আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া ডিগ্রী কলেজ ‎সভাপতির পদত্যাগ ও অধ্যক্ষের দূর্নীতির বিচার দাবিতে মানববন্ধন

আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া ডিগ্রী কলেজ ‎সভাপতির পদত্যাগ ও অধ্যক্ষের দূর্নীতির বিচার দাবিতে মানববন্ধন

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া ডিগ্রী কলেজের সভাপতির পদত্যাগ এবং অধ্যক্ষের দূর্নীতির বিচার দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে। মঙ্গলবার বান্দাইখাড়া বাজারে কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে বান্দাইখাড়া বাজারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বান্দাইখাড়া ডিগ্রী কলেজের ডিগ্রী ২য় বর্ষের ছাত্র রাকিব হোসেন, ১ম বর্ষের ছাত্র শফিক আহম্মেদ, হাটকালুপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী সরদার মজনু, মিজানুর রহমান ও আব্দুল লতিফসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ অংশ নেয়। ‎মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কলেজের বর্তমান সভাপতি আশরাফুল ইসলাম গেন্দু “অবৈধভাবে” সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা এই “অবৈধ” সভাপতির পদত্যাগ চাই। এছাড়া কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন কলেজের বিভিন্ন ফান্ড থেকে অর্থ আত্মসাৎ এবং নানা অনিয়ম দূর্নীতি করে চলেছেন। আমরা এই দূর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই। ‎বক্তারা আরও বলেন, কলেজের গভর্নিং বডিতে সভাপতি ও বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়নে অনিয়ম, কলেজের জমি লিজ দিয়ে দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ, কলেজের প্রায় দুই লক্ষাধীক টাকার গাছ বিক্রি করে পরে জরিমানা দেয়া এবং কলেজের নিজস্ব ভবন নির্মাণে অনিয়ম, শিক্ষার্থীর নিকট থেকে আয় করা সিংহভাগ অর্থ আত্মসাৎ এবং কলেজের ইংরেজী বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের তিন মাসের বেতন উত্তোলন করে আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয়ে সম্প্রতি আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। আমরা দাখিলকৃত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তসহ দ্রুত বিচার দাবি জানাচ্ছি। ‎এব্যাপারে কলেজের গভর্নিংবডির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম গেন্দু বলেন, সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনেই আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়নি। এর পরেও যদি তদন্তে কোন অনিয়ম পায়, তাহলে পদত্যাগ করে চলে যাবো। ‎কলেজের অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, গাছকাটার যে অভিযোগ রয়েছে, তা জরিমানা দিয়ে সমাধান করা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। ‎এব্যাপারে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, এঘটনায় শুধু আমাকে নয়, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসক বরাবরও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি সবার সাথে সমন্বয় করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *