চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ওসি’র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, আ’লীগপ্রীতি-দালালপ্রীতি ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানীর অভিযোগ

মানেন না এসপি’র আদেশও

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ওসি’র বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, আ’লীগপ্রীতি-দালালপ্রীতি ও সেবা গ্রহীতাদের হয়রানীর অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, আওয়ামীলীগপ্রীতি-দালালপ্রীতি ও এজাহার-অভিযোগ পরিবর্তন ও পরামর্শ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যায়কারীদের বাঁচাতে ভুল-ভাল বুঝিয়ে পরামর্শ দিয়ে অভিযোগ, এজাহার, জিডি করিয়ে নেয়ারও অভিযোগ নানা ভূক্তভোগীর। অনেক ক্ষেত্রেই মানেন না পুলিশ সুপারের নির্দেশনাও। টাকা ছাড়া মেলেনা কোন সেবাই। থানায় সালিসের নামেও চলে আর্থিক লেনদেন। সালিস খরচের নামে চলছে নীরব অর্থ আদায়। আওয়ামীলীগের অনেক নেতার সাথে সখ্যতা এবং তাদের থানায় নিয়ে বসে নানা তদবির ও পরামর্শ করারও অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে। থানায় দালালদের ভীড়ে অতিষ্ট সেবা প্রার্থীরা। ওসি মতিউর রহমানকে বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে বলা হলেও তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আওয়ামীলীগের লোকজনকে রীতিমত পৃষ্ঠপোষকতা করে চলেছেন বলেও জানা গেছে। তবে, ওসি মতিউর রহমান গুছিয়ে এবং ঠান্ডা মাথায় কথা বলে নিজের স্বার্থমত কাজ করে নিতে পারেন, এটা তাঁর একটা বিশেষ গুন। দেশী অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ভাড়াটিয়া হয়ে গিয়ে একটি পরিবারের উপর হামলা, মহিলাদের উপর শারিরিক নির্যাতন, পরনের কাপড় কেড়ে নিয়ে শ্লীলতাহানী, প্রাননাশের হুমকী দিলেও বিষয়টি কে এহাজার বা মামলা না নিয়ে সন্ত্রাসীর পক্ষে পরামর্শ দিয়ে জিডি এন্ট্রি করিয়েছেন বলেও অভিযোগ ভূক্তভোগীর। কোন ভূক্তভোগী থানার আইনী সেবা নিতে গেলেই ভূক্তভোগীর বিপরিত পক্ষের সাথে দালালের মাধ্যমে দ্রুত যোগযোগ করে ভূক্তভোগীদের নানাভাবে প্রভাবিত করে থাকেন ওসি। এমন অভিযোগের পাহাড় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে। ওসির পরামর্শ বা নির্দেশের বাইরে কোন মামলার সঠিক বা নিরপেক্ষ তদন্ত বা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় অসন্তষ্ট থানার অধিকাংশ অফিসারও। আর্থিক সুবিধা নিয়ে অন্যায়কারীর পক্ষে পরামর্শ দিয়ে এজাহার বা জিডি লিখে নিয়ে তারপর মামলা, এজাহার বা জিডি এন্ট্রি করারও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে গভীর রাত পর্যন্ত দালালদের নিয়ে আড্ডা দেয়ার অভিযোগও। এতে সেবাগ্রহিতারা হচ্ছেন বঞ্চিত এবং অবহেলিত এবং নির্যাতিত। টাকা ছাড়া মেলেনা কোন সেবা। টাকা দিলেই পক্ষে-বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগও অনেক। প্রতিপক্ষের কাছে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে ঈদের আগের রাতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করে নিয়ে এসে নানাভাবে একটি পরিবারের উপর নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে। রয়েছে মিডিয়াকর্মীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন ও উল্টো-পাল্টা পরামর্শ দেয়ার ঘটনাও। থানায় গিয়ে আইনী সঠিক সেবা না পেয়ে ক্ষুদ্ধ সেবাগ্রহীতারা। এমন ওসির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা রাত ৭টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা এলাকার মহাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে (একটি মামলার জের ধরে) বাড়িতে সন্ত্রাসী কাজে ভাড়াটে হয়ে গিয়ে অন্য গ্রাম