নাটোরে মুগ ডালের দূর্গাদেবী-ভক্ত ও দর্শনার্থীদের ভীড়
নাটোরে এবার ব্যতিক্রমী ভাবে মুগ ডাল দিয়ে দুর্গাদেবীর প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন ওই প্রতিমাটি দর্শনে আসছেন দুর-দুরান্ত থেকে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। ছোট-বড় সকলের নজর কেড়েছে ওই মুগ ডালে রুপ নেওয়া প্রতিমাটি। শহরের উত্তর আলাইপুর নতুনপাড়া পূজা মন্ডপে প্রতিমাটি দর্শনের জন্য স্থাপিত করা হয়েছে। জানা গেছে, দীর্ঘ আড়াই মাসের চেষ্টায় প্রতিমা শিল্পী নীল কুমার দাস পুরো প্রতিমাটি আদিরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রথমে কাঠ, বাঁশ ও বিচালির কাঠামো তৈরি করা হয়। পরে তাতে মাটি দিয়ে প্রতিমার আকৃতি আনা হয়। মাটি শুকিয়ে যাওয়ার পর মাটির ওপর সোনালি মুগ ডাল দিয়ে বসানো হয়। এতে পুরো প্রতিমাটি রুপে আনতে প্রায় ৬০ কেজি ডাল লেগেছে। দূর্গা ছাড়াও লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, এমনকি অসুর আর দেবীর বাহন সিংহকেও সূক্ষ্ম কারুকার্যে ডালের আবরণে সাজানো হয়। দর্শনার্থী লাবনী সরকার প্রতিবেদককে বলেন, ডাল দিয়ে অনেক চমৎকারভাবে দেবী দুর্গার আদিরুপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নাটোরে মুগ ডালে তৈরি প্রতিমাটি দেখতে সিংড়া থেকে এসেছি। সেই সঙ্গে লালবাজারের পাটের আঁশ দিয়ে প্রতিমাটিও দেখলাম। অনেক সুন্দর নিখুঁত ভাবে কাজ করা হয়েছে। অনেক ভক্তরা প্রতিমাটি দেখতে আসছেন। ভিতরে প্রবেশ করাই যাচ্ছে না। আরিব বায় নামে আরেক দর্শনার্থী বলেন, পরিবারের সবাই একসঙ্গে মুগ ডালের প্রতিমাটি দেখতে এসেছে। অনেক সুন্দর লাগছে। মা দূর্গাতে নতুন রুপে দেখতে পেলাম। সামনে মা আমাদের সকলের মঙ্গল করবে। দর্শনার্থী কল্পনা রানী সরকার বলেন, ফেসবুকে দেখে মুগ ডালে আবরণে দুর্গা মাকে দেখতে এসেছি। মা সব রুপেই রুপসী, তা না দেখলে বুঝা যায় না। এবার মা আমাদের সকল অভাব দুর করবেন এবং সুখে-শান্তিতে ভরিয়ে দেবেন। প্রতিমা শিল্পী নীল কুমার দাস বলেন, গতবছর নাটোরে ধানের প্রতিমা দেখেছিলাম। এবার পাটের আঁশ দিয়ে মোড়ানো প্রতিমা দেখলাম। সেই থেকে আমরা চিন্তা ভাবনা করে মুগ ডাল দিয়ে প্রতিমাটি তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করি। কাজটি সহজ ছিল না। নিখুত হাতে দীর্ঘ সময়ে প্রায় ৬০ কেজি ডালে পুরো প্রতিমাটি রুপে আনতে হয়েছে। আড়াই মাসের চেষ্টায় প্রতিমাটি তৈরি করি। এক নজর দেখতে অনেক ভক্তরা মন্ডপে আসছেন। অনেক প্রশাংসা করছেন। নতুনপাড়া পূজা মন্ডপ কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব সাহা বলেন, এবার ব্যতিক্রমি ভাবে দুর্গাপূজায় মুগ ডালের আবরণে প্রতিমা নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এরপর প্রতিমাশিল্পীর চেষ্টায় তা রুপে আনা হয়। প্রচুর ভক্তরা পূজা-আর্চণা করতে আসছে আমাদের মন্ডপে। সবাইকে মুগ্ধ করেছে প্রতিমাটি।

Leave a Reply