থালা-বাটি নিয়ে শিক্ষা ভবনে শিক্ষকরা
শিক্ষা ভবনের সামনে এক অদ্ভুত দৃশ্য। কেউ ভেবেছিলেন হয়তো কোনো রান্না প্রতিযোগিতা হচ্ছে, কেউ আবার ভেবেছেন “বৈশাখ এসেছে বুঝি?” কিন্তু না, এটা কোনো উৎসব না, এটা এক শিক্ষা-আন্দোলনের নতুন ধারা! দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যান শিক্ষা ভবনে, হাতে বই নয়, প্রশ্নপত্র নয় বরং থালা-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল! কারণ, পেটের দাবিই এখন সবচেয়ে বড় শিক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে দাবি-দাওয়া জানাতে জানাতে শিক্ষকরা বুঝেছেন, মুখে কথা বলে ফল নেই, তাই এবার হাতে নিলেন খাবারের পাত্র। বার্তা একটাই: “যখন পেটে ভাত নেই, তখন শিক্ষা কেমন চলে?”
দেখা গেল এক শিক্ষক হাতে একটা বাটি নিয়ে গর্বভরে বলছেন, “এই বাটিটা আমার ছাত্র উপহার দিয়েছিল, বলেছিল, স্যার, চাকরি করে কিছু খান অন্তত!” পাশে থাকা এক শিক্ষক হাঁড়ি হাতে গম্ভীর মুখে বললেন, “ভাই, এবার হয়তো হাড়িতেই ভবিষ্যৎ লিখতে হবে, কারণ বইয়ে লিখলে কেউ দেখে না!”
শিক্ষা ভবনের প্রহরীরা প্রথমে একটু ভয় পেয়ে গেলেন। ভাবলেন, বুঝি ‘শিক্ষক ভোজসভা’ বসছে! পরে বোঝা গেল, ওটা আসলে ক্ষুধার প্রতীকী প্রতিবাদ।
একজন সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলেন, “স্যার, থালা-বাটি নিয়ে আসার উদ্দেশ্য কী?” শিক্ষক মৃদু হেসে বললেন, “উদ্দেশ্য খুবই উচ্চমার্গীয়, আমরা শিক্ষা দিই, কিন্তু আমাদের সংসার এখন ‘উপবাস শিক্ষা’র আওতায়। তাই ভাবলাম, থালা-বাটি নিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ অন্তত বুঝবেন, এই পাত্রগুলো বহুদিন খালি পড়ে আছে!” একজন শিক্ষিকা আবার কাঁধে একটা পাতিল ঝুলিয়ে বললেন, “আমরা পেট খালি রাখলেও মন ভরতি রাখি, তবে এবার মনও খালি হয়ে যাচ্ছে!”
বেলা বাড়ার সাথে সাথে দৃশ্যটা যেন এক রম্য নাটকে পরিণত হলো। কেউ হাঁড়ি বাজিয়ে তাল দিচ্ছেন, কেউ থালা দিয়ে স্লোগান তুলছেন, “আমরা শিক্ষক— থালা-বাটির সৈনিক!” শেষ পর্যন্ত এক প্রহরী হেসে বললেন, “স্যাররা যদি চান, ভবনের ভিতরে গ্যাসের চুলাও আছে।” একজন শিক্ষক তখন হেসে উত্তর দিলেন, “না ভাই, এখন চুলা নয়, চাই চাকরি ও বেতন, তাহলেই ভাত রান্না হবে!” হাঁড়ি-পাতিলের এই প্রতিবাদ, শিক্ষা ভবনে ইতিহাস হয়ে থাকবে। কারণ প্রথমবারের মতো শিক্ষকরা বুঝিয়ে দিলেন, শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যখন পেট খালি থাকে, তখন সেটাও এক বিশাল পাঠশালা!
Leave a Reply