বরেন্দ্র জনপদ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বর্ষার মনকাড়া সেই কদম ফুল!

বরেন্দ্র জনপদ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বর্ষার মনকাড়া সেই কদম ফুল!

বরেন্দ্র জনপদ থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে বর্ষাকালের বাহারি ফুলের রানী সেই চিরচেনা কদম ফুল! প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে চলছে বর্ষা মৌসুম। এই মৌসুমে বৃষ্টি যেমন প্রকৃতিতে সূচি শুদ্ধতা দিয়ে আসে, তেমনি বর্ষার অলংকার হিসেবে কদমফুল তার আপন মহিমায় নিজেকে সৌন্দর্য সবটুকু দিয়ে মেলে ধরে। ষড়ঋতুর এ দেশে আষাঢ়-শ্রাবণ এই দুই মাস বর্ষা কাল; কিন্তু দিন দিন প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা বর্ষার স্মারক সেই কদম ফুল। বর্ষাকালের বাহারি ফুলের রানী কদম ফুল সে তো সবারই চেনা জানা। গাছে গাছে সবুজ পাতার ডালে গোলাকার মাংসল পুষ্পাধার। আর তার থেকে বের হওয়া সরু হলুদ পাপড়ির মুখে সাদা অংশ কদমকে সাজিয়ে তুলেছে ভিন্ন ভাবে। গোলাকার হলদে-সাদা মিশ্রিত ফুলটি দেখতে যেন ভোরের উষা। বর্ষার মেঘের সঙ্গে মিতালি বলেই এর আরেক নাম মেঘাগমপ্রিয়। আর নারীর সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলনা করে অনেকেই বলে ললনাপ্রিয়। এ ছাড়াও স্থান কাল পাত্র ভেদে বিভিন্ন নামেও কদমের পরিচিতি রয়েছে। বরেন্দ্র জনপদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচটি উপজেলাসহ বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে কদম গাছ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় গাছে গাছে ফুল আর শোভা পাচ্ছে না। কদম ফুলের মৌ মৌ গন্ধে আর আগের মত দৃষ্টিনন্দন রুপ সবার নজর কাড়ছে না। বর্ষার অনুভূতি ও অপরূপ সৌন্দর্যের দাবিদার কদম ফুলের ঐতিহ্য এখন মানুষ ভুলতে বসেছে। এমনকি কালের বিবর্তনে কদম ফুল গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এইতো মাত্র দুই তিন দশক আগেও আষাঢের কলম গাছ ফুলে ফুলে ভরে থাকত। কদম ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য ফুল পিপাসুদের তৃপ্তি মিটাতো। তরুণ-তরুণীরা কদম ফুল তাদের প্রিয়জনকে উপহার দিত। মেয়েরা পরতো খোঁপায়। খেলায় মেতে উঠত শিশুরা। সর্বোপরি প্রাকৃতিক সৌখিন ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় সম্ভব হলে প্রত্যেক বাড়ির আঙিনায় একটি করে কদম গাছ লাগানো জরুরী বলে স্থানীয় পরিবেশবিদ ও পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *