চাঁপাইনবাবগঞ্জে পেঁয়াজের বাজারে আগুন-এক দিনের ব্যবধানে ২০-৩০ টাকা বৃদ্ধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরসহ আশপাশের বাজারে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে হু হু করে। গত রোববার পর্যন্ত যে পেঁয়াজ ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সোমবার থেকেই সেটি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। এক দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ২০ টাকার এই দাম বৃদ্ধি, সাধারণ ক্রেতাদের হতবাক করে দিয়েছে। বর্তমানে আরও বৃদ্ধি হয়েছে বাজারে পেঁয়াজের দাম। পাইকারী বাজারের চেয়ে গ্রাম অঞ্চলের বাজারে দাম আরও বেশী নিচ্ছেন খুচরা বিক্রেতারা। খুচরা দোকানে পেঁয়াজের বর্তমান দাম ১২০ টাকা কেজি। কোথাও কোথাও আরও বেশি করে নেয়া হচ্ছে পেঁয়াজের দাম। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন হোটেল ব্যবসা মালিকরা। রহনপুর বাজারের এক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, আমরাও চাই না দাম এতটা বাড়ুক, কিন্তু সোমবারের হাটে পাইকারি বাজারে দামই হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে আমাদেরও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ এই ব্যাখ্যায় সন্তষ্ট নয়। স্থানীয় এক গৃহিণীর ক্ষোভ, “বাজারে গেলেই মনে হয় সবজিতে আগুন, তবে কয়েকদিন থেকে শীতকালীন সব্জি বাজারে আমদানী হওয়ায় একটু কমেছে। পেঁয়াজ তো এখন যেন সোনার দানা! প্রতিদিনের রান্না এখন হিসেব কষে করতে হবে। বাজার বিশ্লেষক ও পর্যেবক্ষক মহল মনে করছেন, বাজার অস্থিতিশীল করার পেছনে একশ্রেণীর অসৎ ব্যবসায়ী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জনগণের পকেট থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। পেয়াজের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এমন অস্বাভাবিক উত্থান কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা-এই তিন ধাপেই যদি কঠোর বাজার মনিটরিং চালু করা যায়, তাহলে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রহনপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভার হাটসহ জেলার বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা বাজারে প্রশাসনের তদারকি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। জনগণের প্রত্যাশা একটাই-পেঁয়াজের বাজারে যেন আবার স্থিতি ফিরে আসে। প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপই পারে সাধারণ মানুষের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে।

Leave a Reply