Blog

  • ঠাকুরগাঁও শহরজুড়ে অচল সিসি ক্যামেরা ॥ বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

    ঠাকুরগাঁও শহরজুড়ে অচল সিসি ক্যামেরা ॥ বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

    ঠাকুরগাঁও শহরজুড়ে অচল সিসি ক্যামেরা ॥ বাড়ছে চুরি-ছিনতাই

    ঠাকুরগাঁওয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যা ও যানজট। শহরের ব্যস্ত সড়ক ও বাজার এলাকায় যানজটের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংঘটিত হচ্ছে মোটরসাইকেল চুরি, অটোরিকশা ছিনতাই, দোকানে চুরি ও পথচারীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনা। অথচ এসব অপরাধ দমনে যে সিসি ক্যামেরা ছিল পুলিশের সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার, সেটিই এখন অচল।
    নিরাপত্তা নিশ্চিতের নামে কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরাগুলো আজ ঠাকুরগাঁও শহরে কার্যত অকার্যকর। প্রশাসনের চরম অবহেলা ও দায়হীনতার কারণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথে বসানো প্রায় সব সিসি ক্যামেরাই নষ্ট পড়ে আছে। ফলে প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হলেও অপরাধীরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাচ্ছে। আর ভুক্তভোগীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা পুলিশের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে শহরের প্রবেশপথসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে শতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল অপরাধীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা এবং ঘটনার পর দ্রুত সনাক্ত করা। কিন্তু স্থাপনের পর থেকেই এসব ক্যামেরার রক্ষণাবেক্ষণ কার্যত উপেক্ষিত। নিয়মিত তদারকি না থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, যান্ত্রিক ত্রুটি ও নষ্ট হার্ডডিস্কের কারণে ক্যামেরাগুলো একে একে অকেজো হয়ে পড়েছে।
    জেলা পুলিশের তথ্য মতে, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত শতাধিক সিসি ক্যামেরার বড় একটি অংশ বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে। তবে কতগুলো সচল রয়েছে এবং কতগুলো পুরোপুরি নষ্ট। এ বিষয়ে কোনো স্বচ্ছ ও হালনাগাদ তথ্য নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের এই অস্পষ্টতাই প্রশ্ন তুলছে প্রকল্পটির তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে।
    ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সিসি ক্যামেরা নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুযোগে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা চুরি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি ও পথচারীদের ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়েছে কয়েকগুণ। অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলেও সিসি ফুটেজ না থাকায় অপরাধী সনাক্ত করা যাচ্ছে না। এতে তদন্ত দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীদের হয়রানি বাড়ছে।
    আবু বক্কর নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আগে ক্যামেরা থাকায় অন্তত ভয় ছিল। এখন ক্যামেরা নষ্ট জানার পর থেকে চোরেরা আরও সাহসী হয়েছে। রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরতে আতঙ্ক কাজ করে।
    মেহেদী নামে এক যুবক বলেন, যানজটের ভিড়ে মোবাইল ছিনতাই এখন নিত্যদিনের ঘটনা। সিসি ক্যামেরা থাকলে অপরাধীরা ধরা পড়বে এই বিশ্বাসটাই ছিল। কিন্তু ক্যামেরা যদি কাজ না করে, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
    মৌমিতা নামে এক কলেজছাত্রী বলেন, সন্ধ্যার পর একা বের হতে ভয় লাগে। চারপাশে ক্যামেরা থাকলেও কোনো লাভ নেই, কারণ সব নষ্ট। নিরাপত্তার বিষয়টা নিয়ে কেউ সিরিয়াস না।
    ইব্রাহিম ও রুবেল রানা নামে দুইজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সিসি ক্যামেরা অচল হওয়ার সুযোগে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও দোকানপাটে চুরির ঘটনা বাড়লেও সিসি ফুটেজ না থাকায় অনেক মামলায় তদন্ত এগোচ্ছে না। ফলে থানায় অভিযোগ দিয়েও ভুক্তভোগীদের বারবার হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
    ঠাকুরগাঁও ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মো. রাহুল আহম্মেদ বলেন, সিসি ক্যামেরা থাকলে যানজট নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় ও আইন লঙ্ঘনকারীদের সনাক্ত করা সহজ হয়। ক্যামেরাগুলো অচল হয়ে যাওয়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমরা কার্যকর সহায়তা পাচ্ছি না।
    এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. খোদাদাদ হোসেন বলেন, শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত যেসব সিসি ক্যামেরা নষ্ট বা অচল হয়ে পড়েছে, সেগুলোর তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এসব ক্যামেরা সংস্কার ও পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • হাসিনা-কামালের সাজা বাড়ানোর আপিল শুনানি ২৫ ফেব্রুয়ারি

    হাসিনা-কামালের সাজা বাড়ানোর আপিল শুনানি ২৫ ফেব্রুয়ারি

    হাসিনা-কামালের সাজা বাড়ানোর আপিল শুনানি ২৫ ফেব্রুয়ারি

     

    চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের মধ্যে যে একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে করা আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি।
    প্রসিকিউসনের আবেদনের পর রবিবার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। আদালতে প্রসিকিউসন পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
    চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে দু’টি অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়। একটি আমৃত্যু কারাদণ্ড, আরেকটি মৃত্যুদণ্ড। আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে দু’জনের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করে প্রসিকিউসন। সে আপিলে আটটি গ্রাউন্ড (যুক্তি) দেয়া হয়েছে।
    মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
    গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন।
    এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস. এইচ. তামিম শুনানি করেন। এছাড়া শুনানিতে প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্য প্রসিকিউটরা উপস্থিত ছিলেন।
    অন্যদিকে, পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। এছাড়া রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
    ঐতিহাসিক এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এছাড়া স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন।
    মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
    একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে (অ্যাপ্রুভার) রাজসাক্ষী হন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
    ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। এখন দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সে সব অভিযোগের বিচার চলছে।

  • আপনারা কেন্দ্র পাহারা দিবেন ॥ যেনো কেউ কেন্দ্র দখল করতে না পারে- ভালুকায় আসিফ মাহমুদ

    আপনারা কেন্দ্র পাহারা দিবেন ॥ যেনো কেউ কেন্দ্র দখল করতে না পারে- ভালুকায় আসিফ মাহমুদ

    আপনারা কেন্দ্র পাহারা দিবেন ॥ যেনো কেউ কেন্দ্র দখল করতে না পারে- ভালুকায় আসিফ মাহমুদ

     

    জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বলেছেন, সারা দেশের মানুষ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষা করছে। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে না পেরে ফিরে এসেছেন। কেন্দ্র দখল, মারামারি ও হানাহানির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে-এ দৃশ্য তারা আর দেখতে চায় না।
    তিনি বলেন, দেশের মানুষ চায় ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা তাদের ভোটাধিকার রক্ষা করুক। ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের দায়িত্ব শুধু নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নয়, আমাদের দায়িত্ব বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের মধ্যে ১২ কোটি ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে তা নিশ্চিত করা।
    শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভালুকা বাসস্ট্যান্ড স্মৃতিসৌধ চত্বরে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ডা. জাহিদুর ইসলামের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভালুকা উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আফসার উদ্দিন মাস্টার।
    আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “আপনারা কেন্দ্র পাহারা দিবেন, যেন কেউ কেন্দ্র দখল করতে না পারে। ভোটাররা যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে-এটি নিশ্চিত করতে হবে।”
    ভালুকার পরিবেশ ও কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভালুকায় বন দখল ও নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে কলকারখানা ও শিল্পায়ন গড়ে উঠলেও স্থানীয় জনগণ ও তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় গেলে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।”
    পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরা শারমিন, জাতীয় যুব শক্তির মুখ্য সংগঠক ফরহাদ সোহেল, ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ডা. জাহিদুর ইসলাম, ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল করিম, ভালুকা উপজেলা জামায়াতের আমীর সাইফ উল্লাহ পাঠান ফজলু এবং খেলাফত মজলিস ভালুকা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা মামুনুর রশীদ খান প্রমুখ। পথসভা শেষে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি নির্বাচনী পথযাত্রা বের করা হয়।

  • পত্নীতলায় বিজিবির নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

    পত্নীতলায় বিজিবির নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

    পত্নীতলায় বিজিবির নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে বিজিবির প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ধামইরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দেন পত্নীতলা-১৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
    আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) একটি পেশাদার, সুশৃঙ্খল ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত সব নির্দেশনা বিজিবি কর্তৃক কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক, অস্ত্রপাচারসহ সীমান্ত সংক্রান্ত অপরাধ সংগঠিত হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
    আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে নওগাঁ জেলার পোরশা, সাপাহার ও ধামইরহাট উপজেলায় চারটি করে মোট ১২ প্লাটুন এবং আরও ৮টি নিয়ামতপুর, পত্নীতলা, বদলগাছী, মহাদেবপুর, মান্দা, নওগাঁ সদর, রাণীনগর, আত্রাই উপজেলায় দুটি করে ১৬ প্লাটুন এবং নওগাঁ সদরে একটি রিজার্ভ প্লাটুনসহ সর্বমোট ২৯ প্লাটুন বিজিবি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে কাজ করছেন।

  • পটুয়াখালীতে নুর-মামুনের সমর্থকদের সংঘর্ষ ॥ আহত ১৫

    পটুয়াখালীতে নুর-মামুনের সমর্থকদের সংঘর্ষ ॥ আহত ১৫

    পটুয়াখালীতে নুর-মামুনের সমর্থকদের সংঘর্ষ ॥ আহত ১৫

    পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
    শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১১টার দিকে গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের চত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চত্রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নুরুল হক নুরের ট্রাক প্রতীকের সমর্থকদের একটি মিছিল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের আরেকটি মিছিল মুখোমুখি হয়। মিছিল দুটি অতিক্রম করার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
    সংঘর্ষে মারুফ, অজিত, ওয়াজিব, অলিউল ইসলাম টিটু, বায়েজিদসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে হাসান মামুনের ঘোড়া প্রতীকের সমর্থক মারুফ গাজী (২৪), ওয়াজিব হাওলাদার (২৪) ও জায়েদকে (২২) গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
    ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
    এ বিষয়ে নুরুল হক নুরের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আবু নাঈম বলেন, ডাকুয়ায় আমাদের তিনজন লোককে তারা মিছিলে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। এ নিয়ে সংঘর্ষের শুরু হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • টাকার জন্য বাবাকে কুপিয়ে হত্যা-ছেলে আটক

    টাকার জন্য বাবাকে কুপিয়ে হত্যা-ছেলে আটক

    টাকার জন্য বাবাকে কুপিয়ে হত্যা-ছেলে আটক

     

    কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে টাকার জন্য বাবাকে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে জুয়েল মিয়াকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে তাড়াইল উপজেলার তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের দড়ি জাহাঙ্গীরপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত রমজান মিয়া (৪৫) দড়ি জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে।
    পুলিশ জানায়, বাবা ও ছেলে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোর আনুমানিক ৫টার দিকে জুয়েল মিয়া তার বাবা রমজান মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। দা দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে জুয়েল।
    চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘরের দরজা ভেঙে রমজান মিয়াকে উদ্ধার করে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দা ও নগদ ২৩ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
    তাড়াইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে টাকার জন্যই মাদকাসক্ত ছেলে তার বাবাকে হত্যা করেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • গ্যাস সংকটে ক্ষুব্ধ জনতা ॥ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

