পাহাড়ে অস্থিতিশীলতা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ-রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সময় পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। বুধবার সকালে রাজধানীর পল্টনে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি এ কথা জানান। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যারা শেখ হাসিনার পতন মেনে নিতে পারছে না, তারাই পরিকল্পিতভাবে দুর্গাপূজার সময় পাহাড়ে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিভক্ত করার চেষ্টা হয়েছে। বিএনপি নেতা বলেন, দুর্গাপূজাকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেও ষড়যন্ত্র চলছে। তবে পূজার শান্তিপূর্ণ আয়োজন নিশ্চিত করতে হিন্দু-মুসলিম সবাই একসঙ্গে কাজ করছে এবং সেই শপথ নিয়েছে। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, খাগড়াছড়িতে যে মারমা কিশোরী দলবদ্ধ ‘ধর্ষণের’ শিকার হয়, বলে অভিযোগ ওঠে, ছয়দিন পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ‘ধর্ষণের কোনো আলামত পাননি’ বলে জানিয়েছেন পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক। আদিবাসী এ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর খাগড়াছড়িতে ব্যাপক উত্তেজনা, অবরোধ আর সহিংসতা ছড়িয়ে যায়। গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারির মধ্যে গুলিতে তিনজনের মৃত্যু হয়ে। এঘটনা নিয়ে খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আরেফিন জুয়েল বলেন, প্রতিবেদন মঙ্গলবার পেয়েছি। ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খাগড়াছড়িতে ছড়ানো সহিংসতাকে ‘পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এটা ইস্যু করে পরিকল্পিতভাবে আন্দোলন করেছে। যারা জড়িত, তাদের আমরা আইনের আওতায় আনব। ২৪ তারিখ থেকে জেলায় মিছিল মিটিং করা হয়েছে। অবরোধ দেওয়া হয়েছে। জনজীবন স্থবির হয়ে গেছে। পূজার উৎসবের আমেজ নষ্ট হল অবরোধের কারণে। পর্যটক আসতে পারেনি। তিনটা জীবন ঝরে গেছে, যা খুবই দুঃখজনক। তাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। এদিকে, মারমা স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সদর থানায় মামলা হয়। পরের দিন ভোরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরই মধ্যে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় খাগড়াছড়িতে, যা পরে সহিংস হয়ে ওঠে। ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি অতিরিক্ত সেনা ও বিজিবি মোতায়েনের পরও পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকে। গত রোববার ১৪৪ ধারার মধ্যেই গুইমারায় ব্যাপক সহিংসতা হয়। সেখানে গুলিতে নিহত হয় তিনজন।

Leave a Reply