রহনপুরে বেওয়ারিশ কুকুরের দখলে সড়ক: আতঙ্কে পৌরবাসী
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও মহল্লায় এখন যেন বেওয়ারিশ কুকুরের রাজত্ব। ভোরবেলা কিংবা গভীর রাতে, এমনকি দিনের আলোতেও দলবেঁধে রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় কুকুরের দল। তাদের দেখা মেলে কখনো বাজারে, কখনো স্কুলের সামনে, আবার কখনো বাসা-বাড়ির মোড়ে। এদের হঠাৎ চিৎকার, দৌড় আর আক্রমণাত্মক ভঙ্গি এখন স্থানীয়দের নিত্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু ও গবাদিপশুদের উপর হামলার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি কয়েকটি এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর ছোট শিশু ও ছাগল-ভেড়ার উপর হামলা চালিয়েছে। হঠাৎ দলে দলে কুকুর এসে কামড়ে দেয় বা ভয় দেখিয়ে তাড়া করে। এতে অনেক শিশু আতঙ্কে বাইরে যেতে চায় না। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। রহনপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, “রাতে কুকুরের ডাকে ঘুমাতে পারি না। সকালে নামলেই দেখি ৮-১০টা কুকুর রাস্তায় ঘুরছে। একবার এক কুকুর আমার নাতির পায়ে কামড় দিয়েছিল।” আদালতের নিষেধাজ্ঞায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কিছুই করতে পারছে না। পৌরসভার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশে কুকুর নিধন কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। ফলে পৌর কর্তৃপক্ষ চাইলেও আইনগত কারণে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, “কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। আমরা অনেকটাই অসহায়। নিধন করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ, আর আশ্রয়কেন্দ্র বা ভ্যাকসিন কার্যক্রমের বাজেটও নেই।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের পরিবর্তে তাদের নির্বীজন (Sterilization) ও র্যাবিস টিকাদান কার্যক্রমই হতে পারে স্থায়ী সমাধান। এতে কুকুরের সংখ্যা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং র্যাবিস সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে। এ ধরনের উদ্যোগের জন্য প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগ। সাধারণ মানুষের দাবী-রহনপুরের সাধারণ মানুষ এখন একটাই দাবি তুলেছেন, নিরাপদ ও কুকুরমুক্ত পৌর এলাকা। তারা চান, শিশুদের যেন নিরাপদে স্কুলে যেতে পারে, রাস্তায় হেঁটে যেতে যেন আর ভয়ে কাঁপতে না হয়। পৌরসভা, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগই এখন সময়ের দাবি। রহনপুরের প্রতিটি রাস্তায় মানুষের চলাচল যেন আবারও স্বাভাবিক হয়— সেই প্রত্যাশাই এখন পৌরবাসীর। বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন ও নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগই হতে পারে টেকসই সমাধান।
Leave a Reply