    গ্যাস সংকটে ক্ষুব্ধ জনতা ॥ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

    গ্যাস সংকটে ক্ষুব্ধ জনতা ॥ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

    টানা সাত দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় রাজধানীর রায়েরবাগ-শনিরআখড়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
    রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌন ১টার দিকে রায়েরবাগ-শনিরআখড়া সড়ক অংশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। বিক্ষোভকারীরা জানান, গত সাত দিন ধরে তাদের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
    স্থানীয়দের অভিযোগ, ৭ দিন গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে, যা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এমন অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই তারা সড়ক অবরোধে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান।
    বিক্ষোভকারীরা বলেন, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তারা আন্দোলন আরও জোরদার করবেন। অবরোধের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামমুখী যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অফিসগামী মানুষ, পণ্যবাহী যান এবং দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
    খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
    ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার ট্রাফিক সাজেদুর রহমান বলেন, রায়েরবাগ ও শনিআখড়া এলাকায় ৭ দিন যাবৎ গ্যাস না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ করেছে। আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। দ্রুতই অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।

  • বগুড়ায় নির্বাচনের মাঠে থাকবে ২৪ প্লাটুন বিজিবি

    বগুড়ায় নির্বাচনের মাঠে থাকবে ২৪ প্লাটুন বিজিবি

    বগুড়ায় নির্বাচনের মাঠে থাকবে ২৪ প্লাটুন বিজিবি

    নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বগুড়ায় ২৪ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মহিলা ডিগ্রি কলেজে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) সদর ক্যাম্পে ১৬ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম সাংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তিনি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এই সময়ে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্রপাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত সংশ্লিষ্ট অপরাধ যেন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে না পারে। সে বিষয়ে বিজিবি সতর্কতা ও তৎপরতার সাথে দায়িত্ব পালন করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়াকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ২টি জেলায় ১৬টি উপজেলার ১০টি সংসদীয় আসনে মোট ১৬টি বেইজ ক্যাম্পে ৩৩ প্লাটুন মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েনের করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া জেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১২টি উপজেলায় ১২টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে সর্বমোট ২৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য ইতোমধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্য ৯ প্লাটুন সদস্য নওগাঁর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিয়োজিত রয়েছেন। অধিনায়ক আরিফুল ইসলাম মাসুম আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবি সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহকারি পরিচালক মো. রবিউল ইসলাম, বেইজ ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মাফুজুর রহমান প্রমুখ।

  • কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে র‌্যাবের অভিযান ॥ ২০ জনের কারাদণ্ড

    কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে র‌্যাবের অভিযান ॥ ২০ জনের কারাদণ্ড

    কিশোরগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে র‌্যাবের অভিযান ॥ ২০ জনের কারাদণ্ড

    কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২০ জন দালালকে আটক করেছে র‌্যাব। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে র‌্যাব-১৪ সিপিসি-২ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা অভিযানটি পরিচালনা করেন। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মোহাম্মদ জুবায়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ডাদেশ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অভিযুক্তরা দোষ স্বীকার করায় এবং অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় তাঁদের সর্বনিম্ন সাত দিন থেকে সর্বোচ্চ এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অভিযান চলাকালে দালালরা র‌্যাবের সিভিল ফোর্সের সদস্যদের কাছেও অর্থ দাবি করে। এভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এ অভিযানের ফলে পাসপোর্ট অফিসে জনভোগান্তি কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। র‌্যাব জানায়, পাসপোর্ট অফিসে দায়িত্বরত একজন আনসার সদস্যের দালালদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি জেলা কমান্ড্যান্টকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁত পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হবে-সিরাজগঞ্জে তারেক

    আমাদের একসাথে কাজ করে দেশ গঠন করতে হবে

    বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁত পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হবে-সিরাজগঞ্জে তারেক

    বিএনপি সরকার গঠন করলে তাঁত পণ্য রপ্তানির উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আমরা যদি তাঁতের কথা বলি, আমরা যদি লুঙ্গির কথা বলি, রঙের কথা বলি, প্রথমেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিরাজগঞ্জ-পাবনার কথা। এই এলাকার মানুষ তাঁত শিল্পের সাথে বহু মানুষ এখানে জড়িত। তাঁত শিল্প সম্পর্কে যদি আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি, তাহলে এই তাঁত শিল্পে উৎপাদিত পণ্য আমরা ইনশাআল্লাহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হব। আগামী দিনে আমরা তাই করতে চাই, সিরাজগঞ্জ-পাবনায় উৎপাদিত তাঁত পণ্য আমরা সমগ্র বিশ্বে আমরা রপ্তানি করতে চাই।

    শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়রাম্যান তারেক রহমান। তিনি আরও বলেন, আজ আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আমি হয়তো প্রতিপক্ষ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম। আপনারাও হয়তো জোরে জোরে হাততালি দিতেন, কিন্তু তাতে কি আপনাদের কোনো লাভ হতো? লাভ হতো না। বাংলাদেশের মানুষ এখন জানতে চায়, বাংলাদেশের মানুষ এখন দেখতে চায়, যে কোন রাজনৈতিক দল কি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে দেশ এবং জনগণের জন্য, যাতে জনগণ এবং দেশ আগামীতে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। আজকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ এখানে অনেক কাজ করার আছে, সেই কাজগুলো করলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, যেই কাজগুলো করলে এলাকার উন্নয়ন হবে। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, আমাদের নেতাকর্মীরাসহ বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে।

    এখন আমাদেরকে দেশ গড়তে হবে, সকলকে একসাথে এখন কাজ করতে হবে, দেশ গঠন করতে হবে। সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ সারাদেশে নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন করার মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান, এই অঞ্চলে কৃষি নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠা এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সরকার গঠন করলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে নারী ও কৃষকদের সহযোগিতারও কথা বলেন তারেক রহমান। বেলা ৩টায় কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।

    তিনি বলেন, “যে মানুষগুলো গত ১৬-১৭ বছর যাবৎ প্রতিবাদ করেছে। তাদের প্রতিবাদ ছিল কী? অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তাদের প্রতিবাদ ছিলো বাংলাদেশের মানুষের যে অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। এই অধিকারকে যদি ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে ১২ তারিখে আপনাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে। ১২ তারিখে যদি আপনারা জবাব দিতে পারেন ধানের শীষে সিল মারার মাধ্যমে, তাহলে সেই স্বৈরাচাররা যারা আপনার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তারা আপনাদের জবাব পাবে। তারেক রহমান বলেন, আমরা সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে আমরা একসাথে শাস্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে, সে বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের কাছে ধর্মটা মুক্ত নয়, আমাদের কাছে জাত-পাত মুখ্য নয়, আমাদের কাছে মূখ্য হচ্ছে সে বাংলাদেশের মানুষ।

    কাজেই মানুষকে মানুষ হিসাবে আমরা মূল্যায়ন করতে চাই। মানুষকে মানুষের মূল্যায়ন করতে হবে। সমাবেশে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে ধানের শীষে ভোট চান তারেক রহমান। তারা হলেন, সেলিম রেজা (সিরাজগঞ্জ-১), ইকবাল হাসান মাহ্মুদ (সিরাজগঞ্জ-২), আয়নুল হক (সিরাজগঞ্জ-৩), এম আকবর আলী (সিরাজগঞ্জ-৪), আমিরুল ইসলাম খান (সিরাজগঞ্জ-৫), এম এ মুহিত (সিরাজগঞ্জ-৬); শামসুর রহমান (পাবনা-১), এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব (পাবনা-২), হাসান জাফির তুহিন (পাবনা-৩), হাবিবুর রহমান হাবিব (পাবনা-৪) ও শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস (পাবনা-৫)। জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ধানের শীষের প্রার্থীরা।

    উল্লেখ্য, সবশেষ ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল ধোপাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। উত্তরাঞ্চলে প্রচারাভিযানের দুইদিনে তারেক রহমান রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরে চারটি নির্বাচনী সমাবেশ করেন তারেক রহমান। উত্তরাঞ্চলের তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার রাজশাহী আসেন তারেক রহমান।

    মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনি সমাবেশের পর নওগাঁর এটিম মাঠ এবং বগুড়ার আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে সমাবেশ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। দ্বিতীয় রংপুরের পীরগঞ্জে জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর রংপুরের কলেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ করেন তারেক রহমান। তৃতীয় দিন শনিবার সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে জনসভার শেষে তিনি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চরজানা বাইপাস এলাকায় নির্বাচনী সমাবেশ করেন।