চাকসু নির্বাচন ॥ ক্যাম্পাস জুড়ে কড়া নিরাপত্তা

চাকসু নির্বাচন ॥ ক্যাম্পাস জুড়ে কড়া নিরাপত্তা

তিন দশক পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), হল ও হোস্টেল সংসদ নির্বাচন বুধবার (১৫ অক্টোবর)। সোমবার চাকসু নির্বাচনে প্রচারের শেষদিন। শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করেন প্রার্থীরা। ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার চত্বর, বুদ্ধিজীবী চত্বর, লেডিস ঝুপড়ি, কলা ঝুপড়ি, সমাজবিজ্ঞান ঝুপড়ি, প্রতিটি অনুষদ প্রাঙ্গণ, আবাসিক হল প্রাঙ্গণ, জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছিল প্রার্থীদের প্রচারের ভিড়। প্রচারণার শেষ মুহূর্তে দেখা যায়, প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। নিতে শেষ মুহূর্তে নানা সমীকরণ মেলাচ্ছেন ভোটাররা। নানা ধর্ম, বর্ণ, জাতিসত্তার বৈচিত্রের এক অনন্য বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কয়েকটি সমীকরণে নির্ধারণ হবে চূড়ান্ত ফলাফল। সে সাথে পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও কম। চমক দেখাতে পারেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী চাকসু নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৮ জন। যেখানে নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১১ হাজার। যা প্রায় ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে, চবিতে আবাসন ব্যবস্থা আছে ৬ হাজার ৩২৮ জনের। ছেলেদের হলে আছে ৩ হাজার ৬৮৭টি আসন, মেয়েদের হলে আছে ২ হাজার ৬৪১টি আসন। সে হিসাবে মাত্র ২৩ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক। বাকি ৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থীই অনাবাসিক। অনাবাসিক ও নারী ভোটারের এই বিশাল সংখ্যা পার্থক্য গড়বে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে পাহাড়ি ও সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। পার্বত্য রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানের উপজাতি শিক্ষার্থীদের ভোটও নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া সংখ্যালঘু, বৃহত্তর চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভোটও প্রভাবক হয়ে উঠবে। চাকসু নির্বাচন ঘিরে নানা প্রতিশ্রুতি ও ইশতেহার নিয়ে ভোটারদের মাঝে প্রচার করেছেন প্রার্থীরা। তবে অনেকেই দিচ্ছেন সাধ্যের বাইরের প্রতিশ্রুতি। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, যারা বাস্তবভিত্তিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং অতীতে শিক্ষার্থীদের পাশে ছিলেন তাদেরই বেছে নেবেন তারা। এরমধ্যে আবাসন ও পরিবহন সংকট, নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ভোট কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বুধবার ভোটের দিন চাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের ভোট গ্রহণ করা হবে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনির উদ্দিন জানিয়েছেন। দুইজন নির্বাচন কমিশনারের তত্ত্বাবধানে দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানান তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পাঁচটি অনুষদের প্রতিটিতে একজন করে মোট পাঁচজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া কেন্দ্রগুলোর বাইরে আরও চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে থাকবে মোবাইল কোর্ট। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, বিজিবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী, রোভার স্কাউট ও বিএনসিসি মিলিয়ে প্রায় ১৭শ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। পাঁচটি অনুষদের ১৫টি কেন্দ্রে মোট ৬০টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩শ টি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ৭শ টি গোপন বুথ। ব্যালট বাক্সগুলো বিভিন্ন কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *