নওগাঁয় ৫০০ মন ধানভর্তি ট্রাক ডাকাতি ॥ ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই ট্রাকসহ ৬ ডাকাত আটক
নওগাঁ চালক ও হেলপারকে বেঁধে ধান বোঝাই ট্রাক ডাকাতির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৬ জন ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে জেলা পুলিশ। এই ডাকাত চক্রের প্রধান সামিউল ইসলাম এবং ধান বোঝায় ট্রাক উদ্ধারের জন্য ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারী) দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তার সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রদান করেছেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যার পর দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ থেকে ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-০১৩৮ নম্বর ট্রাকে করে চালক মারুফ ও হেলপার শামীম ২৫০ বস্তায় ৫০০ ধান নিয়ে নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ২৩ জানুয়ারি রাত অনুমান ১.৪৫ মিনিটে নওগাঁ সদর উপজেলার শেষ সীমানা কির্ত্তীপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া নামকস্থানে পৌঁছলে পিছন থেকে একদল ডাকাত ভিন্ন একটি ট্রাক ওভারটেকিং করে সামনে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে পথরোধ করে। চালক ও হেলপারকে মারপিট করে রশি দিয়ে হাত পা বেঁধে ডাকাতদের ট্রাকে তিলে নিয়ে জয়পুরহাট হয়ে বগুড়ার দিকে চলে যায়। ডাকাতদের অন্য দল ট্রাক ধান বুদায় ট্রাকটি নিয়ে আরেক দিকে চলে যায়। নওগাঁ সদর মডেল থানায় এ সংক্রান্ত মামলা নম্বর ৩৯ ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড রুজু হয়। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি বিশেষ টীম গঠন করে অনতিবিলম্বে ডাকাতি হওয়া ধান এবং ডাকাতদের গ্রেফতারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে নির্দেশনা দেন। এসময় পুলিশ সংবাদ পায় বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্র একটি ট্রাক ও একজন ব্যাক্তিকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে রেখেছে। আটক ব্যাক্তি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল বেপারীর পুত্র আরিফুল ইসলাম। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়া যায় সে ডাকাতির সাথে সম্পৃক্ত। আরিফুল ইসলামকে নওগাঁ গোয়েন্দা হেফাজতে নেয়া হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং পাশাপাশি যুক্তি ব্যবহার করে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পলুপাড়া গ্রামের মৃত হোসেন আলীর পুত্র ডাকাত গোলাপ (২৪) ও সাদুল্লাপুর উপজেলার বলিদহ গ্রামের মোহাম্মদ ওয়াহেদ আলীর পুত্র লাভলু (২৮)’কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, এই ডাকাত দলের প্রধান মোঃ সামিউল ইসলাম (৩০) গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈড় উপজেলার দিঘিরপাড় সরকার বাড়িতে ভাড়া বাসায় অবস্থান করে। গ্রেফতারের জন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সামিউল ইসলাম বাসা থেকে পালিয়ে যায়। ওই বাসা থেকে ডাকাতি হওয়া ধান বোঝায় ট্রাকের কাগজপত্র পাওয়া যায়। এরপর আশুলিয়া, সাভার, কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান পরিচালনা করে আরও তিনজন ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃত এ ৩ জন ডাকাত হলো বরিশাল জেলার মেহেদীগঞ্জ উপজেলার চরকা কাটা চানপুরগ্রামের দেলোয়ার হোসেন শরীফের পুত্র মোঃ রাকিব হোসেন শরীফ, গাইবান্ধা জেলাধীন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বড় সাতাইল বাতাইল গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার এর পুত্র মোঃ রফিকুল ইসলাম অপু এবং একই উপজেলার রাজা মিয়ার পুত্র মোঃ সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩)। ডাকাতির কাজে ব্যাবহৃত বগুড়া-ঢ়-১১-১৯৮১ নম্বর ট্রাকটি আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও তাদের নিকট থেকে ৪টি বাটন ফোন ২টি স্মার্টফোনসহ ৭টি মোবাইল ফোন আটক করা হয়েছে।
Leave a Reply