চাঁপাইনবাবগঞ্জে আদিবাসীসহ ধর্র্মীয় সংখ্যালঘুদের ৫ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আদিবাসীসহ ধর্র্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষে ৫ দফা দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে আদিবাসী নেতৃবন্দ। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম এর আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি উত্থাপন করেন উচ্চ আদালতের আইনজীবী ও উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রভাত টুডু। নিরাপদে ভোট দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী মহানগর সভাপতি সুমি মুরমু, সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক প্রদীপ হেমব্রম, কোল নেত্রী রুমালী হাসদাঁ, আদিবাসী নেত্রী মনিকা মনিকা সরেন। উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম এর দাবিগুলো হচ্ছে (১) নির্বাচন ও নির্বাচনকালীন সরকারকে আদিবাসী ও সংখ্যালঘুদের সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। (২) নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু বিরোধী সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্র তথা সেনা, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। (৩) নির্বাচন কমিশনকে আরো সক্রিয়, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি বা প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। (৪) সকল গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল তাদের অঙ্গীকার নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, উত্তরবঙ্গ থেকে একজন আদিবাসী টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ও সংরক্ষিত আসনে সংসদে প্রতিনিধি নির্বাচন,

সমতলের আদিবাসীদের পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন করার বিষয়গুলো অর্ন্তভুক্ত করতে হবে। (৫) আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটারদের সচেতনতা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। প্রভাত টুডু বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নানাভাবে বৈষম্য, ভীতি, নিপীড়ন ও সহিংসতার শিকার হয়ে আসছে। নির্বাচন এলেই এই জনগোষ্ঠীর মানুষ আরো বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১১, ২৭, ২৮ এবং ৩৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে সকল নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও ভোটাধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে। সম্মেলনে প্রভাত টুডু বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই-ভোটাধিকার কোনো দয়া নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমরা বিশ্বাস করি, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই পারে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে। আর সেই গণতন্ত্র তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন দেশের সর্বস্তরের মানুষ-আদিবাসী, সংখ্যালঘু, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী-নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।

Leave a Reply