে হাজিরা রেজিষ্টারে স্বাক্ষর করে তাৎক্ষনিক স্কুল ত্যাগ করছেন। এমন কি ছাত্রছাত্রীদের বার্ষিক এবং টেষ্ট পরীক্ষা চলছে এমন অবস্থাতেও তিনি স্কুলে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকছেন। গত ২৭ নভেম্বর এই প্রতিনিধি স্কুলে গিয়ে দেখতে পান যে প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত রয়েছেন। মোবাইল ফোনে তার সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে আছে বলে জানান।
এদিকে উক্ত প্রধান শিক্ষকের নামে নানা আর্থিত অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগও প্রমানিত হয়েছে। ঐ স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান মোল্লা এবং শিক্ষকবৃন্দ জানিয়েছেন বিগত করোনাকালীন সময়ে ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ আসে। এর মধ্যে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের জন্য ৫ হাজার টাক করে মোট ৭৫ হাজার টাকা । এসব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ৩ হাজার করে টাকা দিয়ে বাঁকী টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আত্রাই উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সোহেল রানা তদন্ত করে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় ইউএনও বরাবর সে রিপোর্ট প্রদান করেছেন । কিন্তু আজ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গৃহিত হয়নি। একজন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর পিতা এই আত্মসাতের বিষয়ে হাইকোর্টে রীট করেছেন যা শুনানীর অপেক্ষায় আছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে শিক্ষক কর্মচারীদের নিকট থেকে অনৈতিকভাবে ৮ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা, ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে ফিস, সেশন ফি, বাবদ আদায়কৃত ৪ লক্ষ টাকাসহ মোট ১২ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়ে আসছেন।
জানা গেছে শিক্ষক মোঃ রজব আলী’র বেতন না হওয়া এবং আর্থিক অনিয়মের কারনে এলাকাবাসীর ভয়ে তিনি বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পাচ্ছেন। সেই কারনে তিনি নিয়মিত স্কুলে আসতে পারছেননা।
Leave a Reply