চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতে সরিষা চাষে কৃষকের মুখে হাসি!

হলুদে ভরে উঠছে মাঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাতে সরিষা চাষে কৃষকের মুখে হাসি!

শীত মৌসুম এলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সোনালি হলুদ রঙের দোল। ধান কাটার পর পতিত হয়ে থাকা জমিতে সবুজ-হলুদের মিশেলে সরিষার ফুলে ভরে উঠেছে পুরো এলাকা। কম খরচে বেশি লাভের আশায় এ বছরও জেলায় ব্যাপকভাবে সরিষা চাষ করেছেন কৃষকেরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, সদর ও নাচোল উপজেলায় সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। দো-আঁশ ও বেলে মাটিতে ভালো ফলন হওয়ায় এই অঞ্চল সরিষা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
সরিষা চাষে সময় কম লাগে—মাত্র ৮৫ থেকে ৯৫ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে গড়ে ৫ থেকে ৭ মণ সরিষা উৎপাদন হয়। ধান কাটার পর একই জমিতে স্বল্প খরচে এই ফসল চাষ করে বাড়তি আয় করছেন চাষিরা।

গোমস্তাপুর উপজেলার এক কৃষক বলেন, “সরিষা চাষে খরচ কম, পরিচর্যাও সহজ। তেলের বাজার ভালো থাকায় লাভও নিশ্চিত।”
সরিষা থেকে উৎপাদিত তেল স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। গ্রামাঞ্চলের ঘানিতে উৎপাদিত খাঁটি সরিষার তেল স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এর দামও ভালো। এতে শুধু কৃষক নয়, তেলকল মালিক ও শ্রমজীবীরাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
সরিষা ফুলে মৌমাছির আনাগোনা বেড়েছে। ফলে এই অঞ্চলে মৌচাষের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সরিষার ক্ষেতে স্থাপিত মৌবাক্স থেকে উৎপাদিত মধু স্থানীয় বাজারে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে।
হঠাৎ বৃষ্টি, শীতের তীব্রতা কমে যাওয়া এবং বাজারদরের ওঠানামা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে কৃষি বিভাগ বলছে, উন্নত জাতের বীজ, সময়মতো সার ও সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব।
সরিষা এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শুধু একটি ফসল নয়-এটি কৃষকের অর্থনৈতিক ভরসা ও শীত মৌসুমের অন্যতম সৌন্দর্য। পরিকল্পিত চাষাবাদ, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে সরিষা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *