নাচোল-রাজবাড়ী আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারের কাজ ফেলে লাপাত্তা ঠিকাদার ॥ জনদুর্ভোগ চরমে!
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নাচোল-রাজবাড়ী আঞ্চলিক সড়ক সংস্কারের কাজ ফেলে পালিয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। ফলে জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। এঘটনায় ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও পথচারীরা। রাস্তা সংস্কার কাজ ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা হাজারও মানুষ। প্রায়শই ঘটছে দূর্ঘটনা। দ্রুত রাস্তা সংস্কার কাজ শেষ করার দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, কাজের সময় সীমা ১৮ মাস। কিন্ত সে কাজ দুই মাস করার পর ফেলে রেখে চলে গিয়েছেন ঠিকাদার। কাজের মেয়াদও শেষ হয়েছে। গত বছরের আগস্টে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পরই গা ঢাকা দেন ঠিকাদারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোকজন। এতে সড়ক সংস্কার কাজও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, এলজিইডির অধিনে এডিবি ও জিওবির অর্থায়নে নাচোল থেকে রাজবাড়ী বাজার শেষ সীমানা পর্যন্ত ২ হাজার ২২০ মিটার (২ দশমিক ২২ কিলোমিটার) সড়ক সংস্কারের কাজ পেয়েছিল কুমিল্লার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোস্তফা জামান প্রাইভেট লিমিটেড’। সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়ে ছিল প্রায় তিন কোটি টাকা। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সড়কের কাজ শুরু হয়। আর ২০২৫ সালের জুন মাসের ৫ তারিখ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজের শুরুতে সড়কের পুরো অংশে ইটের খোয়া বিছিয়ে দেয়। এরপর থেকে এখনও কাজ শেষ হয়নি। এদিকে, বিছানো খোয়া ইতিমধ্যে উঠে গিয়ে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ ও মৃত্যু ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। নাচোল সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে দুই মাস কাজ করে ঠিকাদার উধাও হয়ে যান। তারপর কয়েক মাস আগে কাজ করার জন্য যন্ত্রপাতি নিয়ে এলেও অজানা কারণে শুরু হয়নি। এখনো পড়ে আছে রাস্তার কাজ। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কোন খোঁজ-খবর নেই। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, রাস্তা সংস্কার কাজ ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ায় বেকায়দায় পড়েছে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা হাজারও মানুষ। প্রায়শই ঘটছে দূর্ঘটনা। স্থানীয় বাসিন্দা সাদিক বলেন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম এ সড়কটি দিয়ে নাচোল উপজেলার লোকজন ছাড়াও নিয়ামতপুরের লোকজন প্রতিনিয়ত যাতায়াত করেন। এব্যাপাওে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোস্তফা জামান প্রাইভেট লিমিটেডের মালিক লিটন আলী বিদেশে পলাতক থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সাব ঠিকাদার জাকারিয়া এন্টারপ্রাইজের জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘বেসিক প্ল্যান্ট মেশিন না পাওয়া ও আবহাওয়ার জটিলতার কারণে কাজটি সময়মতো করা যায়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলাম। তারা চার মাস সময় বেঁধে দিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কাজটি আমাদের শেষ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত রাস্তা সংস্কার কাজ শেষ করার দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।

Leave a Reply