ঝিলিম ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গার সন্ত্রাসী আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মনিরুল ইসলাম মনি মেম্বার (সাবেক) ১৫ থেকে ২০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মহাডাঙ্গার মৃত ধুল্লুর রহমানের ছেলে মোঃ ছবির বাড়িতে গিয়ে পরিবারের নারী-পুুরুষসহ পুরো পরিবার ও সেখানে থাকা আত্মীয়দের উপর হামলা চালায় এবং ভাংচুর করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এসময় সেখানে থাকা ওই পরিবারের আত্মীয়সহ বেশ কয়েকজন মহিলার পরনের কাপড় টেনে ফেলে দিয়ে শারিরীক নির্যাতন চালানো হয়। বাড়ি ঘিরে রাখে কয়েক ঘন্টা। পরবর্তীতে এলাকার লোকজন গিয়ে তাদের সাথে প্রতিবাদ করলে স্থানীয় কয়েকজনকেও মারধর করে তারা, পরে প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। হামলা-মারপিটের ঘটনা নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করলে এলাকার বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেয়ারও হুমকী দেয় এবং স্থানীয়দের ধাওয়া করে। উল্লেখ্য, হামলার ঘটনার ২দিন আগে পূর্বের একটি মামলার বিষয় নিয়ে মামলার বাদী ‘ফেরদৌসী এবং বিবাদী কেতাবুল ইসলামের স্ত্রী নাসিমা’ দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মনি মেম্বারের সাথে কোন প্রকার ঝামেলা না থাকলেও কেতাবুল ইসলামের পক্ষে ভাড়াটে হয়ে ভূক্তভোগী পরিবারের উপর হামলা চালায় সন্ত্রাসী মনি ও তার লোকজন। এঘটনায় হামলার শিকার ওই পরিবারের লোকজন, স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে থানায় গেলে শুরু হয় নানা টালবাহানা। প্রথমে ওসি মতিউর রহমানের সাথে দেখা করে ঘটনার কথা তুলে ধরলে অভিযোগ দেয়ার কথা বলেন ওসি। সন্ত্রাসী মনি মেম্বারের পক্ষ থেকে তদবিরের (অজ্ঞাত সুবিধা নিয়ে) কারণে ঘন্টাখানেক পর অভিযোগ বাদ দিয়ে জিডি করার জন্য বলেন। শেষ পর্যন্ত অভিযোগ না নিয়ে জিডি এন্ট্রি করে ভূক্তভোগীদের পাঠিয়ে দেন থানা থেকে। এঘটনায় শারিরিকভাবে নির্যাতিতা ও শ্লীলতাহানির শিকার ফেরদৌসি বেগমের বোন শহরের মৃধাপাড়ার মৃত রবিউল ইসলামের স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে থানায় জিডি করেন। জিডি নম্বর-১৫১৯, তারিখ-২৫-০৯-২৫। এঘটনায় কয়েকজন মিডিয়াকর্মীও ওসিকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার কথা বললেও কোন কর্ণপাত করেন নি ওসি। এঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এঘটনার সঠিক বিচার ও সদর থানার ওসির এমন অবিচারের ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছেন ভূক্তভোগী পরিবার। এঘটনায় শারিরিকভাবে নির্যাতিতা ও শ্লীলতাহানির শিকার ফেরদৌসি বেগমের বোন শহরের মৃধাপাড়ার মৃত রবিউল ইসলামের স্ত্রী মোসাঃ মর্জিনা বেগম জানান, আমার বোনের ছেলের আত্মহত্যা প্ররোচনার বিষয়ে নিয়ে একটি মামলা হয়। ঘটনার বাদি ফেরদৌসি বেগম ও বিবাদী কেতাবুল ইসলাম সম্পর্কে ভাই বোন। সেই মামলার বিষয় নিয়ে গত ২দিন আগে ফেরদৌসির বাড়ি পার্শে ভাবি-ননদের মধ্যে ঝগড়া হয়, হাতাহাতিও হয়। ঘটনার পর থেকে কেতাবুল ও তার ছেলেরা ফেরদৌসি বেগম ও তার পরিবারকে হুমকী দিতে থাকে। এঘটনা শুনে আমি সেখানে যায়। আমার বোনের সাথে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই ১৫-২০ জন লোক লাঠি-সোঠা, দেশী ধারালো বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে এসে হামলা-ভাংচুর শুরু করে। হামলা-ভাংচুর, মারধরের সময় কেতাবুল ইসলাম, তার ছেলে বাবু, কেতাবুল ইসলামের স্ত্রী নাসিমার ভাই কালুর ছেলে আশরাফুল, শরিফুল ও তরিকুল উপস্থিত থেকে হামলা ও মারধর করে। এক পর্যায়ে বাড়িতে থাকা আমিসহ আমার বোন ফেরদৌসি, বোনের মেয়ে, বোনের স্বামী ছবিসহ বাড়িতে থাকা সকল-নারী-পুরুষকে বেধড়ক মারধর করে। সন্ত্রাসীদের বর্বর হামলায় ছবি বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছে, দরিদ্র মানুষ অর্থের অভাবে চিকিৎসা পর্যন্তও করতে পারেনি। মনি মেম্বারের ছেলে ও লোকজন আমার গলা টিপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। আমি কোনভাবে প্রাণ রক্ষা করি। ঘটনা বেগতিক দেখে স্থানীয় লোকজন বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাদের উপরও চড়াও হয় মনি মেম্বার, মনি মেম্বারের ২ ছেলে সাব্বির ও আতিক ও তার লোকজন। স্থানীয় লোকজনের উপর ধাওয়াও করে সন্ত্রাসীরা। পরে বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দিয়ে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায় সন্ত্রাসী মনি মেম্বার। থানায় আসার খবর শুরে পরে আবারও রাত ১১টা পর্যন্ত ফেরদৌসির বাড়ি ঘেরাও করে সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশের ফোন পেয়ে সেখান থেকে সরে মনি মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী। তিনি আরও বলেন, আমার বোন অসহায় দরিদ্র মানুষ। মানুষের কাছ থেকে চেয়ে চিন্তে কোনভাবে সংসার চালায়। রেললাইনের ধারে সরকারী জমিতে কোনভাবে বাস করে। তার উপর এভাবে সন্ত্রাসীদের দিয়ে হামলা, পরিবারের ৪জনকেই মেরে ফেলার হুমকি!। তাহলে কি, গরিব এর জন্য কোন বিচার নেই। এঘটনায় ভূক্তভোগী পরিবারও স্থানীয়রা আতংকের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, এঘটনা নিয়ে থানায় গেলে থানার ওসি আমাদের নানাভাবে সন্ত্রাসী মনির পক্ষে সাফায় গায়, ভুল ভাল বুঝিয়ে ঘটনা অন্যদিকে গড়িয়ে দেয়ার জন্য কৌশল করে এবং শেষ পর্যন্ত ওসির কথা মোতাবেক মামলার পরিবর্তে জিডি করে এসেছি। থানার ওসি সন্ত্রাসী মনি মেম্বারের পক্ষে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, ফেরদৌসি ও কেতাবুলের মধ্যে বিবাদ থাকলেও ভাড়াটে হয়ে হামলা, শ্লীলতাহানি এবং মেয়েদের উপর হামলা ঘটনা নিয়ে সদর থানার ওসির ভূমিকা ছিলো বিতর্কিত। নির্যাতিত হয়ে গিয়েছিলাম থানায় বিচার চাইতে, কিন্তু পেয়েছি সন্ত্রাসীদের পক্ষের পরামর্শ এবং অবহেলা। অন্যায়কারীর পক্ষের হয়ে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে এসে ঘটানো এমন সন্ত্রাসী ঘটনার সঠিক বিচার চান তিনি। অন্যদিকে, সন্ত্রাসী মনি মেম্বারের বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অনেক অভিযোগ রয়েছে আগেরও। এলাকার নারীদের মারধর করা, নেশাগ্রস্থ হয়ে এলাকার মানুষকে গালিগালাজ করা, হামলা-ভাংচুরের ঘটনাও ঘটিয়েছে এই সন্ত্রাসী আওয়ামীলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম মনি মেম্বার। তারপরও কোন অজ্ঞাত কারণে বা সুবিধা পাওয়ায় তাকে বাঁচাতে নানা ফন্দি ও কৌশল করছেন সদর থানার ওসি মতিউর বলেও জানা গেছে। এছাড়া, সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের বালুবাগানের একটি ঘটনায় ভূক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে, উল্টো প্রতিপক্ষকে পাল্টা মামলা করিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে গত কোরবানীর ঈদের আগের রাতে মিজানুর ও তার ছেলেকে ধরে থানায় নিয়ে আসে থানায়। সকালে পুলিশ সুপার কে বিষয়টি অবহিত করা হলে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম সেবা। পরিবারটির উপর অন্যায়ের বিষয়টি নিয়ে সদর থানার ওসিকে বললেও নানা ষড়যন্ত্র করে। পুলিশ সুপার নির্দেশ দেয়ার পরও বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে পরিবারটিকে হেনস্থা করার চেষ্টা করে অনেকভাবে। ঈদের ছুটির জন্য আদালত ছুটি থাকায় পরে বিশেষ আদালতে জামিন নিয়ে গ্রেফতার করা বাবা ছেলে পরিবার নিয়ে ঈদ করতে পায় পুলিশ সুপারের সহায়তায়। ওসির এমন এঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশিষ্টজন, গীতিকার, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজের প্রভাষক, সাপ্তাহিক সোনামসজিদ পত্রিকার সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মোহাঃ জোনাব আলী, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজে শিক্ষকদের কাছ থেকে অধ্যক্ষের চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ দিতে গেলে তিনি নানা টালবাহানা এবং কৌশল করেন। পরে বিভিন্ন অযুহাত দিয়ে অভিযোগ গ্রহণ করেন নি, উল্টো সখ্যতা থাকায় আওয়ামীলীগ নেতা বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজের অধ্যক্ষ এজাবুল হক বুলির পক্ষে সাফায় শোনান। পরিস্থিতি জেনে-বুঝে জোনাব আলী পুলিশ সুপারের কাছে যান এবং বিষয়টি খুলে বলেন। পুলিশ সুপার সদর থানার ওসিকে-বিষয়টি কে গুরুত্বের সাথে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিলেও মোহাঃ জোনাব আলীর বিষয়টির দায়সারাভাবে কাজ করেন। বিষয়টি নিয়ে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা কে দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি ওসির নির্দেশের বাইরে কাজ করতে পারছেন না। সব মিলিয়ে তিনি আওয়ামীলীগ নেতা এজাবুল হক বুলিকে বাঁচাতে সবকিছু করছেন বলে বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছেন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজের প্রভাষক মোহাঃ জোনাব আলী। প্রভাষক জোনাব আলী বলেন, সদর থানার ওসি আমার কথার কোন মূল্যায়ন তো করেন নি, তিনি পুলিশ সুপারের কথারও কোন মূল্যায়ন করেন নি। দেড় মাসের উপর সময় চলে গেলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেন নি এখন পর্যন্ত। তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে দিচ্ছেন না। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্যকারী ও অনেক অনিয়ম, সেবাগ্রহণকারীদের বঞ্চিতকারী, অর্থলিপ্সু, আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীদের পৃষ্ঠোপোষক এমন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে জেলা থেকে শাস্তিমূলক বদলী করা অন্যন্ত জরুরী বলেও জানা তিনি। এদিকে, কয়েকমাস আগে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন দিলু’কে কটাক্ষ ও হুমকি দেয়ার ঘটনায় আলোচনা শেষে সাংবাদিক মহলের সিদ্ধান্তে থানায় প্রায় ১৫জন বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মী জিডি করতে যান। ওসির কক্ষে বসে বিষয়টি সাংবাদিকরা ওসি মতিউর রহমানকে অবহিত করলে তিনি প্রথমে জিডি করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ভুল-ভাল আইন বুঝিয়ে নানাভাবে সাংবাদিকদের জ্ঞান দিতে থাকেন। ওসির এমন আচরনে উপস্থিত সাংবাদিকরা উনার কাছে জিডি না করতে পারার বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অবশেষে জিডি এন্ট্রি করার নির্দেশ দেন ওসি। সদর ওসি মতিউর রহমানের এমন অসৌজন্যমূলক আচরনে সেদিন সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক রাজনীতিবিদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ।

টাকা ছাড়া কোন সেবা মিলেনা। সালিসের খরচের নামে টাকা আদায় করছেন। আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে বসে রাতে দিনে থানায় আড্ডা দিচ্ছেন, আওয়ামীলীগ আমলেরসহ বর্তমান সময়েরও থানার দালালাদের নিয়ে সব সময় ব্যস্ত তিনি। সাধারণ মানুষের কথা শোনার বা ব্যবস্থা নেয়ার কোন সময় উনার হাতে থাকে না। কেউ কোন বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ওসি সাহেবের কথার বাইরে মামলা, এজাহার, অভিযোগ বা জিডি হবে না। কোন ভূক্তভোগী থানায় গেলে ঘটনা জানার পরই দালাল বা নিজেই প্রতিপক্ষের সাথে তাৎক্ষনিক যোগাযোগ করে সুবিধা নিয়ে প্রতিপক্ষকে বাঁচানোর চেষ্টায় মেতে উঠেন। তবে, সদর ওসি সাহেবের একটি ভালো গুন আছে, সেটি হলো, মিষ্টি করে কথা বলেন এবং ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়ে তার কথামতো কাজ করিয়ে নেন। তিনি বলেন, সব মিলিয়ে ৫ আগষ্টের পর এমন ওসি আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাই নি। কিন্তু বিভিন্নভাবে উর্ধ্বতন মহলকে বিষয়গুলো জানালেও কোন অজ্ঞাত কারনে ওসি মতিউর এর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, চাঁপানবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের মধ্যে স্বৈরাচারের দোষর ডিআইও ওয়ান ওবায়দুলসহ বেশ কিছু কর্মকর্তা থাকলেও উর্ধ্বতন পুলিশের কর্মকর্তাগণ কোন পদক্ষেপই নিচ্ছেন না। ফলে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীরা এবং সদর উপজেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারী, সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও কোন গ্রেফতার বা ব্যবস্থা নেই। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমানের অনিয়ম, দূর্ণীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং সেবা গ্রহিতাদের উপর মানষিক, আর্থিক অত্যাচারের সঠিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী জানান এই নেতা। অন্যদিকে, চলতি মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা এলাকার দূর্গাপুর গ্রামের হওয়া একটি মামলার বাদিপক্ষকে ফাঁসাতে প্রতিপক্ষের একটি মামলায় বাদীর সাজানো বর্ণনা অনুযায়ী ঘটনার কোনো সত্যতা না থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত সুবিধা নিয়ে বা কারণে ওসি মতিউর রহমান মামলা রেকর্ড করেন। ফলে নিরীহ মানুষ মানসিক নির্যাতন ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হন। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এটি আরেকটি উদাহরণ যে, অর্থনৈতিক সুবিধা ও রাজনৈতিক তদবিরের কাছে নতি স্বীকার করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমান। এ বিষয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মতিউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পৌর এলাকার মহাডাঙ্গা গ্রামের ছবির বাড়িতে হামলা মারধর নারী শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারীরা আমার কাছে তাদের যে, অভিযোগ উপস্থাপন করেছেন এবং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী উভয় পক্ষের মধ্যে হাতা হাতি, ধস্তাধস্তি হয়েছে। সে অনুযায়ী একটি জিডি গ্রহন করা হয়েছে। তারা যদি এজাহারের বর্ণনা নিয়ে আছে তাহলে এজাহার হিসেবে গ্রহণ হবে। পুলিশ সুপারের আদেশ অমান্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মতিউর রহমান বলেন, পুলিশ সুপার মহোদয়ের আদেশের বিষয়টি আমার স্মরণে আছে এবং আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে পুলিশ সুপার মহোদয়ের মাধ্যমে সাইবার ক্রাইম আদালতে প্রেরণ করেছি। সদর মডেল থানায় দালালের উৎপাত এবং সেবাগ্রহীতাগণ প্রাপ্ত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি মতিউর রহমান জানান, আমি সদর মডেল থানায় যোগদানের সময় থেকে জনগণকে তাদের প্রাপ্ত সেবা দিয়ে আসছি এবং বর্তমানেও দিচ্ছি। ওসি আরো বলেন, আমি সকাল ১১টা থেকে শুরু করে রাত্রী ৪টা পর্যন্ত জনগণকে সেবা দিয়ে আসছি। এছাড়া দালাল হিসেবে কারা চিহ্নিত, তা আমি জানিনা। এখানে কোন দালালকে প্রশ্রয় দেওয়া হয় না। সাধারণ মানুষ সেবা নিতে প্রয়োজনে যারা আমার কাছে অফিসে আসে, তারা আমার কাছে থেকেই সেবা নিয়ে যাই এবং আমার অফিসারদের কাছে যারা আসে, তারা আমার অফিসারের কাছ থেকেই সেবা নিয়ে যাই বলে জানান ওসি মোঃ মতিউর রহমান।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *