শেখ হাসিনা বড় নেমকহারাম এবং মোনাফেক
৫ আগস্টের জনবিস্ফোরণ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতির জবাব-ফারজানা শারমিন পুতুল
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার সাবেক পাকা ইউনিয়নে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালি ও পথসভায় আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন বিএনপির উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ও প্রয়াত মন্ত্রী ফজলুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, স্পেশাল এসিস্টেন্ট টু দ্য চেয়ারপার্সন্স ফরেন এফেয়ার্স এডভাইসরি কমিটি ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য, লালপুর-বাগাতিপাড়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিঃ ফারজানা শারমিন পুতুল। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষে ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে পথসভা ও গন সংযোগ করেন। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এই কর্মসূচিতে তিনি শেখ হাসিনাকে ‘নেমকহারাম ও মোনাফেক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “তার মতো মোনাফেক এ দেশে আর জন্মায়নি, জন্মাবেও না।” প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুতুল বলেন, গত ১৫-১৭ বছরে আওয়ামীলীগ সরকার দেশের প্রতিটি মানুষকে দমন-পীড়নের শিকার করেছে। কীভাবে একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হয়, তা তারা দেখিয়েছে। ৫ আগস্টের জনবিস্ফোরণ ছিল সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতির জবাব। ওই দিন প্রমাণ হয়েছে, আর কোনো স্বৈরতন্ত্র বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা পাবে না। তিনি আরও বলেন, “জুলাই মাসে ৩৬ দিনের অভ্যুত্থান আন্দোলন ছিল ১৭ বছরের নির্যাতন-নিপীড়নের ইতিহাস। সেই গর্জনের ফলে ৫ আগস্টের পর স্বৈরাচার দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। যিনি নিজেকে ‘জননী’ বলে পরিচয় দিতেন, তিনি নিজের কর্মীদের ফেলে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এত বড় নেমকহারাম, এত বড় মোনাফেক বাংলাদেশে আর কেউ জন্মায়নি, জন্মাবেও না।” বিএনপির এই নেত্রী জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশকে রক্ষার একমাত্র উপায় হচ্ছে বিএনপি, ধানের শীষ এবং তারেক রহমানের নেতৃত্ব। আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান না থাকলে বাংলাদেশ বাকশালের শৃঙ্খলে বন্দি থাকত। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে সেই গণতন্ত্রের যাত্রা আবার শুরু হয়েছে।” র্যালি ও পথসভায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন যানবাহনে দলে দলে যোগ দেন। পতাকা ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ইউনিয়নের চারটি সভাস্থল। পুতুল বলেন, এখন সময় এসেছে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর। আমরা যে নির্যাতনের শিকার হয়েছি, তার জবাব জনগণ রাস্তায় নেমে দিয়েছে। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কর্মসূচিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন, সদস্য সচিব হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। উপস্থিত সবাই ব্যারিস্টার পুতুলকে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সমর্থন জানান।

Leave a Reply