চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিবি’র অভিযান
গোমস্তাপুরে মতিন হত্যা মামলার ৩ আসামী গ্রেফতার ॥ ২ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুরে চৌডালা ইউনিয়নের হরিনগর (কালিতলা) গ্রামে মতিন হত্যা মামলার ৩ জন আসামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ২ জন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের এক প্রেসনোটে সোমবার জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার চৌডালা ইউনিয়নের হরিনগর (কালিতলা) গ্রামের শুকুরুদ্দিনের শয়ন ঘরে মতিন তেলি হত্যায় ৩ আসামী কে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২ আসামীর ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছেন। ঘটনার বিবরনে জেলা পুলিশ জানায়, ২ মার্চ/২৫ তারিখ রাত্রী অনুমান ৮টার দিকে বাদীনি মোসাঃ ফেনী এর স্বামী মতিন তেলি বাড়ীর পাশে সাহেবগ্রাম জামে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য নিজ বাড়ী হতে বের হয়ে যায়। নামাজ শেষে মতিন বাড়ীতে ফিরে না গেলে তার পরিবারের লোকজন চারদিকে খোঁজাখুজি করে। একপর্যায়ে গত ৩ মার্চ/২৫ তারিখ রাত্রী অনুমান সাড়ে ১২টার দিকে লোকমুখে সংবাদ পান গোমস্তাপুর থানার চৌডালা ইউপির হরিনগর (কালিতলা) গ্রামস্থ মোঃ শুকুরুদ্দিন এর বাড়ীর শয়ন ঘরের মেঝেতে তার স্বামীর রক্তাক্ত মৃত দেহ পড়ে আছে। সংবাদ পেয়ে মতিনের পরিবারের লোকজন শুকুরুদ্দিন এর বাড়ীতে গিয়ে দেখতে পান মতিনের ক্ষতবিক্ষত লাশ। পরে এঘটনায় আরশাদ ওরফে আশা বইরার ছেলে মোঃ শুকুরুদ্দিন (৪২), শুকুরুদ্দিন এর স্ত্রী মোসাঃ পিয়ারা বেগম (৩৫), ছেলে মোঃ পিয়ারুল ইসলাম ওরফে জিয়ারুল (২৩) অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জন পরস্পর যোগসাজস করে শুকুরিুদ্দিন এর বাড়ীতে ডেকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে তার মতিনকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মতিনের স্ত্রী মোসাঃ ফেনী (গোমস্তাপুর থানার মামলা নং-০১/৩৮,তারিখ-০৩/০৩/২০২৫)। উক্ত মামলার আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহিন আকন্দ এর সার্বিক তত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ সাজজাদ হোসেন এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এর একটি চৌকস টিম ঘটনার পর হতেই জোর তৎপরতা শুরু করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত টিমের সদস্যরা ছদ্মবেশ ধারণ করতঃ অভিযান পরিচালনা করে ৯ মে মানিকগঞ্জ সদর থানা এলাকা হতে হত্যায় জড়িত আসামী মোঃ শুকুরুদ্দিন (৪২), মোসাঃ পিয়ারা বেগম (৩৫) এবং মোঃ পিয়ারুল ইসলাম ওরফে জিয়ারুল (২৩), কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা স্বীকার করে, মৃত মতিন তেলি তেল বিক্রয়ের পাশাপাশি কবিরাজি করতো। পিয়ারা বেগমের পেটের ব্যাথা হলে তা ডাক্তারি চিকিৎসায় ভালো না হলে মতিন তেলির কবিরাজিতে সুস্থ হয়। এরপর হতে ঐ পরিবারের বিভিন্ন অসুখ বিসুখ ছাড়াও কারণে অকারণে মতিন তেলির আসা যাওয়া ছিলো। এসুযোগে মতিন তেলি পিয়ারা বেগমের সাথে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। একপর্যায়ে অবৈধ সম্পর্ক থেকে বের হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে পিয়ারা বেগম। কিন্তু মতিন তেলির কারণে তা সম্ভব হয়নি। ঘটনার দিন অর্থাৎ ০২ মার্চ/২৫ তারিখে পিয়ারা বেগম আবার পেটের ব্যাথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ঐদিন রাত্রী অনুমান পৌনে ৮টার দিকে মতিন তেলি চিকিৎসার করার জন্য আসে। কবিরাজি চিকিৎসার জন্য মিষ্টি লাগবে বলে পিয়ারা বেগমের স্বামী শুকুরুদ্দিনকে স্থানীয় বাবু বাজারে মিষ্টি কিনতে পাঠায়। এসময় পিয়ারা বেগমের ছেলে পিয়ারুল বাড়ীতে না থাকায় মতিন তেলি সুযোগ বুঝে পিয়ারা বেগমের সাথে জোর পূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পিয়ারা বেগম মতিন তেলিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। ইতোমধ্যে শুকুরুদ্দিন মিষ্টি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সে নিজেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মতিন তেলিকে কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে মতিন তেলি রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে গেলে আসামীরা তাদের ছেলে পিয়ারুলকে মোবাইলে ডেকে এনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আসামী শুকুরুদ্দিন ও পিয়ারা বেগম ঘটনার বিষয়ে নিজেদেরকে জড়িয়ে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন।

Leave a Reply