সাবেক মেয়র আইভীকে পাঠানো হল কাশিমপুর কারাগারে

সাবেক মেয়র আইভীকে পাঠানো হল কাশিমপুর কারাগারে

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তারের পর গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় তাকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাঈনুদ্দিন কাদিরের আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন আদালত পুলিশের পরিদর্শক কাইউম খান। নারায়ণগঞ্জ জেল সুপার মোহাম্মদ ফোরকান ওয়াহিদ বলেন, সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঢাকার কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানে কারা তত্ত্বাবধানে থাকবেন। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পোশাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে আইভীকে। পরিদর্শক কাইউম খান বলেন, “তার বিরুদ্ধে কোনো রিমাণ্ড আবেদন করেনি পুলিশ। জামিনও চাওয়া হয়নি। তাকে আদালতে তোলা হলে আদালত হত্যা মামলাটিতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে আইভীকে গ্রেপ্তারের জন্য বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার পৈতৃক বাড়ি ‘চুনকা কুটিরে’ যায় সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল।
পুলিশের এ অভিযানের খবরে তখনই সড়কে নেমে আসেন স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ। রাতভর অপেক্ষার পর সকাল পৌনে ৬টার দিকে শহরের দেওভোগের বাসা থেকে বেরিয়ে পুলিশের গাড়িতে ওঠেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনবারের নির্বাচিত মেয়র। পরে পুলিশের গাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময়ও হাজারো নারী-পুরুষ তার পক্ষে স্লোগান দেন। রাতভর তারা বাড়ির সামনেই ছিলেন। এদিকে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিনা হায়াৎ আইভীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বহন করা পুলিশের গাড়ি বহরে ও কর্মী সমর্থকদের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৯ মে) ভোরে আইভীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় শহরের বি বি রোডের কালির বাজার এলাকায় এ হামলা করে দুর্বৃত্তরা। এসময় তারা পটকা ফুটিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে আইভীকে বহন করা পুলিশের গাড়ির বহরে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিক কারো নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ৬ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা নেয়ামুল আহসান গাজীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ নভেম্বর সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। এদিকে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদ বিলুপ্ত করার পর থেকে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভী। জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হত্যাসহ প্রায় ৬টি মামলা রয়েছে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর বিরুদ্ধে। ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা শাখায় আনা হয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *