নওগাঁয় জোরপূর্বক দখল করে ৩ ফসলী জমিতেপার্ক নির্মানের অভিযোগ

নওগাঁয় জোরপূর্বক দখল করে ৩ ফসলী জমিতেপার্ক নির্মানের অভিযোগ

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় কৃষকের ফসলী জমি জোরপূর্বক দখল করে বিনোদন পার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেসব কৃষক পার্কের জন্য জমি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাদের জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে চলতি বোরো মওসুমের ধান রোপন বাধাগ্রস্থ করা হয়েছে। এমন প্রায় ২০/২৫ বিঘা জমিতে এ বছর বোরো ধান রোপন সম্ভব হয়নি। এসব জমি এখনও পতিত রয়েছে। নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায় ছাতড়া-গাবতলী সড়কে আমইল মৌজায় সাথী নামের এক যুবক নিজস্ব বয়লার চাতাল এবং একটি পুকুরকে ঘিরে ‘সাথী পার্ক’ নামের একটি বিনোদন পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। পার্ক সম্প্রসারনের প্রয়োজনে পাশ্ববর্তী বিভিন্ন কৃষকের ফসলী জমি নানা কৌশলে দখলের প্রচেষ্টা চালায়। কাউকে জমির পরিবর্তে অন্যত্র সমপরিমান জমি প্রদান করে, আবার কারও জমি মালিককে না বলেই দখল করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমইল গ্রামের জনৈক আব্দুর রাজ্জাকের ১২ কাঠা জমি জোরপূর্বক টিনের বেড়ার ভিতর নিয়ে নেয়। ঐ কৃষকের আরও কমপক্ষে ২ বিঘাসহ বেশ কয়েকজন কৃষকের কমপক্ষে ২০/২৫ বিঘা জমি সিমেন্টের পিলার দিয়ে ঘিরে নেয়া হয়। এতে কৃষকরা আপত্তি করলেও দলীয় প্রভাবে তা অগ্রাহ্য করা হয়। এসব জমিতে সাথী তার নিজস্ব সেচ প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ করতেন। এখন আর পানি দিচ্ছেনা। এমনকি অন্য কোন সেচ প্রকল্প থেকে যাতে সেচ কাজে পানি নিতে না পারে, সেজন্য তাদেরও পানি দিতে নিষেধ করে দিয়েছে বলেও কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।কৃষকদের বেকায়দায় ফেলে জমি দিতে বাধ্য করতে উক্ত সাথী তার গভীর নলকূপ প্রকল্প থেকে সেচের জন্য পানি দেয়া বন্ধ করে দেয়। এতে প্রায় ২০/২৫ বিঘা জমির বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েন কৃষকরা।এ ব্যাপারে সাথী বলেছেন কারও জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়নি। জমির বদলে অন্যত্র জমি দেয়া হয়েছে। তিনি জানান, জমির পরিবর্তে সমপরিমান আবার কিছু জমি অন্যত্র দেয়ার সমঝোতার মাধ্যমে জমি নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে কারও কোন অভিযোগ মাই।নিয়ামতপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোছাঃ মুরশিদা খাতুন বলেছেন, পার্ক নির্মানের প্রয়োজনীয় সরকারী অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলমান আছে, তবে অন্য কৃষকের আবাদী জমি দখল করার কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে এখতিয়ারভুক্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের ৩ ফসলী জমি যাতে জোরপূর্বক দখল করে পার্ক নির্মান করা না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতন মহল।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *