সাংবাদিক তুহিন হত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ॥ ক্ষুদ্ধ মিডিয়াকর্মীরা
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সারাদেশের সাংবাদিক সমাজ। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ আইন প্রণয়ন এবং নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবিতে শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাভার প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাভার প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি নাজমুল হুদা বলেন, “তুহিনের হত্যা শুধু একজন সাংবাদিকের প্রতি নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের বিরুদ্ধে হুমকি। দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।” বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক ইমদাদুল হক, নির্বাহী সদস্য আকলাকুর রহমান, একুশে টিভির শাহেদ জুয়েল, গ্লোবাল টিভির তোফায়েল হোসেন তোফাসানী, এটিএন বাংলার শেখ আবুল বাশার প্রমুখ। তারা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বারহাট্টা প্রেসক্লাবের আয়োজনে শনিবার প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি শামছ উদ্দিন আহমেদ বাবুল বলেন, “তুহিনের হত্যার বিচার যেন সাগর-রুনির হত্যার বিচারের মতো ঝুলে না থাকে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক ফারুক, ফেরদৌস আহমেদ বাবুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির নয়ন, নারী প্রগতি সংঘের মাজহারুল ইসলাম মাজু প্রমুখ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।
দুমকি উপজেলায় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় নতুন বাজারে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ব্যানারে মানববন্ধন হয়। সভাপতি এম আমির হোসেনের নেতৃত্বে ও আরিফ হোসেন আরাফার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ডেইলি প্রেজেন্ট টাইমসের মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ইত্তেফাকের অধ্যক্ষ জামাল হোসেন, সমকালের এবাদুল হক, দিনকালের সাইদুর রহমান খান প্রমুখ। একই দিন সাড়ে ১১টায় এশিয়ান টিভির আবুল হোসেনের নেতৃত্বে আরেকটি মানববন্ধন হয়, যেখানে আমার দেশের কামাল হোসেন, যুগান্তরের সহিদুল ইসলাম সরদার, ভোরের কাগজের হারুন অর রশিদ বক্তব্য রাখেন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর উদ্যোগে শনিবার সকালে ফেনী শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন হয়। সভাপতি সিদ্দিক আল মামুনের নেতৃত্বে ও ইয়াছিন সুমনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, এবি পার্টির ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম বাদল, ইসলামী আন্দোলনের গাজী এনামুল হক ভূঁইয়া, বাংলাভিশনের রফিকুল ইসলাম, আরটিভির আজাদ মালধার প্রমুখ। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা এতে অংশ নেন।
কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শনিবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা হয়। সভাপতি সরকার আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে ও সেলিম হোসেন সানির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন দৈনিক কালের কণ্ঠের এম মাহবুব হাসান মেহেদী, আমার দেশের আব্দুল আলীম অভি, আরটিভির কামাল হোসেন বিপ্লব, মোহনা টিভির আলহাজ হোসেন প্রমুখ। তারা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
নবীনগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে শনিবার দুপুর ১টায় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে মানববন্ধন হয়। সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তির নেতৃত্বে ও শাহনূর খান আলমগীরের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি তাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মাহাবুব আলম লিটন, শ্যামা প্রসাদ চক্রবর্তী, জালাল উদ্দিন মনির, সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু প্রমুখ।
পলাশ উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার সকালে মানববন্ধন হয়। সভাপতি মো: হাজী জাহিদ বলেন, “তুহিনের হত্যা সাংবাদিকদের নিরাপত্তাহীনতার প্রমাণ। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।” বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নূরে-আলম রনি, জাহাঙ্গীর কবির, আল-আমিন মিয়া।
পীরগঞ্জ প্রেসক্লাবের আয়োজনে শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাবের সামনে এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। সভাপতি জয়নাল আবেদীন বাবুল, সাধারণ সম্পাদক নসরতে খোদা রানা, রানীশংকৈল প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফুল আলম, দৈনিক ইত্তেফাকের মেহের এলাহী, ফজলুল কবির প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে শনিবার সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন হয়। এখন টেলিভিশনের নাসিম শুভর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বৈশাখী টিভির লিয়াকত আলি খান, ৭১ টেলিভিশনের মিজানুর রহমান, এস এ টেলিভিশনের আব্দুর রহিম বাবুল, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আকবর হোসেন প্রমুখ। সোনাইমুড়ি, বেগমগঞ্জ ও কবিরহাটেও মানববন্ধন হয়।
ভালুকা প্রেসক্লাবের আয়োজনে শনিবার দুপুরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানববন্ধন হয়। সভাপতি এমএ মালেক খান উজ্জল বলেন, “দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।” বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান পাঠান কামাল, যুগান্তরের জহিরুল ইসলাম। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।
শ্রীনগরে বিক্রমপুর টেলিভিশন জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ও শ্রীনগর প্রেসক্লাবের আয়োজনে শনিবার সকাল ১১টায় ডাকবাংলো মোড়ে মানববন্ধন হয়। বক্তব্য রাখেন এম তরিকুল ইসলাম, শ্রীনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন, শেখ আসলাম, আসাদুজ্জামান জীবন, মেহেদী হাসান সুমন প্রমুখ।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে গাছবাড়িয়া কলেজ গেইট চত্বরে শনিবার সকালে তিন ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। প্রবীণ সাংবাদিক মাষ্টার নুরুল আলমের সভাপতিত্বে ও জাবের বিন রহমান আরজুর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মাওলানা মোজাহেরুল কাদের, আবিদুর রহমান বাবুল, এসএম মহিউদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম প্রমুখ।
নড়াইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে শনিবার সকাল ১১টায় প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন হয়। সভাপতি এস এম আব্দুল হক, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, আজিজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম তুহিন, মলয় কান্তি নন্দী বক্তব্য রাখেন। লাকসাম প্রেসক্লাবের আয়োজনে শনিবার বিকেলে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কে মানববন্ধন হয়। সভাপতি নুর উদ্দিন জালাল আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল উদ্দিন, আবুল হোসেন বাবুল, মোঃ শহিদুল ইসলাম শাহীন বক্তব্য রাখেন।
দেবিদ্বারে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের স্বাধীনতা চত্বরে মানববন্ধন হয়। বক্তব্য রাখেন দৈনিক কালের কণ্ঠের এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সমকালের সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল, মুক্ত খবরের মো. ময়নাল হোসেন, নয়া দিগন্তের মো. ফখরুল ইসলাম সাগর প্রমুখ।
গুরুদাসপুর শাপলা চত্বরে শনিবার সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন হয়। চলনবিল প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএম আলী আক্কাস, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান, আবুল কালাম আজাদ বক্তব্য রাখেন। তারা তুহিনের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানান। সাংবাদিকরা একযোগে বলেন, তুহিনের হত্যা দেশের সাংবাদিক সমাজে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত বিচার আইনে শাস্তি, সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।
পাটগ্রামে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় চৌরঙ্গী মোড়ে মানববন্ধন হয়। ইফতেখার আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন পাটগ্রাম পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল হক প্রধান, পাটগ্রাম উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও মিডিয়া প্রচার সম্পাদক মাসুদ আলম, চরমোনাই নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক কামরান হাবিব, আব্দুল মান্নান, শহিদুল ইসলাম, সাইফুল সবুজ প্রমুখ।
সদরপুরে শনিবার সকাল ১১টায় উপজেলা চত্বরে মানববন্ধন হয়। বক্তব্য রাখেন সাব্বির হাসন, শিমুল তালুকদার, আবুর বাসার মিয়া, সাঈদুর রহমান লাভলু, প্রভাত কুমার সাহ, তানভীর তুহিন। সাংবাদিকরা একযোগে বলেন, তুহিনের হত্যা দেশের সাংবাদিক সমাজে গভীর উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচার আইনে শাস্তি, সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের বাস্তবায়ন এবং নিহতের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তার দাবি জানান।
Leave a Reply