বর্ষায় ছাতা কারিগরদের ব্যস্ততা বাড়লেও তাদের দুর্দিন চলছে
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে গোমস্তাপুর সহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলা ও ৪টি পৌর শহরের ছাতা কারিগররাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। সারা বছর গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর হাট, রহনপুর রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম, নাচোল বাজার সহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ছাতা মেরামতের কাজ করে কারিগররা। তবে বর্ষাকালে রহনপুর রেলস্টেশন প্লাটফর্ম বড়বাজার গোমস্তাপুর বাজারসহ বিভিন্ন হাটবাজারে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসে মৌসুমী কারিগররা ছাতা মেরামত করছে। এসব স্থানে নষ্ট ছাতা মেরামত করতে লোকজনের ভিড় করছেন। কারিগরদের ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। তারা নাওয়া-খাওয়া ভুলে সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা কাজ করে যাচ্ছেন। রহনপুরের সোমবারের হাটে কয়েকজন ফুটপাতে ছাতা মেরামতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

এদিকে হুজরাপুরের নবী দীর্ঘ ২০/২৫ বছর ধরে ছাতা মেরামতের কাজের সঙ্গে যুক্ত। নবী বলেন, বৃষ্টির দিনে ছাতা মেরামতের কাজ একটু বেশি হয়। এসময় ৪/৫ শত টাকা রোজগার করা যায়। ছাতা মেরামতে ব্যস্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানান,টানা বৃষ্টির দিনগুলিতে ১০/১২ শত টাকা থেকে দুই হাজার টাকার কাজ করেছি। তবে অন্য সময় তেমন একটা কাজ থাকে না। আব্দুল্লাহ নামের অপর একজন জানান, বর্ষা মৌসুমে কাজ ভালই হয়। তবে ছাতা মেরামতের সামগ্রীর দাম বেড়েছে আর বাজার পরিস্থিতির কারণ একান্ত বাধ্য হয়ে মুজুরিও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাতা মেরামত করতে আসা ব্যক্তি জানান, ছেলে-মেয়েরা বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। এখন বৃষ্টির সময়। বাতাসে ছাতার শিক ভেঙ্গে গেছে, তাই স্কুল ও প্রাইভেট পড়তে গেলে বৃষ্টিতে তাদের ভিজতে হয়। ফলে ছেলেমেয়েদের জন্য ছাতা দুইটা মেরামত করতে এসেছি। গোমস্তাপুর বাজারের ছাতার কারিগর ছোট আবদুল্লাহ বলেন, ছাতার কারিগরদের দুর্দিন চলছে। তাই অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। আবার অনেকে পূর্বপুরুষের এ পেশা ছাড়তেও পারেনি। পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। এ পেশায় কেউ আসতে চায় না। তাই দিন দিন এই পেশার কারিগররা হারিয়ে যাচ্ছে।
Leave a Reply