বিলুপ্তির পথে বক পাখি-চাঁপাইনবাবগঞ্জের আকাশে হারিয়ে যাচ্ছে সাদা ডানার ছায়া
এক সময়ে গোমস্তাপুরসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গ্রামবাংলার খেতখামারে, নদীনালা ও বিলজুড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে দেখা যেত সাদা রঙের বক পাখি। বর্ষার পানিভরা মাঠে কিংবা গরুর পেছনে পোকামাকড় ধরতে ছুটে চলা বকের দৃশ্য যেন ছিল চেনা দিনের এক চিরচেনা ছবি। কিন্তু সেই পরিচিত দৃশ্য আজ হারিয়ে যাচ্ছে দ্রুত। স্থানীয়দের ভাষায়, এখন আর আগের মতো বক পাখি দেখা যায় না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, ভোলাহাট ও নাচোল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একসময় বক পাখির ভিড় থাকলেও এখন তা হাতে গোনা কয়েকটি স্থানে সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে রহনপুর, আলিনগর, বাঙ্গাবাড়ী, বোয়ালিয়া দলদলিসহ মহানন্দা নদীর তীরবর্তী এলাকায় অল্পসংখ্যক বক টিকে আছে কেবল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষি জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার, জলাশয় ভরাট, বৃক্ষ নিধন, এবং প্রজনন মৌসুমে বাসা ধ্বংসের ফলে এই প্রজাতির সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। আগে যেসব বড় গাছে বকরা দল বেঁধে বাসা বাঁধত, সেসব গাছ এখন কেটে ফেলা হয়েছে জমি সমতল করার জন্য। ফলে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ও হারিয়ে গেছে। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, বক পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এরা পোকামাকড় ও ক্ষতিকর কীট খেয়ে ফসলের ক্ষতি রোধ করে। তাই বক পাখির বিলুপ্তি মানে প্রকৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, “আমরা বিভিন্ন এলাকার জলাশয় ও গাছপালা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছি। জনগণ সচেতন হলে এই পাখিগুলোকে আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।” গ্রামবাংলার আকাশে যখন ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে বেড়াত বক, তখন কৃষকের মুখে ছিল হাসি, শিশুর মনে আনন্দ। আজ সেই সাদা ডানার সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে ধীরে ধীরে। তাই এখনই সময় প্রকৃতি রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার।

Leave a Reply