Blog

  • নড়াইলে ভিডব্লিউবি কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ॥ স্ত্রীও খাচ্ছেন দুঃস্থদের চাল

    নড়াইলে ভিডব্লিউবি কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ॥ স্ত্রীও খাচ্ছেন দুঃস্থদের চাল

    নড়াইলের কালিয়ায় ভিডব্লিউবি কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুঃস্থদের কার্ড না দিয়ে ওই কার্ড অর্থের বিনিময়ে পেয়েছেন সুস্থরা। খাশিয়াল ইউনিয়নে মোট ১৭০ জন ভিডব্লিউবি কার্ড ধারীদের মধ্যে ইউপি সদস্যের স্ত্রী, প্রবাসীর স্ত্রীসহ সরকারি চাকুরীজীবিদের নাম রয়েছে। আর এগুলো হয়েছে আত্মীয়করন, স্বজনপ্রীতি ও বিনিময়ের মাধ্যমে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য। খাশিয়াল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড শুড়িগাতী গ্রামের মেয়ে সরকারি নার্স শশুর বাড়ী বাগেরহাটে থেকেও কার্ড পেয়েছে, আর তারই একমাত্র সৌদি প্রবাসী ভাই এর স্ত্রীর নামেও হয়েছে ভিডব্লিউবি কার্ড। বসবাস করেন ডুপ্লেক্স বাড়ীতে। এ বিষয়ে ১ নং ওয়ার্ড সদস্য খান ওবায়দুরের সাথে কথা হলে বললে, তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। চেয়ারম্যান এর সুপারিশে এসব হয়েছে। ০২ নং ওয়ার্ড সদস্য মিন্টু কুমার দাশ তার স্ত্রী টুকটুকি দাশের নামে করে নিয়েছেন ভিডব্লিউবির কার্ড। এর আগেও ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে টিসিবির কার্ড কেলেংকারী, রাস্তা নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মিন্টু কুমার দাশের সাথে কথা হলে, ভুল স্বীকার করে নিউজ না করার অনুরোধ করেন। ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার চায়না বেগমকে ৫ হাজার টাকা না দিলে কার্ড হয়না। চোরখালী আশ্রয়ন প্রকল্পের জনৈক মহিলা ওই মহিলা মেম্বারকে ভিডব্লিউবি কার্ডের জন্য ২ হাজার দিয়ে হাতে পায়ে ধরলেও টাকাটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে ৫ হাজারের কম হলে হবেনা বলে চলে যান। তবে চায়না বেগম টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। বঞ্চিত দুঃস্থ পরিবারগুলো জানায়, সারা ইউনিয়নের চিত্র এমনই। টাকা নেই, তো কার্ড নেই। দুঃস্থদের টাকা নেই, তাই কার্ড পায়না, আর টাকাওয়ালারা ওই স্থান পুরন করে দুঃস্থদের করছে আরো নিঃস্ব। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সচেতন মহলের দাবি, সঠিক তদারকির মাধ্যমে ভিডব্লিউবি কার্ডসহ অন্যান্য ভাতার কার্ড যেন দুঃস্থরা পায়। এ বিষয়ে খাশিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএম বরকত উল্লাহ কাছে জানতে চাইলে, তিনি কোন বক্তব্য দিবেন না বলে জানিয়ে অপরাধীর বক্তব্য নিতে বলেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কেয়া দাশ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি সতর্কতা

    অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি সতর্কতা

    অগ্নিদুর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। দেশজুড়ে সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মাঠপর্যায়ের শিক্ষা অফিসগুলোতে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। রোববার (১৯ অক্টোবর) অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার সহকারী পরিচালক মো. খালিদ হোসেন এ নির্দেশনায় সই করেছেন। এতে বলা হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব অধিদপ্তর, দপ্তর, অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়ার আগে নিজ নিজ রুমের সব বৈদ্যুতিক সুইচ, লাইট, ফ্যান ও কম্পিউটার বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি এসির প্লাগ খুলে রাখা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নোটিশে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অফিস ত্যাগের আগে এসব বিষয় যাচাই করে সতর্কতামূলক ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানানো হয়। এটি সরকারি-বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক, কলেজের অধ্যক্ষ, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস ও মাউশির সব আঞ্চলিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, সম্প্রতি দেশে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর এ উদ্যোগ নিয়েছে অধিদপ্তর। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মিরপুরের শিয়ালবাড়ির রাসায়নিকের গুদামে আগুনে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া, চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকার একটি তোয়ালে কারখানায় লাগা আগুন প্রায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। আর সবশেষে গত ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো সেকশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

