নিয়ামতপুরে ছুটির দিনে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার-মাছ ধরায় মত্ত্ব কর্মকর্তারা

নিয়ামতপুরে ছুটির দিনে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার-মাছ ধরায় মত্ত্ব কর্মকর্তারা

নওগাঁর নিয়ামতপুরে সরকারি ছুটির দিনে তিন থেকে চারটি সরকারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে একটি চাষকৃত মাছের পুকুরপাড়ে। সেখানে প্রশাসনের কয়েকজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মেতে ছিলেন মাছ ধরায়। ছুটির দিনে সরকারি গাড়ি নিয়ে মাছ শিকারে গিয়ে বিতর্কে পড়েছেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। শনিবার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১ টায় উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আঘোর গ্রামের একটি দিঘিতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পুকুর পাড়ে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য মৎস্য চাষী রাসেল টিকিটের মাধ্যমে একেকটি ঘাট বিক্রয় করে থাকেন। একটি পুকুরে ১০ থেকে ১৫ টি ঘাট বানানো হয়। সেখানে বসে থেকে কয়েক জন মিলে মাছ ধরা যায়। একেকটি ঘাট দুই দিনের জন্য ২০ হাজার টাকায় বিক্রয় করেছেন তিনি। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সরকারি গাড়ি এভাবে ব্যক্তিগত বিনোদনে ব্যবহার করা শুধু অনিয়ম নয়, এটি সরাসরি সরকারি আইন ও নিয়মের লঙ্ঘন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনগণের মধ্যে নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে পড়বে বলে দাবি স্থানীয়দের। পুকুরপাড়ে মাছ ধরতে দেখা যায় নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক ও পত্নীতলা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল মিয়া। লিজগ্রহীতা মৎস্যচাষী রাসেল বলেন, পুকুরটি আমি লিজ নিয়ে মাছ চাষাবাদ করেছি। সাধারণ মানুষকে দুই দিনের জন্য বড়শি ফেলে মাছ ধরার জন্য ঘাট প্রতি ২০ হাজার টাকা নিয়েছি। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সেখানে কোনো খরচ ছাড়াই মাছ ধরতে আসেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম বলেন, এটি সরকারি দিঘি, তাই আমরা ছুটির দিনে মাছ ধরতে গিয়েছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মাছ ধরার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। এঘটনায় প্রশাসন ও এলাকার সচেতন মানুষের পাশে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *