Blog

  • র‌্যাবের ছদ্মবেশে সাইবার প্রতারণা ॥ চক্রের মূলহোতা মারুফ গ্রেফতার

    র‌্যাবের ছদ্মবেশে সাইবার প্রতারণা ॥ চক্রের মূলহোতা মারুফ গ্রেফতার

    র‌্যাবের ছদ্মবেশে সাইবার প্রতারণা ॥ চক্রের মূলহোতা মারুফ গ্রেফতার

    র‌্যাবের পরিচয় ব্যবহার করে সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের মূলহোতা মারুফ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে র‌্যাব দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, অপহরণ ও সাইবার অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে র‌্যাবের ছদ্মবেশ ধারণ করে সংঘটিত প্রতারণার ঘটনাটি তদন্তে নেয়া হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মোঃ ইসমাইল চৌধুরী রাসেল (৩৭) পেশায় একজন গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক। গত ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি তার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান খানের কাছে ফোন করে নিজেকে র‌্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণের কথা বলে অর্থ সহায়তা দাবি করে। সরল বিশ্বাসে চেয়ারম্যান একটি ডাচ-বাংলা ব্যাংক একাউন্টে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ব্যবস্থাপক ইসমাইল চৌধুরী রাসেল বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৫, তারিখ-০১/০১/২০২৬; ধারা-১৭০/৪২০/৪০৬/৩৪ পেনাল কোড)। ঘটনার পর ছায়া তদন্তে নামে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-৫, সদর কোম্পানি রাজশাহী এবং র‌্যাব-১১, সদর কোম্পানি নারায়ণগঞ্জের যৌথ অভিযানে ৩ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানাধীন গোপালপুর বাইপাস সড়ক এলাকা থেকে প্রতারণা চক্রের মূলহোতা মোঃ মারুফ হোসেন (২৯), পিতা- রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত মারুফ হোসেন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। পরবর্তীতে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানায় জিডি মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।

  • শিবগঞ্জে ডিবির অভিযানে ফেয়ারডিল উদ্ধার-গ্রেফতার ১

    শিবগঞ্জে ডিবির অভিযানে ফেয়ারডিল উদ্ধার-গ্রেফতার ১

    শিবগঞ্জে ডিবির অভিযানে ফেয়ারডিল উদ্ধার-গ্রেফতার ১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ফেয়ারডিল উদ্ধার করেছে। এ সময় এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক মোঃ এমাদুল হকের তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) পলাশ চন্দ্র চৌধুরীর নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি পরিচালিত হয় শুক্রবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ দিকে শিবগঞ্জ থানাধীন মনাকষা ইউনিয়নের সাহাপাড়া বৈরাগীপাড়া গ্রামে। এ সময় অভিযুক্ত মোঃ আব্দুল মান্নান (৩০), পিতা- মৃত আলীম হোসেন ও কালুর দক্ষিণ বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ৬০ (ষাট) বোতল ফেয়ারডিল মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আব্দুল মান্নান সাহাপাড়া বৈরাগীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

  • সংসদীয় আসন (৯৩) নড়াইল-১ নির্বাচনী হালচাল

    সংসদীয় আসন (৯৩) নড়াইল-১ নির্বাচনী হালচাল

    সংসদীয় আসন (৯৩) নড়াইল-১ নির্বাচনী হালচাল

    নড়াইল-১ সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১৫ জন প্রার্থী। বাছাইকৃত পর্বে বৈধ হয়েছে তিনজন, স্থগিত দুইজন, বাতিল হয়েছে ১০ জন। পরবর্তী সময়ে স্থগিত বাতিল হয়ে ঘোষিত বৈধ প্রার্থী সংখ্যা হয়েছে ৫ জন। ১.আলহাজ্ব বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম (ধানের শীষ), ২. বিএম নাগিব হোসেন (কলস), ৩. জনাব ওবায়দুল্লাহ কায়সার (দাঁড়িপাল্লা), ৪. আব্দুর রহমান (রিক্সা), ৫. মোঃ মিল্টন মোল্লা (লাঙ্গল)। মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ১.কর্নেল (অব) সাজ্জাদ হোসেন, ২. এস এম সাজ্জাদ হোসেন, ৩. সুকেশ সাহা আনন্দ, ৪. আসজানুর রহমান মিঠু, ৫.আব্দুল আজিজ, ৬.উজ্জ্বল মোল্লা, ৭.গাজী মাহবুবুর রহমান ইমরান, ৮. সাকিব হাসান, ৯.গাজী খালেদ আশরাফ, ১০.মাহফুজা বেগম।

  • গোল্ডেন সান বৃত্তি পরীক্ষার সম্মাননা প্রদান

    গোল্ডেন সান বৃত্তি পরীক্ষার সম্মাননা প্রদান

    গোল্ডেন সান বৃত্তি পরীক্ষার সম্মাননা প্রদান

    সম্পূর্ণ বে-সরকারি ব্যবস্থাপনায় নার্সারী হতে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অত্যন্ত জনপ্রিয় আয়োজন গোল্ডেন সান বৃত্তি পরীক্ষা- ২০২৫ রাজশাহী মহানগরী সহ দুটি উপজেলার ৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষায় মোট ৯২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৯৬০ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। এর মধ্যে মহানগরীতে ৯২ জন, গোদাগাড়ী উপজেলায় ১৬ জন ও দূর্গাপুর উপজেলার ১৭ জন সহ মোট ১২৫ জন কৃতি বৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মাঝে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বৃত্তির অর্থ বিতরণী অনুষ্ঠান গতকাল ৩ জানুয়ারী শনিবার বিকাল ৪টায় মহানগরীর উপশহর মডেল মসজিদ প্রাঙ্গনে গোল্ডেন সান বৃত্তি প্রদান কমিটির চেয়ারম্যান দৈনিক সোনালী সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক মোঃ লিয়াকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বৃত্তির অর্থ আনুষ্ঠানিক ভাবে তুলে দেন রাজশাহী সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের কেন্দ্রিয় আইন বিষয়ক সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান, ফয়সাল গার্মেন্টস এর চেয়ারম্যান আরিফ আল মামুন ফারুকী। অনুষ্ঠান সঞ্চলনায় ছিলেন গোল্ডেন সান বৃত্তি প্রদান কমিটির মহাসচিব রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল আলম। মহানগরীর সর্বাধিক বৃত্তি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পুরস্কার অর্জন করে সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুল এন্ড কলেজ, গোদাগাড়ী উপজেলার সর্বাধিক বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পুরস্কার অর্জন করে মর্নিং স্টার সেমি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও দূর্গাপুর উপজেলার সর্বাধিক বৃত্তিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পুরস্কার অর্জন করে আলহাজ¦ মকবুল হোসেন ল্যাবরেটরী স্কুল। প্রতিষ্ঠানগুলির পক্ষ থেকে প্রধানগণ অতিথিদের নিকট থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

  • গোদাগাড়ীতে সমাজসেবার মানোন্নয়নে ব্যতিক্রমী ‘আত্ম-অনুসন্ধান’

    গোদাগাড়ীতে সমাজসেবার মানোন্নয়নে ব্যতিক্রমী ‘আত্ম-অনুসন্ধান’

    গোদাগাড়ীতে সমাজসেবার মানোন্নয়নে ব্যতিক্রমী ‘আত্ম-অনুসন্ধান’

    রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সমাজসেবার মানোন্নয়ন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সমতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এক ব্যতিক্রমী ‘আত্ম-অনুসন্ধান’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্য আত্ম-অনুসন্ধানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাজমুস সাদাত রত্ন। সভায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মানিক আত্ম-অনুসন্ধানী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “বর্তমান সমাজব্যবস্থায় সমাজসেবার ভূমিকা দিন দিন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে আমরা সমাজসেবা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে পারি।” তিনি সমাজের পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মীদের অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষ করে সেবাগ্রহীতাদের প্রতি যথাযথ দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং সেবার ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও উপস্থিত ছিলেন- প্রতিবন্ধী সভাপতি, নজরুল ইসলাম, সমাজ ও মানব কল্যাণ সংঘের মহাসচিব নুর আলম অহিদ, সেবারবাড়ি অর্গানাইজেশন সেক্রেটারি মোঃ ফারুক আহমেদ, ফিল্ড সুপারভাইজার, মোঃ মোজাহারুল ইসলাম, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, মোঃ মেহেদী হাসান, ইউনিয়ন সমাজকর্মী ইকবাল আহমেদ, মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোসাঃ উম্মে কুলসুম, মোসাঃ সেলিমা খানম, মোসাঃ চামেলী খাতুন এবং মোঃ আব্দুল জলিল, মিয়া প্রমূখ। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, মানবিক ও সময়োপযোগী করার বিষয়ে কর্মীরা নতুন দিকনির্দেশনা পেয়েছেন। সেবার মান বজায় রাখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করা হবে বলেও জানান তারা।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে জাতীয় পার্টির দুইজনসহ তিনজনের মনোনয়ন বাতিল-স্থগিত ১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে জাতীয় পার্টির দুইজনসহ তিনজনের মনোনয়ন বাতিল-স্থগিত ১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে জাতীয় পার্টির দুইজনসহ তিনজনের মনোনয়ন বাতিল-স্থগিত ১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনজন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল ও ইসলামী আন্দোলনের এক প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করেছে জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন মাসুদ। আজ শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পর্যয়ক্রমে মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এসময় সকল প্রার্থী ও তাদের প্রকিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ (শিবগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাঃ আফজাল হোসেন।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে একই দলের প্রার্থী মো. খুরশীদ আলম বাচ্চু ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), মো.ফজলুর রহমান। এদিকে হলফনামায় অসঙ্গতি তথ্য থাকায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩ আসনের একজন প্রার্থীর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া প্রার্থী হলেন- ইসলামী আন্দোলনের মো.মনিরুল ইসলাম। এরআগে তিনটি আসনে সব মিলিয়ে মোট ১৬ প্রার্থী মনোনয়ন পত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা হলেন ১২ জন।
    জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৭ লাখ ৮ হাজার ৮৭০ জন, পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ২০ হাজার ৭৮৯ জন এবং হিজড়া ০১ জন।

  • ‘প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন’ নিয়ে শঙ্কা ॥ প্রিজাইডিং নিয়োগ ঘিরে মুখোমুখি হারুন-বুলবুল

    ‘প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন’ নিয়ে শঙ্কা ॥ প্রিজাইডিং নিয়োগ ঘিরে মুখোমুখি হারুন-বুলবুল

    ‘প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচন’ নিয়ে শঙ্কা ॥ প্রিজাইডিং নিয়োগ ঘিরে মুখোমুখি হারুন-বুলবুল

     

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ‘প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ভিন্নমুখী বক্তব্য নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ।
    শনিবার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশীদ অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পছন্দের প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের তালিকা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হচ্ছে-এমন তথ্য তিনি শুনেছেন। বিষয়টি সত্য হলে তা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বড় অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
    হারুনুর রশীদ বলেন, “যারা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত-সে ব্যক্তি ডাক্তার, ব্যাংক কর্মকর্তা বা শিক্ষক যেই হোন না কেন-তাদের কোনো অবস্থাতেই প্রিজাইডিং বা সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত নয়। এমন হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”
    অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের সব প্রার্থীর সঙ্গে সমান আচরণ করতে হবে।

    বুলবুল বলেন, “কিছু বিষয় আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছি। সেগুলো আপাতত গণমাধ্যমে আনতে চাই না। আশা করছি, আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি ইতিবাচক হবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
    এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত প্রিজাইডিং বা সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তাঁর কাছে জমা পড়েনি।
    উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। ফলে নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে কৌতূহল ও প্রত্যাশা।

  • প্রথমবারের মতো নওগাঁর পুকুরে মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে গলদা চিংড়ি

    প্রথমবারের মতো নওগাঁর পুকুরে মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে গলদা চিংড়ি

    প্রথমবারের মতো নওগাঁর পুকুরে মিশ্র পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে গলদা চিংড়ি

    গলদা চিংড়ি মাছ মূলত খুলনা অঞ্চলে চাষ হওয়া মাছ। প্রথমবারের মতো নওগাঁর পুকুরে মিশ্র পদ্ধতি সেই গলদা চিংড়ি মাছের চাষ শুরু হয়েছে। নওগাঁর সদর উপজেলার শৈলগাছি ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের শিক্ষার্থী ও মাছ চাষী রাজু তার পুকুরে মিশ্র পদ্ধতিতে গলদা চিংড়ি মাছ চাষ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
    প্রতিদিনই আশেপাশের ছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাছ চাষীরা গলদার চাষ দেখতে রাজুর পুকুরে ভিড় করছেন। ইতোমধ্যে রাজুর দেখাদেখি ওই এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ৩০ থেকে ৪০ জন মাছ চাষী গলদা চিংড়ি চাষ শুরু করেছেন। রাজু সরদার দীর্ঘদিন ধরেই মিশ্র পদ্ধতিতে কার্প জাতীয় মাছ চাষের সঙ্গে যুক্ত। তবে প্রচলিত চাষে লাভ সীমিত হওয়ায় রাজুর মাথায় নতুন কিছু করার চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছিল। ঠিক সেই সময়, গত জুন মাসে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমীর কৃষি ইউনিটের মৎস্য খাতের আওতায় “উত্তম ব্যবস্থাপনায় গলদা চিংড়ি চাষ” শীর্ষক একটি প্রদর্শনীর সুযোগ আসে তার হাতে।
    প্রদর্শনীর আওতায় তাকে ৫০০ পিচ গলদা চিংড়ির জুভেনাইল (রেনু) সরবরাহ করা হয়। অনেকের কাছে বিষয়টি তখনও ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও রাজু সরদার থেমে থাকেনি। নিজের উদ্যোগে আরও ১ হাজার পিচ জুভেনাইল সংগ্রহ করে কার্প জাতীয় মাছের সঙ্গে সমন্বিত ভাবে গলদা চিংড়ি চাষ শুরু করেন।

    রাজু সরদারের পুকুরে নিয়মিত পানির গুণগত মান পরীক্ষা, সুষম খাদ্য সরবরাহ, পুকুরের তলদেশ পরিষ্কার রাখা-সবকিছুই চলে পরিকল্পিত ভাবে। তিনি জানান “গলদা চিংড়ি খুবই সংবেদনশীল। পানির মান ঠিক না থাকলে সমস্যা হয়। তাই নিয়মিত নজরদারি করেছি।” এই যত্নের ফল মিলতেও বেশি সময় লাগেনি। অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই গলদা চিংড়িগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে প্রতি কেজিতে ৭ থেকে ৮টি গলদা চিংড়ি পাওয়া যাচ্ছে-যা স্বাদু পানিতে চাষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সন্তোষজনক ফলাফল।
    রাজু সরদার আশাবাদী, তার পুকুর থেকে মোট ১২০ থেকে ১৩০ কেজি গলদা চিংড়ি উৎপাদন হবে। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজি গলদা চিংড়ির দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। সে হিসেবে মোট বাজার মূল্য দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কার্প মাছের পাশাপাশি গলদা চিংড়ি চাষ করায় একই পুকুর থেকে দ্বিগুণ লাভের সুযোগ তৈরি হয়েছে রাজুর। ঝুঁকি থাকলেও সঠিক ব্যবস্থাপনায় তা শতভাগ সম্ভব হয়েছে।
    স্থানীয় মাছ চাষী সাইফুল ইসলামসহ আরো অনেকেই জানান, এই অঞ্চলে গলদা চিংড়ি চাষ নিয়ে তাদের মধ্যে ভয় ও সংশয় ছিল। কেউ ভাবতেই পারেননি, খুলনা অঞ্চলের মাছ গলদা চিংড়ি নওগাঁর পুকুরে সফল ভাবে চাষ করা সম্ভব। রাজু সরদারের সাফল্য সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছে। তার পুকুর এখন যেন জীবন্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। রাজুর দেখাদেখি তারাও গলদা চিংড়ির চাষ শুরু করেছেন। বাজারে এই মাছের চাহিদা ও দাম ভালো হওয়ার কারণে বাজারকরণে কোন সমস্যা নেই। তাই আগামীতে তারা আরো বড় পরিসরে গলদা চিংড়ি মাছ চাষের কথা জানান।

    উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমীর কৃষি ইউনিটের মৎস্য কর্মকর্তা মো: শাহরিয়ার হোসেন জানান মৌসুমী প্রতিনিয়তই দেশের কৃষি ও মৎস্যখাতকে আধুনিকায়নে কাজ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় জেলার মাছচাষীদের অল্প পরিশ্রমে ও স্বল্প খরচের মধ্যে ভিন্ন জাতের মাছ চাষ করে লাভবান করতেই পরীক্ষামূলক ভাবে গলদা চিংড়ি চাষ প্রকল্প শুরু করা হয়েছে। মাছ চাষী রাজুর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জেলায় গলদা চিংড়ি চাষ শুরু করা হয়েছে। রাজুর দেখাদেখি অনেক মাছ চাষী বর্তমানে গলদা চাষে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। মিশ্র পদ্ধতিতে গলদা চাষ করায় রাজুসহ অনেক মাছ চাষীরা গলদা চাষ করে অনেক লাভবান হচ্ছেন। আগামীতেও এই ধরনের নিত্যনতুন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার কথা জানান এই কর্মকর্তা।
    সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো: বায়েজিদ আলম বলেন উত্তম ব্যবস্থাপনায় স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ নওগাঁর মৎস্য খাতে এক নতুন অধ্যায় যোগ করছে। মিশ্র পদ্ধতিতে এই মাছ চাষ করে সহজেই অল্প জায়গাতেও ভালো আয় করা সম্ভব। স্বাদু পানিতে গলদা চিংড়ি চাষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, বাড়বে মাছ উৎপাদন, শক্তিশালী হবে স্থানীয় অর্থনীতি। ভবিষ্যতে আগ্রহী মাছ চাষীদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করে জেলায় গলদা চিংড়ি চাষকে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প খাতে পরিণত করতে কাজ করার কথা জানান এই কর্মকর্তা।

  • সিটের নিচে লুকানো মাদক ॥ শিবগঞ্জ সীমান্তে জব্দ করেছে ৫৯ বিজিবি

    সিটের নিচে লুকানো মাদক ॥ শিবগঞ্জ সীমান্তে জব্দ করেছে ৫৯ বিজিবি

    সিটের নিচে লুকানো মাদক ॥ শিবগঞ্জ সীমান্তে জব্দ করেছে ৫৯ বিজিবি

     

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে মোটরসাইকেলের সিটের নিচে অভিনব কায়দায় মাদক পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। অভিযানে একটি মোটরসাইকেলসহ ৫৩ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ করা হয়েছে।
    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সোনামসজিদ বিওপি’র একটি চৌকস টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮৪/৪-এস থেকে প্রায় ৭০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বাটুলপাড়া গ্রামে অবস্থান নেয়। এ সময় চকপাড়া থেকে বাটুলপাড়া হয়ে সোনাপুর বারিকবাজারের দিকে যাওয়ার পথে একটি মোটরসাইকেলে থাকা দুইজন আরোহী বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলটি ফেলে আমবাগানের ভেতর দিয়ে পালিয়ে যায়।
    পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা মোটরসাইকেলটি তল্লাশি করে সিটের নিচে বিশেষভাবে লুকানো ৩০ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় Eskuf DX সিরাপ এবং ২৩ বোতল ফেন্সিডিলের বিকল্প Choco+ সিরাপ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত মাদক ও মোটরসাইকেল জব্দ করে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
    এ বিষয়ে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,
    “চোরাকারবারীরা মাদক পাচারে যতই নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, সীমান্তে সকল প্রকার মাদক চোরাচালান ও চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে বিজিবির অভিযান ও প্রতিরোধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
    বিজিবির এ সফল অভিযানে সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে তাদের তৎপরতা আরও একবার প্রমাণিত হলো।

  • অনিশ্চয়তায় কৃষকের স্বপ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোরো মৌসুমের শুরুতেই দুশ্চিন্তার ছায়া

    অনিশ্চয়তায় কৃষকের স্বপ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোরো মৌসুমের শুরুতেই দুশ্চিন্তার ছায়া

    কুয়াশার চাদরে ঢাকা বীজতলা

    অনিশ্চয়তায় কৃষকের স্বপ্ন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোরো মৌসুমের শুরুতেই দুশ্চিন্তার ছায়া

    ভোরের আলো ফোটার আগেই মাঠে নেমে পড়েন কৃষক আব্দুল মালেক। প্রতিদিনের মতোই আজও তাঁর প্রথম কাজ বীজতলার দিকে তাকানো। কিন্তু সবুজ চারা দেখে স্বস্তি পাওয়ার বদলে বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠে। কুয়াশার ভেজা ছোঁয়ায় চারা যেন প্রাণহীন-কোথাও হলদে, কোথাও আবার সাদা হয়ে গেছে। মালেকের কণ্ঠে হতাশা, “এই চারা বাঁচলে বাঁচবো আমরা, না বাঁচলে কী করবো?”
    চাপাইনবাবগঞ্জজুড়ে এমন দৃশ্য এখন নিত্যদিনের। টানা ঘন কুয়াশা জেলার বোরো ধানের বীজতলাগুলোকে ঢেকে ফেলেছে অনিশ্চয়তার চাদরে। মাঠে মাঠে কৃষকের চোখে উৎকণ্ঠা, মুখে নিরব হিসাব—আর কতটা ক্ষতি হলে তারা সামাল দিতে পারবেন?
    জেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৮৪ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর জন্য ইতোমধ্যে ৮ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু কুয়াশার প্রভাবে এসব বীজতলার বড় অংশই ঝুঁকিতে পড়েছে।
    সদর উপজেলার কৃষক আমিনুল ইসলামের কণ্ঠে চাপা ক্ষোভ, “সার, বীজ, শ্রম-সব মিলিয়ে যা খরচ হয়েছে, সেটা উঠে আসবে কি না জানি না। নিজের চারা নষ্ট হলে বাইরে থেকে কিনতে হবে। তখন ঋণ ছাড়া উপায় থাকবে না।”
    তার চোখে-মুখে স্পষ্ট একটাই ভয়-ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে ওঠা।
    শিবগঞ্জের মাঠে দেখা যায় আরেক কৃষক তাজুল ইসলামকে। বীজতলার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “সময়মতো চারা না পেলে জমিতে রোপণ পিছিয়ে যাবে। বোরো দেরি হলে ফলনও কমে যায়। আমরা প্রকৃতির হাতে বন্দি।”
    কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দিচ্ছেন-অতিরিক্ত পানি না রাখা, কুয়াশার সময় যত্ন বাড়ানো। তবু কৃষকেরা জানেন, সবকিছুর ঊর্ধ্বে প্রকৃতির ইচ্ছাই শেষ কথা।
    ঘন কুয়াশার এই দিনগুলো শুধু আবহাওয়ার সংকট নয়, এটি গ্রামবাংলার হাজারো পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কার নাম। যে বীজতলায় আজ চারা কাঁপছে, সেখানেই লুকিয়ে আছে কৃষকের এক বছরের আশা, সন্তানের পড়াশোনা, সংসারের ভরসা।
    কুয়াশা একদিন কেটে যাবে-এই আশাতেই আজও ভোরে মাঠে নামেন চাপাইনবাবগঞ্জের কৃষকরা। তারা জানেন, মাটির সঙ্গে লড়াই করাই তাদের নিয়তি, আর সেই লড়াইয়ে হার মানার সুযোগ নেই।