  • ৫ দফা দাবীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএফএ’র ডিলারদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

    ৫ দফা দাবীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএফএ’র ডিলারদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

    ৫ দফা দাবীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএফএ’র ডিলারদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

    বর্তমানের সার নীতিমালা বহাল রাখাসহ ৫ দফা দাবীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বিএফএ’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিটের সদস্যরা। ‘ডিলারদের অধিকার রক্ষা করো-পূর্বের ন্যায় নীতিমালা বহাল রাখো’ শ্লোগানে রবিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে জেলার সার ডিলাররা। ‘ডিলার বাঁচলে কৃষক বাঁচবে-সার নীতিমালা বহাল রাখবে প্রতিপাদ্যে ঘন্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ)’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিটের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ আকবর হোসেন। আরও বক্তব্য রাখেন বিএফএ’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হাকিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী মোঃ সেতাউর রহমানসহ অন্যরা। উপস্থিত ছিলেন বিএফএ’র জেলা সহ-সভাপতি দানিউল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম,

    প্রচার সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেনসহ জেলা ইউনিটের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। বিএফএ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিটের দাবীগুলো হচ্ছে, খুচরা সার বিক্রেতা বহাল রাখা, চাহিদা মোতাবেক সার বরাদ্দ দেয়া, ডিলারদের পরিবহন খরচ ও কমিশন বৃদ্ধি, সরকারের দেয়া ভর্তূকি মুল্যে কৃষক পর্যায়ে সার বিক্রয় করা, ইউনিয়ন ভিত্তিক ৩জন করে সার ডিলার না করা, সারের উপর কোন ভাবেই ৫% উৎস কর নির্ধারণ না করাসহ আরও বিভিন্ন দাবী। মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সামাদের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ)’র চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।
    মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নতুন নীতিমালা কৃষকের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলবে।

    নতুন নীতিমালার ফলে প্রান্তিক কৃষকরা সহজে সার সংগ্রহ করতে পারবেন না এবং কৃষিকাজে সমস্যা সৃষ্টি হবে। বক্তারা বলেন, সরকার সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণসংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০০৯’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত নীতিমালা বাস্তবায়িত হলে কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছানো সম্ভব হবে না বরং কৃষকদের জমি বা বাড়ি থেকে দূরে গিয়ে সার কিনতে হবে, যা তাদের জন্য সময় সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য হবে। বর্তমানে খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে হাতের কাছে সার সংগ্রহ করতে পারছেন। কিন্তু নতুন নীতিমালায় ডিলার ছাড়া অন্য কোনো খুচরা বিক্রেতা রাখার সুযোগ থাকবে না।

    এতে বিশেষ করে প্রান্তিক চাষীরা বিপাকে পড়বেন। তাঁরা আরও বলেন, সরকার আলোচনা না করে, হঠাৎ করে নীতিমালা পরিবর্তন করলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ বিসিআইসি সার ডিলারগণ সুনামের সহিত কৃষক পর্যায়ে সার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমে ও নিরবিচ্ছিন্ন সেবা দানের মাধ্যমে কৃষকের ফসল উৎপাদন বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। বক্তারা মানববন্ধনে বলেন, বিসিআইসি ও বিএডিসি কোন বিভাজনে যেতে চাই না। সরকারের নীতিমালার আলোকে সুষ্ঠ সার সরবরাহের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে সার বিতরণের প্রক্রিয়া কার্যকর করা হোক। এক্ষেত্রে সার ডিলার নীতিমালা-২০০৯ এর আলোকে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫ এ প্রয়োজনীয় সংশোধন করা যেতে পারে।

  • শিশিরভেজা ঘাসে ভোরের মায়া!

    শিশিরভেজা ঘাসে ভোরের মায়া!

    শিশিরভেজা ঘাসে ভোরের মায়া!

    ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ছড়ায়নি। পূর্ব দিগন্তে সূর্যের লাল আভা মিশে আছে হালকা কুয়াশার পর্দায়। প্রকৃতি যেন নিজের হাতে তৈরি করছে নতুন দিনের ছবি। মাঠে মাঠে ছড়িয়ে আছে শিশিরভেজা ঘাস, সবুজ গালিচার উপর মুক্তোর মতো ঝলমল করছে প্রতিটি বিন্দু।
    ঘাসের উপর পা রাখলে যে শীতলতা শরীরে লাগে, তা শুধু ঠান্ডা নয়—এ যেন এক নির্মল স্নিগ্ধতা, মনকে ছুঁয়ে যাওয়া এক পবিত্র অনুভব। ভোরের এমন মুহূর্তে মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত ক্লান্তি, সমস্ত ভার যেন মুছে যায়, প্রকৃতির এই কোমল স্পর্শে।
    গ্রামীণ প্রভাতের দৃশ্য তখন এক অনন্য সিম্ফনি। দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসে ফজরের আজান, কোথাও মুরগির ডাকে সাড়া দেয় গৃহস্থের উঠান। কেউ হাঁটতে বেরিয়েছে, কারও হাতে কলস—পুকুরপাড়ে পানি তুলবে বলে। তাদের পায়ের নিচে কচমচ করে ওঠে শিশিরভেজা ঘাস, আর সূর্যের প্রথম আলোয় ঝিকমিক করে ওঠে মুক্তোর মতো বিন্দুগুলো। প্রকৃতির এই নীরব সকাল যেন এক নিঃশব্দ কবিতা, যেখানে শব্দের প্রয়োজন নেই, শুধু অনুভব করলেই হয়। বাতাসে ভেসে আসে ঘাস ও মাটির মিষ্টি গন্ধ। সেই গন্ধে মিশে থাকে সজীবতার বার্তা, যা সারাদিনের ব্যস্ত জীবনেও এক মুহূর্তের প্রশান্তি এনে দেয়।
    ভোরের হালকা শীতে শরীর কাঁপে, কিন্তু মন উষ্ণ হয় প্রকৃতির সান্নিধ্যে। মনে হয়, জীবনের যত জটিলতাই থাক, শিশিরভেজা একটুকরো সকাল তার সব ভার হালকা করে দেয়।
    সূর্য যখন ধীরে ধীরে মাথা তোলে, শিশিরবিন্দুগুলো মিলিয়ে যায় আলোতে। কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া ঠান্ডা অনুভূতি, নির্মলতা আর সতেজতা থেকে যায় সারাদিনের ব্যস্ত জীবনে।
    শিশিরভেজা ঘাসের ভোর তাই শুধু প্রকৃতির নয়, এ এক শান্তির প্রতীক, এক নিঃশব্দ কবিতা, যা প্রতিদিনের জীবনে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা জোগায়।

  • সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার

    সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার

    সরকারের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) নির্ধারণের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে শিক্ষকদের ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল (সিআর) আবরার। তবে, শিক্ষকরা এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে অনশনসহ তাদের চলমান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (১৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় সবসময় শিক্ষকদের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাড়িভাড়া ভাতা সংক্রান্ত এই অগ্রগতি হয়েছে। আমরা মনে করি, শিক্ষক সমাজের আরও বেশি প্রাপ্য। কিন্তু বর্তমান সীমাবদ্ধতার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এবং এর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শিক্ষকদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান ও চেষ্টা করেছি। এই অবস্থায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে ক্লাসে ফিরে যাওয়া উচিত। অর্থ মন্ত্রণালয় রোববার এক আদেশে জানিয়েছে, বর্তমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আদেশ আগামী নভেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে।
    তবে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এই সিদ্ধান্তকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বাড়িভাড়া ভাতার হার বৃদ্ধির দাবিতে আমরণ অনশনসহ তাদের চলমান আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার আবারও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা উচিত। সরকার তাদের দাবি পূরণে সাধ্যমতো চেষ্টা করছে।

  • ভালুকায় সিডস্টোর-সখীপুর সড়কে খানাখন্দ ॥ ২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প রসাতলে

    ভালুকায় সিডস্টোর-সখীপুর সড়কে খানাখন্দ ॥ ২৪ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প রসাতলে

    ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার শহীদ সমশের রোড (সিডস্টোর-সখীপুর সড়ক) এখন খানা-খন্দে ভরা। ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সড়কের উন্নয়ন কাজের তিন বছর না যেতেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে দুর্ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। এতে বিকল হচ্ছে যানবাহন, আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনসাধারণের। জানা গেছে, ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের প্রায় ১৩.৭ কিলোমিটার অংশে উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু নির্মাণে নানা অনিয়ম ও নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে শুরু থেকেই। মাত্র দুই বছরের মাথায় রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত, যার কারণে এখন প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। ভালুকার সিডস্টোর থেকে সখীপুর পর্যন্ত এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো পণ্যবাহী ট্রাক, শ্রমিকবাহী বাস, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বাটাজোড় মিলপাড়, আরএমটি জুট মিল ও চাঙেরপাড় এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়িচালকরা জানান, উন্নয়ন কাজের সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির অভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। এতে একদিকে যেমন যান চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়েছে। স্থানীয় এক গাড়িচালক বলেন,“রাস্তায় এত গর্ত যে গাড়ি চালানোই কষ্টকর। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, তখন বোঝাই যায় না কোথায় গর্ত।” আরও একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “২৪ কোটি টাকার কাজ হলো, কিন্তু এখন রাস্তার অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ। দ্রুত সংস্কার না হলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে।” এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভালুকা উপজেলা প্রকৌশলী মো: মাফুজুর রহমান বলেন, বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুতই জনগণের ভোগান্তি দূর করতে ওই সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু করা হবে।

  • নওগাঁয় ইলা মিত্রের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষক আদিবাসী ও নারী সমাবেশ

    নওগাঁয় ইলা মিত্রের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কৃষক আদিবাসী ও নারী সমাবেশ

    নওগাঁয় কৃষক আদিবাসী ও নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেভাগা আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী নাচোলের রাণীমা ইলা মিত্রের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম এবং সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট এই সমাবেশের আয়োজন করে। শনিবার বিকেলে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন মুক্তমঞ্চে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসুদের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা কমরেড খালিদুজ্জামান সমাবেশের উদ্বোধন করেন। সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের নওগাঁ জেলা সমন্বয়ক এই জয়নাল আবেদীন মুকুলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আলোচনা করেন সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ ওয়াজেদ পারভেজ, খেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দিলরুবা নূরী, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ডাঃ মনীষা চক্রবর্তীসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। আলোচকবৃন্দ বলেন, কমরেড ইলামিত্র নারীদের একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের জন্য আত্মত্যাগ করে গেছেন। তাঁরা বলেছেন বর্তমানে বাংলাদেশে কৃষকরা ভালো নেই শ্রমিকরা ভালো নেই আদিবাসীরা ভালো নেই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের মত বর্তমান অন্তঃবর্তী সরকারের সময়েও এদেশে কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ শোষিত হচ্ছে। নারী নির্যাতিত হচ্ছে। সমাবেশে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, দিনাজপুর জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

  • অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও শিক্ষায় গবেষণায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

    অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও শিক্ষায় গবেষণায় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

    শিক্ষা, গবেষণা ও সৃজনশীলতার ধারাবাহিক বিকাশে যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম তরুণ শিক্ষক ও লেখক তৌফিক সুলতান। একাধারে তিনি শিক্ষক, গবেষক ও লেখক—তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ যেন শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নের সোপান গড়ে দিচ্ছে। সম্প্রতি তিনি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ‘শিক্ষায় গবেষণা (Research in Education)’ এবং ‘অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স অন ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম’। এই প্রশিক্ষণগুলো তাঁর পেশাগত দক্ষতা ও মননশীলতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। শিক্ষায় গবেষণার গুরুত্ব ও তাঁর অর্জন
    শিক্ষা হলো মানুষের চিন্তাশক্তি বিকাশের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু এই শিক্ষা যদি গবেষণাভিত্তিক না হয়, তবে তা কেবল তথ্যের ভাণ্ডার হয়ে থাকে। এই উপলব্ধি থেকেই তৌফিক সুলতান “শিক্ষায় গবেষণা (Research in Education)” কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। কোর্সটিতে শিক্ষাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণাপদ্ধতি, তথ্য বিশ্লেষণ, গবেষণার নৈতিকতা এবং শিক্ষানীতি বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া হয় একটি সনদ, যা গবেষণাক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি বহন করে। এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে তৌফিক সুলতান গবেষণামূলক শিক্ষা ও তথ্যনির্ভর পাঠদানের নতুন ধারণা অর্জন করেছেন। তাঁর মতে, “একজন শিক্ষক যদি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তিনি কেবল পাঠদান নয়, শিক্ষার্থীর চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার পথে এক নতুন যাত্রা। অন্যদিকে, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (চওই), তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত “অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স অন ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম”-এ অংশ নিয়ে তিনি সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা—অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বিষয়ে গভীর জ্ঞান অর্জন করেছেন।
    এই কোর্সটি মূলত সাংবাদিকদের জন্য প্রণীত, যাতে তারা অনুসন্ধানী বিটে কাজ করতে প্রয়োজনীয় কৌশল ও তথ্য আহরণের পদ্ধতি আয়ত্ত করতে পারেন। কোর্সটিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ইতিহাস, ধরণ, প্রতিবেদন তৈরির ধাপ, উৎস যাচাই, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এই প্রশিক্ষণ তৌফিক সুলতানের জ্ঞানভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর মতে, “অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শুধু খবর প্রকাশ নয়, এটি সত্য অনুসন্ধানের এক কঠিন কিন্তু মহৎ যাত্রা—যেখানে নৈতিকতা, সততা ও প্রমাণই প্রধান শক্তি।

  • রাজধানীতে কেন এরা পথশিশু?

    রাজধানীতে কেন এরা পথশিশু?

    রাজধানীতে কেন এরা পথশিশু?

    রাজধানীর হাইকোর্ট মাজারের আশেপাশে প্রেসক্লাব, পুরানা পল্টন, পুরানা পল্টন মোড় থেকে নাইটেঙ্গেল মোড়, গুলিস্তান, রাজউকের সামনে রোডে, ঢাকা ইউনিভার্সিটি, শাহবাগ মোড়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ফার্মগেট, মিরপুর মাজার সহ আশেপাশের এলাকায়, গুলিস্তান, গোলাপসা মাজার, মৌচাক মার্কেট, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন রেলগেট, সদরঘাট, সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ড, মহাখালী বাস স্ট্যান্ড, হাতিরঝিল, গুলশান বনানী ধানমন্ডির কিছু এলাকা, গাবতলী বাস স্ট্যান্ড সহ সারা ঢাকা শহরের কিছু কিছু জায়গাতে পথশিশু নামক একদল মাদকাসক্ত মানুষকে দেখা যায়। তারা ড্যান্ডি নামক একটি নেশা খায়, যেটি আসলে চামড়ার জুতা বানানোর একটি সলিউশন আঠা, এটি তারা পলিথিনের ভিতর নিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আসক্ত হতে থাকে এবং আসক্ত হওয়ার ২-৩ ঘণ্টা পর্যন্ত তারা অচেতন হয়ে পড়ে থাকে। দুঃখের বিষয় হলো, এখানে শুধু পথশিশু বলাটা ঠিক হবে না কারণ, এই গ্রুপের ভিতরে শুধু যে শিশুর রয়েছে, তা নয় এখানে শিশু বালক যুবক বৃদ্ধ এমনকি শিশু, যুবতী ও মধ্যবয়স্ক নারীরা রয়েছেন। এরা দিনের বেলা একত্রিত হয়ে একটি জায়গাতে নেশাগ্রস্থ অবস্থায় বসে ও শুয়ে থাকেন।  রাত বারোটার পরেই দেখা যায় ঢাকা শহরের এই ব্যস্ততম রোডের মাঝখানের যে ডিভাইডার রয়েছে সেখানে এস এস এর রেলিং এর উপর অথবা ফ্লাইওভারের নিচে পলিথিন ও বিভিন্ন রকমের কাপড় চোপড় দিয়ে রাত্রি যাপন করার জন্য ছোট ছোট তাবু তৈরি করে ফেলেন। সেখানে তারা রাত্রি যাপন করেন। তারা যে শুধু ড্যান্ডি খায় তা নয়, এখানে দেখা যায় দিনের বেলা ওপেনে গাঁজা তৈরি করা হচ্ছে এবং হয়তো আরো অনেক ধরনের নেশা তারা গ্রহণ করে থাকেন, কথা হল তারা তো পথে থাকে,

    তারা এই ড্যান্ডি সহ অন্য নেশা ক্রয়ের অর্থ কোথা থেকে পায়। তাহলে বলাই যায় ছিনতাই সহ নানাবিধ অপকর্মের সাথে তারা জড়িত। আরেকটি ভয়ংকর ব্যাপার হলো যেমন পল্টন মোড়ের গ্রুপ অন্য মোরে অন্য গ্রুপের জায়গায় যেতে পারবে না, যার যার গলি বা জায়গাতে তাদেরকে থাকতে হবে একজন আরেকজনের জায়গাতে গেলেই তাদের ভিতরে গ্যাঞ্জাম লেগে যায়। ইদানিং কালে অনেক মিডিয়া ও পেপার পত্রিকায় এসেছে যাত্রাবাড়ীতে সহ অন্যান্য ব্যস্ততম সড়কে গাড়ি থেকে থাবা দিয়ে হাতের মোবাইল নিয়ে চলে যায়, তারা ঘোরাঘুরি করতে থাকে সুযোগ বুঝেই মোবাইল ছিনতায়ের এই কাজটি করে। দুঃখের বিষয় হলো সংশ্লিষ্টরা এটিকে দেখতে দেখতে যেন তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। আমার প্রশ্ন হল? কার দায়িত্ব এদেরকে সংস্কার করা। এরা যেভাবে রাস্তায় ব্যস্ততম সড়ক গুলিতে বিশৃঙ্খল ভাবে বিচরণ করছে তাতে সাধারণ মানুষের পথচলা প্রায় অনেক সময় বিঘ্ন ঘটে। আরেকটি দুঃখের বিষয় হলো ব্যাংক পাড়া প্রেসক্লাব এবং বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে থ্রি স্টার ফোর স্টার হোটেল গুলির সামনে এদেরকে দেখা যায়, সেখানে যখন বিদেশী বা বিভিন্ন ধরনের ডেলিগেটরা আসা-যাওয়া করেন তাদের চোখে এটি পড়ে, কিন্তু সংশ্লিষ্টদের চোখে কেন পড়ছে না। তাদেরকে দেখা যায় বিভিন্ন লোকের কাছে খাবারও টাকা পয়সা চাইছে সেখানে তাদেরকে না দেওয়া হলে তারা তাদের সাথে উদ্ভট আচরণ করেন। মজার ব্যাপার হল আমি ব্যক্তিগতভাবে এই পথশিশু নামক লোক গুলির সাথে কথা বলেছি তাদের ইতিহাস শুনলে গা শিউরে উঠবে। তাদের কারো মা নেই বাবা ও নেই আবার কারো মা আছে অথবা বাবা আছে অথবা মা-বাবা দুজনই আছে বাবা হয়তো দুটি একটি বিয়ে করেছে মা ও দুই একটি বিয়ে করেছে, আবার অনেকের মা-বাবাকে কোথায় আছে তা তারা জানে না তারা কিভাবে এখানে এসেছে তাও তারা জানে না। এবং তাদের মুখের ভাষ্য তাদের মধ্য দিয়েই পথ শিশু তৈরি হচ্ছে।আবার অনেকে বিভিন্ন মহল্লাতে ছিনতাই চুরি সহ বিভিন্ন অপকর্মের কাজের সংশ্লিষ্ট হওয়ায় মহল্লাবাসীর চোখের আড়াল হয়ে এই গ্রুপের সাথে একতাবদ্ধ হয়ে থাকছেন। দেখলে এমনটি মনে হয় যেন তাদেরকে যদি সংস্কার করা হয় তাহলে কেউ বাধা দিবে অথবা তাদের সংস্কার করে কি হবে এটি ভেবেও সংশ্লিষ্টরা চোখ এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাদেরকে নিয়ে অবশ্যই সরকারের পরিকল্পনা করা উচিত কিভাবে এটিকে নিরসন করা যায়। তারা হয়তো এভাবে একদিন চলতে চলতে বড় ধরনের একটি গ্রুপে তৈরি হবে তখন তাদেরকে এখান থেকে সরানোটা মুশকিল হতে পারে। তাদেরকে বোঝা মনে করলে হবে না কারণ তারা আল্লাহর তৈরি মানুষ তাদের পিছনে প্রত্যেকের একটি করে ইতিহাস আছে।

    তাদের কারণে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে আনুমানিক হিসাব করে দেখা গেছে প্রায় দশ হাজারের উপরেও তাদের সংখ্যা তারা যে পায়খানা প্রস্রাব সহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা আবর্জনা ফেলে আমাদের প্রাণকেন্দ্র রাজধানীর এই ব্যস্ততম জায়গাগুলোকে নোংরা করে রেখেছে, তাদের এই বিচরণের জায়গায় বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ময়লা সামগ্রী দেখা যায়। একটি দেশের রাজধানীতে ব্যস্ততম সড়ক গুলিতে এরকমের নেশাগ্রস্ত মানুষ বিচরণ করাটা খুবই দুঃখের বিষয়। আসুন আমরা সবাই মিলে এ ব্যাপারে সচেতন হই।কিছুদিন আগে বিশ্ব ধূমপানমুক্ত পরিষদ নামক একটি সংগঠন তাদেরকে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করেছে এবং এই সংগঠনটি, নেশাগ্রস্থ হওয়ার প্রথম ধাপ বা চাবি ধূমপানের বিরুদ্ধে, ধূমপায়ী ব্যক্তিদের কে সচেতন করার লক্ষ্যে ও ঢাকা শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিভিন্ন রকমের জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে। আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের এই রাজধানী ঢাকাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখি। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ব্যাপারটি নজরে আনার জন্য এবং অতি দ্রুত সুন্দর একটি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

  • হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে দেড় কোটি টাকার চোরাচালানসহ ট্রাক জব্দ

    হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে দেড় কোটি টাকার চোরাচালানসহ ট্রাক জব্দ

    হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে দেড় কোটি টাকার চোরাচালানসহ ট্রাক জব্দ

    হবিগঞ্জের ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সীমান্তে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালান পণ্য ও একটি ট্রাক জব্দ করেছে। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৭ অক্টোবর ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল মাধবপুর উপজেলার সীমান্ত থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার ভেতরে জগদীশপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে একটি সন্দেহজনক ট্রাক তল্লাশি করে মাছের খাবার ও সারের বস্তার আড়ালে লুকানো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা জব্দ করা হয়। ট্রাকসহ জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। জব্দ পণ্য ও ট্রাকটি নিয়ম অনুযায়ী হবিগঞ্জ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
    পরদিন, ১৮ অক্টোবর ব্যাটালিয়নের আরেকটি বিশেষ টহল দল মাধবপুর উপজেলার সাতছড়ি-চুনারুঘাট রোড এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কাশ্মীরি শাল, শাড়ি, থ্রি-পিস, জিরা ও ফুচকা জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের সিজার মূল্য আনুমানিক ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এসব পণ্য কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
    মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানের বিষয়ে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, “বিজিবি নিরলসভাবে দেশের সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে। চোরাচালান ও মাদক নির্মূলে আমাদের কঠোর পদক্ষেপ শুধু অপরাধীদেরই রুখে দিচ্ছে না, বরং জনগণের মাঝেও স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে। প্রতিটি অভিযান দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” বিজিবি জানায়, চোরাচালানী চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছে বিজিবি।