চাঁপাইনবাবগঞ্জে যুবক অপহরণ-মুক্তিপণ দাবী ॥ পুলিশের অভিযানে ভিক্টিম উদ্ধারসহ আটক-৫
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে সিনেমার দৃশ্যকেও হার মানানো এক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের তৎপরতায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভিকটিমকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের প্রেসনোট সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম মোঃ সানি আহম্মেদ (২৫), পিতা-মোঃ শাওবান হোসেন, শিবগঞ্জের দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাগবাড়ী বাজারে মুদি দোকান চালাতেন। প্রতিদিনের মতো ১৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি বন্ধু মোঃ দুলাল বাবু (২৯) ও মোঃ সোহেল রানা (২৭)-এর সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু রাত ১০টা ১৫ মিনিটে বাগবাড়ী ফিল্ড বাজার মোড়ে পৌঁছালে ৮-৯ জন দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে। মুহূর্তের মধ্যে সানিকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। তার দুই বন্ধু প্রাণে বেঁচে দ্রুত বাড়িতে ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। একটানা চিরুনি অভিযানের পর অবশেষে ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোবারকপুর ইউনিয়নের গোলাপ বাজার এলাকা থেকে সানিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলো, মোঃ আরিফ হোসেন (২৫), মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন (২৫), মোঃ আল আমিন (২২), মোঃ রাজু (২৩) ও মোঃ রাজু হোসেন (২৪)।

এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে অপহরণে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও (রেজি: ঢাকা মেট্রো-চ-১৫-২৫০০) জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা শ্যামলী বেগম শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার উল্লেখ্য করা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ব্যবসার কাজে বাজারে গেলে শ্যামলী বেগমের ছেলে সানি আহমেদকে (২৫) স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র অপহরণ করে। এসময় তাকে মারধর করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। পরে তাকে নির্জন স্থানে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। আরও বলা হয়, অপহরণকারীরা ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা বেশি চাঁদা দাবি করে। এবিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ গোলাম কিবরিয়া জানান, সানি আহম্মেদ নামে একটি ছেলে অপহরণের উদ্দেশ্যে একটি সাদা মাইক্রোবাসে বেশ কয়েকজন তুলে গিয়ে যায় এমন সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে। পরে মোবারকপুর ইউনিয়ন গোলাপ বাজার এলাকায় মাইক্রো বাস সহকারে ওই ৫জনকে গ্রেফতার করে এবং সানি আহম্মেদকে উদ্ধার করেন। গানির মা বাদি হয়ে ৮জনের নামসহ আরো ৩/৪জনকে আসামী করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং অন্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। এব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বিপিএম (সেবা) বলেন, “ধারের টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধের জেরেই এ অপহরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।” এদিকে, সানি আহম্মেদকে জীবিত উদ্ধারের খবর এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

Leave a Reply