নওগাঁ-১ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার দ্বিমুখী লড়াইয়ে উত্তপ্ত ভোটের মাঠ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার) আসনে নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে। উপজেলার পাড়া-মহল্লা ও অলিগলি, রাজপথগুলো মুখর হয়ে উঠেছে। এ আসনে এবার ভোটের লড়াই মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ-১ আসনটি বিএনপি’র ঘাঁটি হিসাবে সুপরিচিত। মাঝে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা হোঁচট খাওয়ায় বিএনপি এই আসনটি হারিয়ে ফেলে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি পুনুরুদ্ধার করার জন্য বিএনপি’র সামনে অপার সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। এখানে বিএনপি’র জন্য ঝুঁকি ছিলো নিজেদের মধ্যে গ্রুপিং। কিন্তু বর্তমানে নির্বাচনী ডামাডোলে সকল গ্রুপ ভেদাভেদ ভুলে কাজ করছে। নওগাঁ-১ আসনে বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এই আসনটি বিএনপি সহজেই পুনুরুদ্ধার করতে পারবে তো। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থক, নতুন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারেরা ভোটে এ আসনের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণা শুরু করেন। শুক্রবার ছুটির দিনেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে তাদের দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা দলে দলে ভাগ হয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রভিত্তিক প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন। নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৫ জন প্রার্থী। তারা হলেন, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম (দাঁড়িপাল্লা), স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. ছালেক চৌধুরী (মোটরসাইকেল)। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আব্দুল হক শাহ (হাত পাখা), জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আকবর আলী কালু (লাঙ্গল)। নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ -১ আসন (নিয়ামতপুর, পোরশা, সাপাহার) ভোটকেন্দ্রের সংখ্যার -১৬৬ টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪৭৪০৬৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ২৩৫৩৭৭ জন ও মহিলা ভোটার সংখ্যা ২৩৮৬৮৪জন এবং হিজড়া ভোটার সংখ্যা ৪ জন। এ আসনে ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় তরুণ ভোটারের সংখ্যা ৯৭ হাজার এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। তরুণ ভোটার মাসুদ রানা বলেন, নির্বাচনে প্রচারণা হলো ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করার একটা প্রক্রিয়া। এ সময় প্রার্থীরা নানা রকম কথার ফুলঝুঁরি প্রদান করবেন, প্রতিশ্রুতি দিবেন এটাই স্বাভাবিক। এর মধ্য থেকেই মানুষকে তাদের পছন্দের নেতাকে বেছে নিতে হবে। যে প্রার্থী আমাদের এলাকায় উন্নয়ন করবে, কৃষকদের পাশে থাকবে আমরা এমন প্রার্থীকে ভোট দিব। কোরআন ও সুন্নাহের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রতি যারা প্রদান করবেন তাকেই ভোট দেওয়া দরকার বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক প্রবীণ নেতা বলেন, খোলা চোখে বিএনপি নেতৃবৃন্দ মনে করছে সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা দাঁড়িপাল্লা তথা জামায়াতের প্রার্থীকে কখনওই ভোট দিবে না। এদের ভোট ধানের শীষেই আসবে। কিন্তু রাজনীতির নিমর্ম বেড়াজালে পড়ে যদি এই হিসাব পাল্টে যায় তাহলে ধানের শীষের জয়ের ক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিএনপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিএনপির ক্ষমতায় গেলে তিন উপজেলার মধ্যে রেল যোগাযোগের স্থাপনা নিমার্ণ করা হবে। যাতে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্য অল্প খরচে সহজেই শহরে নিয়ে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে পারে। শিক্ষা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন, সুদ মুক্ত কৃষি ঋণ, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হবে। এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হবে। কৃষকদের প্রয়োজনে সাইলো নির্মাণ করা হবে। তিনি আরোও বলেন, এসব উপজেলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে সহজেই মাদকদ্রব্য প্রবেশ করে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। এ আসনটিতে বর্তমানে বিএনপি বেশ শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য আসন্ন নির্বাচনে ভোটাররা ধানের শীষের প্রার্থীকেই বেছে নিবে। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাহবুবুল আলম বলেন, এবারের নির্বাচনে এ অঞ্চলের মানুষ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবেন। কারণ ভোটাররা এবার পরিবর্তনের একটি আবহাওয়া দেখতে চায়। সেই হিসেবে সাধারণ ভোটাররা এবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।

Leave a Reply