ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে রাজধানীর কড়াইল, সাততলা বস্তি ও ভাষাণটেকের ১৫ নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়। ফ্যামিলি কার্ড আজ সবার দোরগোড়ায়। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসার নাম, আস্থার নাম। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সরকার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলোকে ভাতা দেবে। ভাতা দেওয়া হবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তাঁরা ঘরে বসেই এই ভাতা পাবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলো হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। আগে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এতে বলা হয়, একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নিচ্ছেন, সরকারি চাকরি করছেন বা পেনশনভোগী আছেন ইত্যাদি বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশের নারীরা ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পেয়ে যাবেন। প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন ৩৭৫৬৭ নারী। সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাজধানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশের নারীরা ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পেয়ে যাবেন। সুবিধাভোগী বাছাই প্রক্রিয়া বিষয়ে তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্য হতে ডাবল ডিপিং (একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ), সরকারি চাকরি, পেনশন ইত্যাদি কারণে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র সূচক মানের ভিত্তিতে সম্পন্ন করায় উপকারভোগী নির্বাচনে কোনোরূপ দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই। নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে। জাহিদ হোসেন আরও বলেন, পাইলটিং কর্মসূচিতে প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারে ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিটেন্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। ইউনিয়ন কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত তালিকা উপজেলা কমিটি কর্তৃক অধিকতর যাচাইপূর্বক উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে পরিবারের আয় বা ভোগের মাত্রা ঠিক করে সামাজিক সহায়তার জন্য যোগ্যদের বাছাই করা হবে। সফটওয়্যারের সহায়তায় এ প্রক্রিয়ায় হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে পরিবারগুলোকে বিভক্ত করা হবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, “হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫ টি খানার তথ্য যাচাইয়ে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এরপর সেখান থেকে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারের নারীপ্রধানকে বাছাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রত্যেক নারীপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। চিপ সম্বলিত এ কার্ডে কিউআর কোড (বার কোডের তথ্যসহ) ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে; ফলে কার্ডটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে। পাঁচ সদস্যের পরিবারের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা পাঁচের অধিক হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হবে বলে অনুষ্ঠানে বলা হয়। মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, “পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬%) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪%) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে। এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রয়েছে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে চিন্তা করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয় বরং সকল নাগরিকের জন্য। এমনকি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের ধারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে সব তথ্য জনগণের কাছে থাকবে। এই ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা সার্বজনীন, অর্থাৎ এখানে কোনো দলীয় প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই। কোথাও এর ব্যত্যয় হলে মন্ত্রণালয়ে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগীর সংখ্যা ৫০ লাখ হলে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার দরকার হবে বলেও জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে ‘যুগান্তকারী পদ্ধতি’, যা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা করবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *