ঢাকায় আইটি ব্যবসা
ভোলাহাটে আধুনিক খামার-আমিষ ও কর্মসংস্থানে অনন্য দৃষ্টান্ত প্রকৌশলী সুমন
ঢাকার আইটি ব্যবসার ব্যস্ততার মাঝেও শিকড়ের টানে গ্রামে ফিরে এক অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন প্রকৌশলী আফসার উজ্জামান সুমন। আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবসার পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় গড়ে তুলেছেন বিশাল আকারের গবাদিপশু ও পোল্ট্রি খামার, যা এখন স্থানীয় আমিষ উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ভরসা।
ভোলাহাট উপজেলার ইমামনগর গ্রামের মৃত আব্দুল হান্নানের ছেলে প্রকৌশলী সুমন ঢাকায় একটি আইটি ফার্ম পরিচালনা করলেও নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘জামান এগ্রো ফার্ম’। এক সময় মাত্র ৭টি গাভী দিয়ে যাত্রা শুরু করা এই খামারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০টি গরু রয়েছে। সর্বোচ্চ সময়ে খামারে ৭৫টি পর্যন্ত গরু পালন করা হয়েছে। খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ কেজি দুধ উৎপাদন হচ্ছে। সেই দুধ আধুনিক উপায়ে প্যাকেটজাত করে ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত করা হচ্ছে। গরুর খামারের পাশাপাশি ডিম উৎপাদনের জন্য দুইটি বিশাল টিনশেডে বিদেশি জাতের মুরগির খামারও গড়ে তুলেছেন তিনি। খামারের পরিচালক প্রকৌশলী আফসার উজ্জামান সুমন বলেন, “দেশে আমিষের ঘাটতি পূরণ এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য। আমি বিশ্বাস করি—সঠিক পরিকল্পনা থাকলে গ্রাম থেকেই বড় কিছু করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তা পেলে আমার এই ফার্মকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারিত পর্যায়ে নেওয়া যাবে।” বর্তমানে এই খামারে সরাসরি ৯ জন কর্মচারী কাজ করছেন, যা এলাকার বেকারত্ব নিরসনে ভূমিকা রাখছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোঃ শাহজালাল বলেন,
“জামান এগ্রো ফার্ম পরিদর্শন করা হয়েছে। এই খামারের মাধ্যমে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে ভোলাহাট এলাকায় দুধ, মাংস ও ডিমের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সবসময় তার পাশে থাকবে।” গ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে আধুনিক উদ্যোগ, প্রযুক্তি ও পরিশ্রমের সমন্বয়ে প্রকৌশলী সুমনের এই খামার আজ ভোলাহাটের অনুপ্রেরণার প্রতীক। তার সফলতা প্রমাণ করে, গ্রামে বিনিয়োগ মানেই পিছিয়ে থাকা নয় বরং টেকসই উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি।





