Blog

  • শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপির শ্রদ্ধা

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপির শ্রদ্ধা

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিতে বিএনপির শ্রদ্ধা

    শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিএনপি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার জিয়া উদ্যানে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে বিএনপির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া করা হয়। এতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় চার থেকে সাড়ে চার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা-১২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নিরব, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বে”ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিনসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

  • ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে-নাটোরে ব্যারিস্টার পুতুল

    ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে-নাটোরে ব্যারিস্টার পুতুল

    ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে-নাটোরে ব্যারিস্টার পুতুল

    ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ও নাটোর-১ আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। রোববার (১৮ জানুয়ারি) নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়নের ভাটোপাড়া এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। দোয়া মাহফিলে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে গেছেন।” তিনি আরও বলেন, “তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মূল শিক্ষা ছিল জনগণের পক্ষে দাঁড়ানো এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা। আজকের এই দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আমরা তাঁর সেই আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শনকে স্মরণ করছি।” দোয়া মাহফিলে ফাগুয়াড়দিয়ার ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নেকবর হোসেন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন মিঠু ও বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ চৌধুরীসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও একই আয়োজনে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসি’র উদ্যোগে নারী শিক্ষায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসি’র উদ্যোগে নারী শিক্ষায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসি’র উদ্যোগে নারী শিক্ষায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার

    নারী শিক্ষা এগিয়ে নিতে ডিএনসি’র উদ্যোগে নারী শিক্ষায় মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে “নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় মাদকমুক্ত সমাজের ভূমিকা” শীর্ষক সচেতনতামূলক সেমিনার হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার রেহাইচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এই মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক সেমিনার হয়েছে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান।

    প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার। তিনি মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ সামাজিক প্রভাব ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তারুণ্য নির্ভর, উন্নত ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন রেহাইচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা: হাসান আলী। এসময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণও উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতা, মাদকবিরোধী শপথ বাক্য পাঠ এবং লাল কার্ড প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকবিরোধী স্লোগান সংবলিত উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

  • দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়ায় বয়লারে ফাটল-বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

    দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়ায় বয়লারে ফাটল-বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

    দিনাজপুরে বড়পুকুরিয়ায় বয়লারে ফাটল-বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ

    দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বয়লারে ফাটলের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি চারটি ইউনিট আছে। সবশেষ ইউনিটটি রোববার দুপুরে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এই কেন্দ্রে আর কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। এই কেন্দ্রে রয়েছে দুটি ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট এবং একটি ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন। দুই নম্বর ইউনিট পুরোপুরি বিকল হয়ে ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। তখন থেকেই এক এবং তিন নম্বর ইউনিট উৎপাদনে টিকে ছিল। ২৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন তিন নম্বর ইউনিট ওভারহোলিং এর কারণে গত বছরের অক্টোবর থেকে বন্ধ আছে। এটি চালু করতে আরও প্রায় দুই মাস লাগতে পারে। রোববার বন্ধ হয়েছে এক নম্বর ইউনিট। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বয়লারের যে অংশের টিউব ফেটে গেছে সেখানকার তাপমাত্রা এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটা ঠান্ডা হওয়ার পর ভিতরে প্রবেশ করে ফাটলের অংশ শনাক্ত করার পর অবস্থা বুঝে যত দ্রুত সম্ভব সময়ে তা চালু করার চেষ্টা করা হবে। সেখানে হাজার হাজার টিউব আছে। যদি চার-পাঁচটা টিউবে ফাটল হয় তাহলে সময় কম লাগবে, বেশি হলে বেশি সময় লাগবে। গত বছরের ১৯ অক্টোবর এক নস্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সেটি মেরামত করে চালুর পর আবার একই কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলো।

  • কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থন

    কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থন

    কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীকে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থন

    বিএনপির দলী মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা-৬ (সদর ও সদর দক্ষিণ) আসনের স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। সোমবার (১৯ জানুযারী) সকালে কুমিল্লা নগরীর বাদুরতলায় বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ সময় কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুসহ জেলা বিএনপি সহ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন বলেন, আমি দল করি, দলকে ক্ষমতা আনার জন্য দলের আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য দেশ এবং জনগণের উন্নয়নের জন্য দলের চেয়ারম্যানের সাথে একমত হয়ে আমি তাকে কথা দিয়েছি-ঠিক আছে আপনার কথা মেনে নিলাম।
    তিনি বলেন, “দলের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম তা উইড্রো করে ফেলছি। প্রত্যাহারের পত্র সাবমিট করে ফেলেছি। এর কপি আমি সাংবাদিকদের কাছে পৌঁছে দেবো। “যেহেতু দল আমাকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের সমন্বয়কের দায়িত্ব দিয়েছে, আমি যেন এসব আসনে বিএনপির প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করে তারেক রহমানের হাতে তুলে দিতে পারি-এই জন্য সবাই আমাকে সহযোগিতা করবেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদনটি জেলা রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন বলেও জানান হাজী ইয়াছিন। কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “আজকে আমরা সবাই কুমিল্লার ইতিহাসে কালের সাক্ষী হয়ে গেলাম। আমাদের দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন সময়ে বিভাজন সংকটে ফেলেছে; কুমিল্লাকে এগিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে।

  • পারিবারিক কলহের জেরে সিংড়ায় যুবকের আত্মহত্যা

    পারিবারিক কলহের জেরে সিংড়ায় যুবকের আত্মহত্যা

    পারিবারিক কলহের জেরে সিংড়ায় সৌরভ সোহরাব নামে এক যুবকের আত্মহত্যায় মৃত্যু হয়েছে। বাবা মায়ের উপর অভিমান করে জিয়াউর রহমান জিয়াম (২১) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নাটোরের সিংড়া উপজেলার ২নং ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ গ্রামের মাধাইসোনা পাড়ার নিজ বাড়িতে সকাল ৭টায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াম ওই গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিংড়া থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা।

  • অতিথি পাখির কলরবে মুখরিত ক্ষেতলালের আছরাঙ্গা দিঘি

    অতিথি পাখির কলরবে মুখরিত ক্ষেতলালের আছরাঙ্গা দিঘি

    বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমনে দিঘিপাড় প্রাণচঞ্চল ও মনোরম। শীত মৌসুম এলেই অতিথি পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে আছরাঙ্গা দিঘি। স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর শীতের শুরুতে উত্তর এশিয়া ও সাইবেরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিথি পাখিরা হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এখানে আসে। দিঘির স্বচ্ছ পানি, পর্যাপ্ত খাবার এবং তুলনামূলক শান্ত পরিবেশ অতিথি পাখিদের আকর্ষণ করে। ভোরের আলো ফুটতেই দিঘির পানিতে ভেসে বেড়াতে দেখা যায় পাতিহাঁস, জলময়ূর, সরালি হাঁসসহ নানা জাতের অতিথি পাখি। পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে প্রকৃতি যেন নতুন রূপে সেজে ওঠে। স্থানীয় পাখি প্রেমী শামীমা আখতার বলেন,“শীত এলেই আমরা দিঘিতে নানা রঙের পাখি দেখতে পাই। পরিবার নিয়ে সকালে এসে পাখি দেখা এখন আমাদের একধরনের বিনোদন।”
    তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু অসচেতন মানুষের কারণে অতিথি পাখির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। মাঝে মাঝে শিকারিদের উৎপাত ও শব্দদূষণের কারণে পাখিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। আছরাঙ্গা দিঘি সংরক্ষণ ও অতিথি পাখি রক্ষার বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.পলাশ চন্দ্র বলেন,“আমরা আছরাঙ্গা দিঘিকে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছি। শীতকালীন অতিথি পাখিদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ সেবী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম চলমান আছে। প্রকৃতি ও জীবন ক্লাবের সভাপতি, পরিবেশ কর্মী এম রাসেল আহমেদ বলেন, দিঘি এলাকায় শিকার, অবৈধ মাছধরা ও দূষণ রোধে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আমরা স্থানীয়দেরও উৎসাহিত করছি, যেন তারা পাখিদের প্রতি সংবেদনশীল থাকে এবং প্রকৃতিকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই আছরাঙ্গা দিঘি যেন শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, বরং একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে অতিথি পাখির জন্য। শীতকালীন পর্যবেক্ষণ চালানো হবে, এবং যে কেউ দিঘির পরিবেশ নষ্ট করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিবেশ সচেতনরা মনে করেন, অতিথি পাখি ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। শীতের এই মৌসুমে আছরাঙ্গা দিঘি যেন শুধু একটি জলাশয় নয় বরং প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের এক জীবন্ত প্রদর্শনী।

  • কিশোরগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নেশাজাতীয় ট্যাবলেটসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

    কিশোরগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নেশাজাতীয় ট্যাবলেটসহ বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

    নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ১০০ পিস নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১৮ জানুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকায় সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল চলাকালীন এ অভিযানে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে, উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকার মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে জিয়ারুল হক ও তার ছেলে নজিবুল ইসলাম। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২টি বাটন মোবাইল এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। কিশোরগঞ্জ সেনাবাহিনী ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় নিতাই গাংবের এলাকার একটি সুপারি বাগানে কয়েকজন ব্যক্তির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী তাদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য সরঞ্জামসহ দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানে গ্রেপ্তারকৃত দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে তাদের নীলফামারী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • শাকসু নির্বাচন ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিত

    শাকসু নির্বাচন ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিত

    শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন হাই কোর্ট। ভিপি পদপ্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজনের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সোমবার এ আদেশ দেন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ভোটের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হওয়ার মধ্যেই নির্বাচন স্থগিতের আদেশ আসে, যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনার জন্ম দেয়। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল, রাশনা ইমাম ও মনিরুজ্জামান আসাদসহ অন্যান্যরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন মোহাম্মদ হোসেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। উল্লেখ্য, শাকসু নির্বাচনের জন্য গত ১৬ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হয়। প্রথমে ভোটগ্রহণের তারিখ ছিল ১৭ ডিসেম্বর, পরে তা পরিবর্তন করে ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ‘প্রভাবমুক্ত রাখতে’ গত ১২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন এক আদেশে পেশাজীবীসহ সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশ দেয়। তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ ভোট আয়োজনের দাবিতে অনড় থাকেন। পরে ১৫ জানুয়ারি আচরণবিধি মেনে চলার শর্তে শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয় নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তসহ বিভিন্ন ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে রোববার থেকে ইসির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ছাত্রদল। সোমবার দুপুরে শাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে বিএনপিপন্থি আট শিক্ষক পদত্যাগ করেন। এর পরপরই হাই কোর্টের আদেশে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত আসে।

  • গৌড় সভ্যতা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর রহনপুরের ষাড় বুরুজ ঐতিহ্যের গৌরব ॥ সংরক্ষণের সংকট

    গৌড় সভ্যতা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর রহনপুরের ষাড় বুরুজ ঐতিহ্যের গৌরব ॥ সংরক্ষণের সংকট

    ইতিহাসের নীরব মিনার আর অবহেলিত বুরুজে বন্দি

    গৌড় সভ্যতা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর রহনপুরের ষাড় বুরুজ ঐতিহ্যের গৌরব ॥ সংরক্ষণের সংকট

    এক সময়ের রাজধানী গৌড় থেকে সীমান্ত জনপদ রহনপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে ছড়িয়ে আছে বাংলার ইতিহাসের অমূল্য নিদর্শন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় অবহেলা আর দায়হীনতায় সেই ইতিহাস আজ হুমকির মুখে। বাংলার ইতিহাস মানেই শুধু ঢাকার চারপাশ কিংবা দক্ষিণাঞ্চলের গল্প নয়। ইতিহাসের গভীরে তাকালে স্পষ্ট হয়, বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতা, ধর্মীয় বিকাশ ও সাংস্কৃতিক উত্থানের এক বিশাল অধ্যায় রচিত হয়েছিল উত্তরাঞ্চলের চাঁপাইনবাবগঞ্জকে কেন্দ্র করে। প্রাচীন গৌড় সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে রহনপুরের সীমান্তপ্রহরী স্থাপনা, এই জেলা বহন করে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও বৈচিত্র্য। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, ইতিহাসসমৃদ্ধ এই জনপদের অধিকাংশ নিদর্শন আজও জাতীয় গুরুত্ব পায়নি। অনেক স্থাপনা অরক্ষিত, অনেক ইতিহাস অগবেষিত, নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে শতাব্দীর সাক্ষ্য। গৌড়: রাজধানী, সভ্যতা ও পতনের গল্প গৌড়—আজকের শিবগঞ্জ উপজেলা—এক সময় ছিল বাংলার রাজধানী। সেন আমল থেকে শুরু করে সুলতানি ও আফগান শাসনামলে গৌড় ছিল প্রশাসন, বাণিজ্য ও ধর্মচর্চার কেন্দ্র। সুপরিকল্পিত নগরব্যবস্থা, প্রাচীরঘেরা শহর, প্রশস্ত সড়ক ও বিশাল দিঘি আজও প্রমাণ করে গৌড় কতটা সমৃদ্ধ ছিল।
    ইতিহাসবিদদের মতে, গৌড় ছিল বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় নগরী—যেখানে মুসলমান, হিন্দু ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ছিল তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ। কিন্তু আজ সেই রাজধানী ছড়িয়ে আছে ধ্বংসস্তূপে, অনেক অংশ এখনও মাটির নিচে অচেনা।
    ছোট সোনা মসজিদ: সুলতানি বাংলার স্থাপত্য-গর্ব চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহাসিক পরিচয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক ছোট সোনা মসজিদ। পনেরো শতকের শেষভাগে নির্মিত এই মসজিদ একসময় সোনালি প্রলেপে আবৃত ছিল। পাথর ও ইটের নিখুঁত সমন্বয়, টেরাকোটা অলঙ্করণ, বহু গম্বুজ ও মিহরাবের নান্দনিকতা প্রমাণ করে, সুলতানি আমলে বাংলা স্থাপত্য শিল্প কতটা উন্নত ছিল। এটি শুধু ইবাদতের স্থান নয়, এটি তৎকালীন রাষ্ট্রশক্তি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও শিল্পবোধের প্রতীক। দারসবাড়ি, খনিয়াদিঘি ও ধানিয়াচক: ছড়িয়ে থাকা গৌড়ের অধ্যায়
    দারসবাড়ি মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রমাণ করে গৌড় ছিল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। এখানে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠার পরিবেশ ছিল। খনিয়াদিঘি মসজিদ ও বিশাল দিঘি তৎকালীন নগর পরিকল্পনার উন্নত ধারণা তুলে ধরে, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনজীবনের ভারসাম্য ছিল পরিকল্পিত। ধানিয়াচক মসজিদ দেখায়—ধর্মীয় স্থাপনা শুধু অভিজাত শ্রেণির জন্য নয়; সাধারণ মানুষের ধর্মচর্চার ক্ষেত্রও ছিল বিস্তৃত। রহনপুরের ষাড়বুরুজ ও গম্বুজ: সীমান্ত ইতিহাসের অবহেলিত প্রহরী চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস শুধু গৌড়েই সীমাবদ্ধ নয়। গোমস্তাপুর উপজেলাধীন রহনপুরের ঐতিহাসিক ষাড়বুরুজ ও গম্বুজ এই জেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু উপেক্ষিত অধ্যায়। স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও প্রবীণদের মতে, রহনপুরের ষাড়বুরুজ ছিল এক সময়ের প্রতিরক্ষা ও নজরদারি স্থাপনা। সীমান্তবর্তী জনপদ হওয়ায় এটি প্রশাসনিক ও সামরিক গুরুত্ব বহন করত। ছয়টি বুরুজবিশিষ্ট এই কাঠামো গৌড়-পরবর্তী আমলের প্রতিরক্ষা স্থাপত্যের এক বিরল নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
    পাশাপাশি থাকা গম্বুজাকৃতির স্থাপনাটি ধর্মীয় কিংবা প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে, যার সুনির্দিষ্ট ইতিহাস আজও গবেষণার অপেক্ষায়। অথচ এই স্থাপনাগুলো আজ প্রায় অচর্চিত, অনেকাংশে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। রহনপুরের এই স্থাপনা প্রমাণ করে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস শুধু রাজকীয় কেন্দ্রিক নয়, বরং সীমান্ত প্রশাসন ও প্রতিরক্ষার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।
    তোহাখানা, মাজার ও জমিদারি ঐতিহ্য গৌড় আমলের তোহাখানা কমপ্লেক্স রাজকীয় জীবনযাত্রার সাক্ষ্য বহন করে। শাহ নেয়ামতুল্লাহ ওয়ালীর মাজার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের আস্থার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ আমলের নাচোল ও কানসাটের জমিদার বাড়ি উপনিবেশিক সমাজব্যবস্থার শক্ত কাঠামোর প্রতিফলন। নীলকুঠি: শোষণের স্মারক-চাঁপাইনবাবগঞ্জের নীলকুঠি ব্রিটিশ শাসনের শোষণনীতির এক নির্মম স্মৃতি। নীল চাষকে কেন্দ্র করে কৃষকদের ওপর নির্যাতন, দমন-পীড়নের ইতিহাস এই স্থাপনাকে করেছে সংগ্রামের প্রতীক। আম, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মানেই আম, ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ। এটি শুধু অর্থনীতির চালিকাশক্তি নয়; জেলার সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ। লোকসংগীত, গ্রামীণ মেলা, ধর্মীয় উৎসব—সব মিলিয়ে এখানকার সংস্কৃতি ইতিহাসের ধারাবাহিক উত্তরাধিকার বহন করে। অবহেলা, না কি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা?
    এত ঐতিহাসিক সম্পদ থাকা সত্ত্বেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আজও পর্যটন ও ইতিহাসচর্চায় প্রান্তিক। রহনপুরের ষাড়বুরুজের মতো স্থাপনা এখনও প্রত্নতাত্ত্বিক তালিকায় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। সংরক্ষণ, গবেষণা ও জনসচেতনতার অভাবে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে ইতিহাসের অমূল্য অধ্যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইতিহাসের নীরব পাঠশালা। গৌড়ের রাজধানী থেকে রহনপুরের ষাড়বুরুজ—এই জনপদ বাংলার সভ্যতা, সংগ্রাম ও সংস্কৃতির ধারাবাহিক দলিল। ইতিহাস সংরক্ষণ মানে শুধু অতীত রক্ষা নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি রাষ্ট্রের দায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সেই দায় স্মরণ করিয়ে দেয়, নীরবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে।