টুঙ্গিপাড়ার চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’

টুঙ্গিপাড়ার চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘জামাই মেলা’

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়া গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী জামাই মেলা। মধ্য ফাল্গুনে শীতলা পূজা উপলক্ষে প্রতিবছর বসে এ মেলা। জামাইদের উপস্থিতি ও কেনাকাটাই হয়ে ওঠে মেলার প্রধান আকর্ষণ। জামাইরা মাছ-মিষ্টি কিনে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান, আর বাড়ি বাড়ি জমে ওঠে আনন্দ-উৎসব। মঙ্গলবার জোয়ারিয়ায় শীতলা মন্দিরে পূজার পর শুরু হয়ে চলে বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত। এই পুরো সময়টা ফাল্গুনের আমেজ, উৎসবের রঙ আর জামাই-মেয়ের আগমনে মুখরিত হয়ে ওঠে জোয়ারিয়া গ্রাম। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চারশ বছর আগে গ্রামে কলেরা, বসন্ত ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে অনেকে মারা যান। তখন শীতলা মায়ের পূজা দিলে মৃত্যু বন্ধ হয়। তারপর থেকেই এ গ্রামে শীতলা পূজা হয়ে আসছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, শীতলা মায়ের কাছে মানত করলে মনের বাসনা পূরণ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই পূজাকে ঘিরে মানুষের সমাগম বাড়তে থাকে। কালক্রমে পূজাকে কেন্দ্র করে বসা মেলাটি ‘জামাই মেলা’ হিসেবে পরিচিতি পায়। দুইদিনের এ মেলার প্রধান আকর্ষণ এলাকার জামাইরা। উৎসবকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে জামাইরা শ্বশুরবাড়িতে আসেন। তারা স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মেলা ঘুরে দেখেন এবং শ্বশুরবাড়ি ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য কেনাকাটা করেন। মেলায় হরেক রকম মিষ্টি, মাংস, মাছসহ নানা ধরনের মনোহরী ও ভোগ্য পন্যের সমাহারে দেখা মেলে। জামাইদের মধ্যে চলে মেলা থেকে কেনাকাটার প্রতিযোগিতা। যে জামাই সবচেয়ে বেশি ও ভালো কেনাকাটা করতে পারবেন এলাকাজুড়ে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই মেলাকে ঘিরে জমজমাট কেনাবেচা চলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এবারের মেলায় বালিশ মিষ্টি, আমিত্তি, ছানার জিলাপি ও রসগোল্লা ছিল বিশেষ আকর্ষণ। এছাড়া বিভিন্ন দোকানে টাটকা ইলিশ ও রুই মাছসহ হাঁস, রাজহাস, মুরগি, খাসিসহ বিভিন্ন ধরনের মাংসের দোকান ছিল বেশ জমজমাট। মেলা কমিটির সভাপতি অমল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “শুধু জামাই নয়, এলাকাবাসী, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের মিলন মেলায় পরিণত হয় এই উৎসব। কেনাবেচার পাশাপাশি চলে আনন্দ-আড্ডা। গ্রামীণ ঐতিহ্য আর পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই জামাই মেলা।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *