বাড়ির ছাদে মৌচাক রহনপুরের উদয়নগরে খাঁটি মধুর উৎসব!

বাড়ির ছাদে মৌচাক রহনপুরের উদয়নগরে খাঁটি মধুর উৎসব!

মানুষের বাড়ির ছাদে ফুলগাছ, সবজি কিংবা ফলের টব দেখা যায়, এ এখন সাধারণ চিত্র। কিন্তু চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার উদয়নগর মহল্লায় এক বাড়ির ছাদে ঘটেছে ভিন্ন এক দৃশ্য। এখানে ফুলের গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে গড়ে উঠেছিল একটি বিশাল মৌচাক। আর সেই চাক ভাঙতেই বেরিয়ে এলো আসল রত্ন-খাঁটি মধু! উদয়নগরের বাসিন্দা সম্পার মা জানান, কয়েক মাস আগে তাদের ছাদের এক কোণে মৌমাছির আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। শুরুতে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না দিলেও ধীরে ধীরে চাকটি বড় হতে থাকে। আশপাশের ফুলবাগান ও বাগিচা থেকে মৌমাছিরা মধু সংগ্রহ করে সেখানে জমা করতে থাকে। কিছুদিনের মধ্যেই চাকটি এত বড় আকার ধারণ করে যে, পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগ দেখা দেয়—যদি চাকটি ভেঙে পড়ে বা মৌমাছি হিংস্র হয়ে ওঠে! তবে ভয় নয়, কৌতূহলই জয় পেল। স্থানীয় অভিজ্ঞ এক মৌচাষি ডেকে আনা হয় চাকটি নিরাপদে অপসারণের জন্য। সাবধানে ছাদ থেকে চাকটি নামিয়ে আনলে দেখা যায়, সেটিতে প্রায় ৭/৮ লিটার খাঁটি মধু জমেছে। মধুর গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে গোটা মহল্লায়, যেন প্রকৃতির এক মিষ্টি বার্তা। স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম শহরে মৌচাক তৈরি হবে না, কিন্তু দেখলাম প্রকৃতি চাইলে সবই সম্ভব। এটি প্রমাণ করে, আমাদের আশেপাশে এখনো মৌমাছির মতো পরিশ্রমী প্রাণীরা বেঁচে আছে।” প্রকৃতি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহর ও গ্রামে ফুলগাছের সংখ্যা বাড়ায় মৌমাছিরা সহজেই আশ্রয় খুঁজে নিচ্ছে মানুষের ছাদে বা বারান্দায়। মৌমাছি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী; তারা শুধু মধু দেয় না, ফসলের পরাগায়ণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে,
“এ ধরনের প্রাকৃতিক চাক মধুর মানে দারুণ হয়। যদি নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে ছাদেও ছোট পরিসরে মৌচাষ শুরু করা সম্ভব।” উদয়নগরের সেই বাড়ির ছাদে এখন মধু তোলা শেষ হলেও, সেই ঘটনা মহল্লায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অনেকে এখন ভাবছেন, “বাড়ির ছাদ শুধু গাছের জন্য নয়, প্রকৃতির এমন দানও পেতে পারে।”
যে মধু প্রকৃতির অনুগ্রহে, কোনো রাসায়নিক ছাড়াই ছাদের উপর তৈরি হয়েছে, তা যেন প্রকৃতি নিজেই হাতে তুলে দিয়েছে “খাঁটি মিষ্টতার উপহার”। উদয়নগরের ছাদে জন্ম নেয়া এই মধুর গল্প এখন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, এক মিষ্টি বিস্ময়ের মতো।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *