চাঁপাইনবাবগেঞ্জ শীতবস্ত্রের অভাবে নীরব কষ্টে হাজারো মানুষ

চাঁপাইনবাবগেঞ্জ শীতবস্ত্রের অভাবে নীরব কষ্টে হাজারো মানুষ

ঘন কুয়াশার আড়ালে সূর্যহীন সকাল, হিমেল বাতাসে জমে ওঠা ঠান্ডা আর অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস-এই তিনে মিলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এখন শীতের দংশনে ক্ষতবিক্ষত এক জনপদ। উত্তরের সীমান্তঘেঁষা এই জেলায় শীত আর কেবল মৌসুমি অনুভূতি নয়, এটি এখন প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই। ভোরের দিকে জেলার গ্রাম, চর ও শহরের অলিগলিতে দেখা যায় আগুন জ্বালিয়ে শরীর সেঁকতে থাকা মানুষ। খড়, কাঠ কিংবা শুকনো পাতা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক ও ভবঘুরেরা। কারও গায়ে মোটা কাপড় নেই, কারও আছে ছেঁড়া কম্বল-যা এই তীব্র শীতে মোটেও যথেষ্ট নয়।

সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বৃদ্ধ হাফেজ উদ্দিন বলেন, “শীতে ঘুম ভাঙলেই মনে হয় বুক জমে গেছে। আগুন না পোহালে সকালটা পার করা যায় না। তার চোখে-মুখে ক্লান্তি আর শীতের চেয়েও বেশি অসহায়ত্বের ছাপ। শীতের প্রভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের জীবন-জীবিকা। দিনমজুরদের কাজ কমে গেছে, ভ্যানচালকদের যাত্রী নেই, কৃষিশ্রমিকরা মাঠে নামতে পারছেন না। একজন দিনমজুর নারী বলেন, “কাজে গেলে শরীর টেকে না, আর না গেলে ঘরে ভাত জোটে না। স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত গরম কাপড় ও পুষ্টির অভাব এ ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। জেলার হাটবাজারেও শীতের প্রভাব স্পষ্ট। সকালবেলা দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা কম। চায়ের দোকানগুলো যেন শীতবিরোধী অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপ নিয়েছে। গরম চায়ের কাপে হাত সেঁকে মানুষ কিছুটা উষ্ণতা খুঁজছে। জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, তা চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত। বিশেষ করে চর ও প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে এখনও বহু মানুষ শীতবস্ত্রের অপেক্ষায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। অর্থাৎ শীতের এই দাপট আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শীত তাই কেবল প্রকৃতির রুদ্রতা নয়-এটি সমাজের মানবিক দায়িত্বেরও এক নির্মম পরীক্ষা। কুয়াশার ভেতর লুকিয়ে থাকা এই কষ্টগুলো দেখার ও পাশে দাঁড়ানোর সময় এখনই।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *