Blog

  • গাইবান্ধার পৃথক ৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী সহ ৮ জন নিহত

    গাইবান্ধার পৃথক ৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী সহ ৮ জন নিহত

    গাইবান্ধার পৃথক ৪ টি সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী সহ ৮ জন নিহত

    গাইবান্ধার পৃথক ৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোটর সাইকেল আরোহী স্বামী-স্ত্রী সহ ৮জন নিহত হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলার পলাশবাড়ী-গাইবান্ধা সড়কের ঢোলভাঙ্গা সংলগ্ন সৃষ্ঠিরতল এলাকায় বাসের সাথে অটোরিক্সার সংর্ঘষে ৩ যাত্রী নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, অটোচালক পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের খামার নড়াইল গ্রামের নাসির উদ্দীনের ছেলে গণি মিয়া (৪০), সাজ্জাদ মিয়ার ছেলে লিয়াকত আলী (১৮), ওয়াদুদ আলী ছেলে ইবনুরুল (১৮)। অপর দুর্ঘটনা ঘটেছে বিকেল ৫টায় গোবিন্দগঞ্জ- দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের বোগদহ এলাকায়। এখানে বাসের সাথে সিএজির সংঘর্ষে সিএনজি চালক ও শিশু যাত্রী নিহত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পরই স্বজনরা নিহতদের মরদেহ নিয়ে যাওয়ায় তাদের কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়াও শনিবার সকাল ৯টায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে শহরের থানা মোড়ে ১জন ও গত রাতে একই সড়কের চাপড়ীগঞ্জ এলাকায় ২জন নিহত হয়। নিহতরা হলেন, গোবিন্দগঞ্জের বোয়ালিয়ার রইচ উদ্দীন (৫৮) ও কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার শিলকুড়ি ইউনিয়নের কাঠগিরি গ্রামের ইউসুফ আলীর পুত্র আনোয়ার হোসেন (৩০) ও তার স্ত্রী শারমিন বেগম। গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোজাফ্ফর হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়গুলি নিশ্চিত করেছেন।

  • গাইবান্ধায় অতর্কিত হামলায় কৃষকদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ আহত ৭

    গাইবান্ধায় অতর্কিত হামলায় কৃষকদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ আহত ৭

    গাইবান্ধায় অতর্কিত হামলায় কৃষকদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ আহত ৭

    গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জে অতর্কিত হামলায় কৃষকদল ও ছাত্রদলের নেতাসহ ৭ জন আহত হয়েছেন। ঈদের দিন শনিবার (৭ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে মহিমাগঞ্জ তারার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ একদল হামলাকারী লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কৃষকদল ও ছাত্রদল নতাসহ স্থানীয়দের ওপর চড়াও হয়। এতে কৃষকদল নেতা সাহাব উদ্দীন রাফেল ও ছাত্রদল নেতা ইসমাইল ইসলামসহ ৭ জন গুরুতর আহত হন। তাদের মধ্যে ২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বগুড়া টিএমএসএস হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

    আহতরা হলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষকদলের যুগ্ন-আহবায়ক সাহাব উদ্দীন রাফেল (৩৬), মহিমাগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইসমাইল ইসলাম (২৮), ঢাকায় কর্মরত পুলিশ সদস্য জাকির হোসেন (৪৮), সোহেল রানা (২৫), রাজু মিয়া (৫২) বাবু মন্ডল (২৬), বুলবুল আহম্মেদ (৪০)। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সোহেল রানা ও রাজু মিয়া কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার টিএমএসএস হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানায়, মহিমাগঞ্জ বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক রবিউল ইসলাম খাজার ছেলে অনিকের সাথে মহিমাগঞ্জ রাজনৈতিক থানা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইসমাইল ইসলামের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় কৃষকদল নেতা সাহাব উদ্দীন রাফেলসহ স্থানীয়রা বিষয়টি মিমাংসা করে দেন। অনিক ওই স্থান ত্যাগ করলে সাহাব উদ্দীনসহ স্থানীয়রা চায়ের দোকানে বসেন। এর কিছুক্ষণ পরেই অনিক ও তার বাবা রবিউল ইসলাম খাজা তাদের লোকজনসহ এসে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে রাফেলদের উপর হামলা করে। হামলায় ৭ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে সোহেল রানার মাথায় ৩৬ টি সেলাই, রাজু ও জাকিরের মাথায় ৭টি করে সেলাই এবং বাবু মন্ডলের মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়। এছাড়া অন্যান্যদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখমের চিকিৎসা দেয়া হয়। আশংকাজনক অবস্থায় রানা ও রাজুকে বগুড়ায় একটি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি বুলবুল ইসলাম জানান, মারামারির বিষয়টি তিনি শুনেছি। অভিযোগ পেলে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

  • ভালুকায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

    ভালুকায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

    ভালুকায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

    ময়মনসিংহের ভালুকায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে সাবিনা আক্তার (৪২) নামে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে মডেল থানার পুলিশ। রবিবার (৮ জুন) দুপুরে উপজেলার সিডস্টোর উত্তর বাজার আল-আমিন খান নয়ন এর ভাড়া বাসা থেকে ওই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বামী স্বপন মিয়া পলাতক রয়েছে। ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির। স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন থেকে নিহত ও নিহতের স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় সিডস্টোর উত্তর বাজার ভাড়া বাসায় স্বজনরা খোঁজ নিতে এসে ঘরটি বাহির থেকে তালাবদ্ধ পায়, পরে জানালার ফাঁক দিয়ে ঘরের মেঝেতে নিহতের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় মডেল থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে তালা ভেঙে ঘর থেকে নিহতদের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায় ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। নিহতের ছোট ভাই সাদ্দাম হোসেন জানান, তার বোনকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে তার বোনজামাই স্বপন মিয়া ঘরটি তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীর কঠিন শাস্তির দাবি করেন সাবিনার পরিবার। বাড়ীর মালিক আল-আমিন খান নয়ন জানান, নিহত সাবিনা আক্তার তার বাসায় ভাড়া থেকে স্থানীয় একটি পোষাক কারখানায় চাকরি করতেন। বেশ কিছু দিন যাবৎ স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কলহ চলছিল। ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির জানান, তালাবদ্ধ ঘর থেকে ওই নারীর মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তসাপেক্ষে নিশ্চিত করে বলা যাবে।

  • ভয়ংকর রূপে ফিরেছে করোনা ॥ ভারতসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণে সতর্কতা

    ভয়ংকর রূপে ফিরেছে করোনা ॥ ভারতসহ কয়েকটি দেশে ভ্রমণে সতর্কতা

    করোনাভাইরাসের নতুন ধরন শনাক্ত ও সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ কয়েকটি দেশে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদের স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ সতর্কবার্তা জারি করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের নতুন সাব-ভেরিয়েন্ট, বিশেষ করে অমিক্রন এলএফ.৭ (LF.7), এক্সএফজি (XFG), জেএন-১ (JN.1) এবং এনবি ১.৮.১ (NB 1.8.1) এর সংক্রমণ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে এই ভাইরাস বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায়, ভারত ও অন্যান্য সংক্রামক দেশ থেকে ভ্রমণকারীদের উপর বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের সব স্থলবন্দর, নৌবন্দর ও বিমানবন্দরের আইএইচআর (IHR) ডেস্কে স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সংক্রমণ রোধে ঝুঁকি মোকাবিলায় অতিরিক্ত কিছু কার্যক্রম গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করছে, করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের ওপর কঠোর নজরদারি বজায় রাখা জরুরি।

  • ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ॥ আরাফাত ময়দানে হাজির লাখো লাখো মুসলমান

    ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ॥ আরাফাত ময়দানে হাজির লাখো লাখো মুসলমান

    ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ॥ আরাফাত ময়দানে হাজির লাখো লাখো মুসলমান

    সৌদি আরবে সমবেত হওয়া লাখ লাখ মুসলমান তাঁবুনগরী মিনা থেকে সাত সকালে হাজির আরাফাত ময়দানে। সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজিরা দিতে তাদের ‘লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে বিদায় হজের স্মৃতি বিজড়িত এই ময়দান। বৃহস্পতিবার সেখানে তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত হজের খুতবা শুনবেন এবং জুমা ও আসরের নামাজ পড়বেন। এ বছর আরাফাতের ময়দানে হজের খুতবা দেবেন মসজিদ আল-হারামের খতিব শেখ সালেহ বিন আবদুল্লাহ বিন হুমাইদ। ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে মসজিদ আল-নামিরায় খুতবা পাঠ এবং নামাজ আদায়ে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এ খুতবা ২০টির বেশি ভাষায় রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে বিশ্বময়। এই ২০ ভাষার মধ্যে বাংলাও রয়েছে। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত থাকাই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা। এদিন জোহর ও আসরের নামাজ সংক্ষিপ্তভাবে একসঙ্গে পড়েন হাজিরা। সেখানে আরাফাতের ময়দানের একপ্রান্তে মসজিদে নামিরাতে হজের খুতবা দেন একজন ইমাম। পরদিন কোরবানির মধ্য দিয়ে ঈদুল আজহা উদ্যাপন হয়। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আরাফাত ময়দানে তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠতে পারে। এ পরিস্থিতিতে নিয়মিত আবহাওয়াবার্তা অনুসরণ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরামর্শ মেনে চলতে হবে। অতিরিক্ত গরম ও সানস্ট্রোক মোকাবিলায় নির্দিষ্ট পরিবহনে চলাচল করার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।বৃহস্পতিবার (৯ জিলহজ) জোহরের আগে থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত পুরো সময় আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা ফরজ। এরপর হাজিরা মাগরিবের নামাজ না পড়েই মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। মুজদালিফায় পৌঁছে হাজিরা মাগরিব ও এশার নামাজ একসঙ্গে আদায় করবেন এবং মুজদালিফায় রাত্রিযাপন করবেন, থাকবেন খোলা আকাশের নিচে। সেখানে সারারাত খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করে ফজরের নামাজ পড়ে মিনার উদ্দেশে রওনা দেন হাজিরা। মুখে থাকে তাকবির ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’। শয়তানকে মারার জন্য পাথর সংগ্রহ করতে হয় মুজদালিফায় অবস্থানের সময়, রাতে কিংবা সকালে। হজের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ১০ জিলহজ সকালে মুজদালিফা থেকে মিনায় এসে তিনবার জামরাতে সাতটি করে কঙ্কর বা পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। বড় জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করে মিনায় কোরবানির পশু জবাই করতে হয়। এ ক্ষেত্রে যারা সৌদি সরকারের ব্যবস্থাপনায় কোরবানি সম্পন্ন করেন, তারা এসএমএসের মাধ্যমে কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার বার্তা পান। কোরবানির পরপরই মাথা মুণ্ডন সেরে ফেলতে হয়। এরপর সাধারণ কাপড় পরে কাবাঘর প্রদক্ষিণ করা যায়। মহানবী (সা.) জোহরের নামাজ পড়েছিলেন মসজিদে হারামে।

    কাবাঘর প্রদক্ষিণ শেষে দুই রাকাত নামাজ পড়ে হাজিরা চলে যান সাফা-মারওয়া মধ্যে সাতবার ছুটোছুটি করতে। এ সময় প্রচুর পরিমাণে জমজমের পানি পান করতে বলা হয়। ১১ ও ১২ জিলহজ¦ মিনায় অবস্থান করে ধারাবাহিকভাবে ছোট, মধ্যম ও বড় জামরাতে ৭টি করে ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে প্রতিদিন। তবে যদি কেউ কঙ্কর নিক্ষেপের আগে কিংবা পরে কাবা শরিফ গিয়ে তাওয়াফ করেন, তাহলে তাকে তাওয়াফের পর আবার মিনায় চলে আসতে হবে এবং রাতে মিনায় অবস্থান করতে হবে। নারী, বৃদ্ধ ও শারীরিকভাবে দুর্বলদের কঙ্কর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে রাতের সময়কে বেছে নিতে পরামর্শ দেওয়া হয়। কঙ্কর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে এখন হজ কর্তৃপক্ষ সময়সূচি ঠিক করে দেয় এবং বাংলায় দিক নির্দেশনার ব্যবস্থা আছে। সেই সময় অনুযায়ী কঙ্কর নিক্ষেপ করা হলে ভিড় এড়ানো সম্ভব। ১০ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মিনায় রাত্রযাপন করতে হয়। কেউ মিনাত্যাগ করতে চাইলে ১২ জিলহজ সূর্য ডোবার আগেই চলে যেতে হবে। এ সময়ের মধ্যে মিনাত্যাগ করতে না পারলে ১৩ জিলহজ মিনায় অবস্থান করতে হবে। সেদিন সাতটি করে আরও ২১টি কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। মক্কা ছেড়ে দেশে রওয়ানা হওয়ার আগে তাওয়াফ করতে হয়, যাকে বিদায়ী তাওয়াফ বলে। তবে জিলহজ মাসের ১২ তারিখের পর যে কোনো নফল তাওয়াফই বিদায়ী তাওয়াফে হিসেবে আদায় হয়ে যায়। উল্লেখ্য, এবছর সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ১০ জুন, আর শেষ হবে ১০ জুলাই।

  • বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গুলশানের বাড়ির কাগজ তুলে দিলো সরকার

    বেগম খালেদা জিয়ার হাতে গুলশানের বাড়ির কাগজ তুলে দিলো সরকার

    বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাতে তার গুলশানের বাড়ির নামজারির কাগজ তুলে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বুধবার রাত ৯টার দিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান খালেদা জিয়ার হাতে নামজারির কাগজ তুলে দেন। এ সময় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের বলেন, উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এসেছিলেন। আধা ঘণ্টার মতো তারা ছিলেন এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বাড়ির নামজারির কাগজের বিষয়ে তিনি বলেন, উপদেষ্টা কিছু কাগজ নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলো দিয়েছেন। ১৯৮১ সালের ৩১ মে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাজধানীর গুলশান এলাকায় দেড় বিঘা জমির ওপর অবস্থিত ওই বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়। বাড়িটি খালেদা জিয়া গুলশানে ‘ফিরোজা’ নামের যে বাড়িতে থাকেন, সেটির কাছেই। জানা গেছে, গুলশানের বাড়িটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে তার নামে নামজারি করা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর খালেদা জিয়ার নামে বাড়িটি নামজারি করা হয়।

  • গণমাধ্যমে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা-প্রেস স্বাধীনতার অপব্যবহার-প্রেস সচিব

    গণমাধ্যমে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা-প্রেস স্বাধীনতার অপব্যবহার-প্রেস সচিব

    বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রেস স্বাধীনতার অপব্যবহার। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ভেরিফাইড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ মন্তব্য করেন। স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমে এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রেস স্বাধীনতার অপব্যবহার। দেশের প্রখ্যাত কিছু পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল প্রায়ই গুরুতর ভুল তথ্য প্রকাশ করে, অথচ বেশিরভাগ সময়েই এসব ভুলের কোনো সংশোধনী প্রকাশ করা হয় না। অনেকে সংশোধন করতে বাধ্য হয়, শুধুমাত্র সরাসরি চাপের মুখে পড়লে, তাও নূন্যতম মাত্রায়। তিনি আরও লেখেন, গতকাল শেখ মুজিবুর রহমান এবং চারজন মুক্তিযোদ্ধার স্বাধীনতা সংগ্রামের ভূমিকা নিয়ে একটি ভুল তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বহু সংবাদমাধ্যম ভুল সংবাদ প্রকাশ করে। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করেছি, ভুল তথ্য সংশোধন করে দিতে, অথচ অধিকাংশ মিডিয়া দীর্ঘ সময় পরও সেই ভুল রিপোর্ট সরায়নি। কিছু সংবাদ মাধ্যম আবার দুঃখপ্রকাশ পর্যন্ত করেনি। এতে ভারতীয় গণমাধ্যমসহ বহু জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে “ইতিহাস বিকৃতির” অভিযোগ উঠে যায়। শফিকুল আলম বলেন, একইদিন রাতে দেশের অন্যতম একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘মানবিক করিডোর’ ইস্যুতে একটি ভয়াবহ অনুবাদ ভুল করে। আমরা বারবার বলার পরও যে এমন কোনো প্রস্তাব বা ঘোষণা ছিল না, তারা ভুলভাবে একটি শীর্ষস্থানীয় জাতিসংঘ কূটনীতিকের বক্তব্য উপস্থাপন করে। এতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। নামী-দামী রাজনীতিবিদরাও ভুল অনুবাদের উপর ভিত্তি করে সরকারের কাছে জবাব চাইতে শুরু করেন। পরে পত্রিকাটি নিরবে প্রতিবেদন থেকে ভুল অংশ মুছে দেয়, কিন্তু সংশোধনের কথা জানায়নি, ফলে অন্যান্য সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা বিভ্রান্তই থেকে যান। এমনকি আমাকে মধ্যরাতে ডয়চে ভেলে বাংলাকে ফোন করে বলাতে হয়েছে তারা যেন ভুল সংশোধন করে। তিনি আরও বলেন, আমি আমার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রতিদিনই সামাজিক ও প্রচারমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া খবর মোকাবেলা করতে হয়। পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ যে, কেবল এ বিষয়টি সামাল দিতে অন্তত ২০০ জনের একটি দল প্রয়োজন। সবচেয়ে হতাশাজনক দিক হলো-প্রভাবশালী মানুষ, বিশ্লেষক ও রাজনীতিবিদরাও যাচাই না করে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেন, যার কোনো জবাবদিহিতা নেই। প্রেস সচিব লেখেন, ভুয়া খবরের বাস্তব পরিণতি রয়েছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা গণহত্যার পেছনেও ভুল তথ্য ও গুজবের ভূমিকা ছিল, যা এখনো আমাদের জন্য বড় মানবিক ও পররাষ্ট্রনীতি সংকট। গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি বৈধ সরকারের বিরুদ্ধেও সহিংসতা উসকে দিতে পারে। তিনি আরও লেখেন, একজন গবেষক একবার বলেছিলেন, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তার হত্যার পেছনেও “ডাল-ভাত কর্মসূচি” নিয়ে ছড়ানো বিভ্রান্তি ভূমিকা রেখেছিল। বিশ্বজুড়েই ভুল তথ্য সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বা হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়েছে-ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশেও। শফিকুল আলম বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোতে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য গণমাধ্যমকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হয়। উদাহরণ হিসেবে, ফক্স নিউজ মিথ্যা তথ্য প্রচারের দায়ে ৭৮৭.৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয়েছিল। ব্রিটেনে নিয়মিতভাবে সংবাদপত্রগুলো মানহানির মামলায় জরিমানা গুণছে। তিনি লেখেন, কিন্তু বাংলাদেশে অনেক টিভি উপস্থাপক ও বিশ্লেষক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ালেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তাদের ব্যস্ত সময়সূচির কারণে অনেক সময় খবর যাচাই করার সুযোগ থাকে না, আবার শাস্তি না থাকার কারণে সত্য যাচাইয়ের তাগিদও থাকে না। সবশেষ তিনি লেখেন, যখন মিথ্যা বলার কোনো শাস্তি থাকে না, তখন কেউই আর সত্য যাচাইয়ে সময় ব্যয় করতে চায় না।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষন কর্মশালা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষন কর্মশালা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষন কর্মশালা

    আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে নিরাপদ আম উৎপাদন এবং এর প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা হয়েছে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে। বৃহস্পতিবার (০৫ জুন) বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম। বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্টস এ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিএমএ)এর উদ্যোগে এবং বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এর সার্বিক সহযোগিতায় দিনব্যাপী “আম রপ্তানির জন্য চুক্তিবদ্ধ চাষের মাধ্যমে GAP I HACCP এর মাধ্যমে নিরাপদ আম উৎপাদন এবং এর প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিএমপিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ মোঃ শুকুরুদ্দীন। এতে বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ মনোয়ারুল ইসলাম ডালিম, ও বাংলাদেশ ম্যাংগো প্রডিউসার মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ এম কোরাইশী মিলু। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আলোচক ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের শস্য বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ ড. মো: জহুরুল ইসলাম। কর্মশালায় মানবদেহের জন্য নিরাপদ কেমিক্যাল মুক্ত আম উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ করণ, আমের রোগ-পোকা দমন ও পরিচর্যার মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি এবং আম ও আমজাত পণ্য রপ্তানীর সুযোগ বৃদ্ধির করণের অঙ্গিকার ব্যাক্ত করেন উপস্থিত ৭০ জন আম চাষী ও ব্যবসায়ীবৃন্দ। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সর্বস্তরের আম চাষী ও ব্যবসায়ী বৃন্দ ছাড়াও উপজেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • নাচোলে কৃষি দপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

    নাচোলে কৃষি দপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

    নাচোলে কৃষি দপ্তরের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দিনব্যাপি নিরাপদ খাদ্য (ফল ও সবজি) উৎপাদনে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪জুন বুধবার উপজেলা হলরুমে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার নীলুফা সরকারের সভাপতিত্বে প্রোগ্রাম অন এগ্রি কালচারাল এন্ড ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন এন্টারপ্রেনারশিপ এন্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ(পার্টনার)’র আওতায় দিনব্যাপী পার্টনার ফিল্ড স্কুলের কৃষকদের অংশগ্রহণে পার্টনার কংগ্রেস বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার আব্দুন নূরের সঞ্চালনায় দিনব্যাপি কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামারবাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মোঃ ইয়াছিন আলী। কর্মশালায় বক্তব্য ও প্রজেক্টর সেশন উপস্থাপন করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার রায়হানুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প শুনান নাচোলের সফল আম (ফল) উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ কাউসার আলী। এ সময় প্রধান অতিথি বলেন, ‘কৃষিই আমাদের সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি। টেকসই কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে পার্টনার প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই পার্টনার কংগ্রেস একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। আমরা চাই কৃষকরা যাতে লাভজনক ও টেকসই উত্তম কৃষি চর্চা করতে পারেন, সেজন্য সকল পর্যায়ে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। কর্মশালায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ, উপজেলার বিভিন্ন পার্টনার ফিল্ড স্কুলের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • রাজশাহীতে অবাধে চলছে অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ব্যবসা ॥ বাড়ছে অপরাধ

    রাজশাহীতে অবাধে চলছে অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ব্যবসা ॥ বাড়ছে অপরাধ

    রাজশাহীতে অবাধে চলছে অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ব্যবসা ॥ বাড়ছে অপরাধ

    রাজশাহীতে অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ব্যবসা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখে ফাঁকি দিয়ে এই অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিষয়টি দেশের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজশাহীতে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ, রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া, চোরাই মোবাইল দোকানে, বাসা-বাড়ী, বিভিন্ন নামে অনলাইনে বিক্রয় ডটকম এ দেদারসে বিক্রি হচ্ছে এসব মোবাইল। রাজশাহীর নিউ মার্কেটের একাধীক দোকান-সহ আলোকার মোড়, কোর্ট স্টেশন, নগরীর মতিহার থানার বিনোদপুর হানুফার মোড়, দরিখরবনা জনৈক ব্যবসায়ীর ভাড়া বাসায়, কাজলা অক্ট্রার মোড়ে একটি টেলিকম দোকানে পুরাতন মোবাইল ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে কাগজপত্র বিহীন পুরাতন নষ্ট-রিপেয়ার মোবাইল, মোবাইলের পার্টস কোন ধরনের নিয়মনীতি এবং অনুমোদন ছাড়াই বিক্রি করছে। এছাড়াও নওহাটা পৌর বাজার, বানেশ্বর শিবপুর-সহ বিভিন্ন স্থানে চলছে রাজস্ব ফাকি দেওয়া, কাগজ পত্র বিহীন মোবাইলের ব্যবসা রমরমা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মোবাইল দোকানী জানান, মোবাইল চুরি বা ছিনতাই হলে ভুক্তভোগীরা থানায় জিডি করেন। পরে আরএমপি ও জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহযোগীতায় মোবাইল উদ্ধার হয়। তবে তা পর্যপ্ত নয়। কাগজ বিহীন মোবাইল উদ্ধারে প্রশাসনের নজরদারী বৃদ্ধি হলে এবং পরাতন মোবাইল কেনা-বেচা বন্ধ হবে। সেই সাথে পুরাতন মোবাইল বিক্রি বন্ধ হলে জনভোগান্তি কমবে। অতীতে কিছু ব্যবসায়ী চোরাই মোবাইল বিক্রির অপরাধে গ্রেফতার হলেও, সঠিক তদন্ত ও বিচার না হওয়ায় আবারও তারা একই কর্মকান্ড লিপ্ত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তির অপব্যবহারে দেশে ফেসবুক, বিক্রয় ডট কমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চোরাই মোবাইল বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মোবাইল ট্র্যাকিং এড়াতে মাদারবোর্ড বাদ দিয়ে ডিসপ্লে, ক্যাসিং, ব্যাটারি, আইসি ও অন্যান্য পার্টস আলাদাভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। কমদামে মোবাইল কেনার চাহিদা থাকায় অবৈধ চোরাই পথে আসা মোবাইল পুরাতন, ত্রুটিপূর্ণ, রিপেয়ার মোবাইল নিয়মনীতিহীন ভাবে বিক্রি হচ্ছে। এসকল মোবাইল ক্রয়-বিক্রয় যে আইনবিরোধী তা পাত্তাই দেন না বিক্রেতা ও ক্রেতারা। ত্রুটিপূর্ণ এবং রিপেয়ার মোবাইল সঠিকভাবে রিপেয়ারের অভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত রেডিয়েশন মাথা ব্যাথা, হৃদ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এইসকল পুরাতন বাতিল মোবাইলকে সচল করার জন্য যেসকল ব্যবসায়ী কাজ করেন তাদের অনেকের মোবাইল রিপেয়ারিং সম্পর্কে নেই সাধারণজ্ঞান। উচ্চ লাভের আশায় এরা রাতারাতি মোবাইল টেকনিশিয়ান বনে যাচ্ছেন। সরকারী রাজস্ব ফাকি দেয়া চোরাই মোবাইল ব্যবসা রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন। এছাড়া, অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর নজরদারি বাড়ানো ও অবৈধ পণ্যের বিজ্ঞাপন বন্ধ করা জরুরি। এ ব্যপারে নগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর), মোহাম্মদ রকিবুল হাসান ইবনে রহমান জানান, মোবাইল চুরি বন্ধে আরএমপি সাইবার ক্রাইম ইউনিট সর্বদাই কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়াও থানা ও মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), মোবাইল চুরি বন্ধে কাজ করছে। বিভিন্ন ডটকম ও কাগজ বিহীন মোবাইল ক্রয় ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইন বিরোধী। তাই জনসাধারণকে কাজপত্র বিহীন অবৈধ মোবাইল ক্রয়-বিক্রয় বিরত থাকতে হবে। সেই সাথে গণসচেতনতা ও প্রচার বাড়াতে হবে।