মুন্সীগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব ॥ প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত এক
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চড় ডুমুরিয়া গ্রামে বিএনপি’র এক গ্রুপের হামলায় প্রতিপক্ষের আরিফ মিয়া নামের একজন নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় অপর গুলিবিদ্ধ ইমরানকে মুমূর্ষ অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার (১০ নভেম্বর ) ভোর ৫ টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম আরিফ মীর। সে পেশায় একজন শ্রমিক ছিলেন। নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত আরিফ মীর সকালে তার বাড়ির পাশে টিউবওয়েলে মুখ ধুচ্ছিলেন। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন একটি ট্রলারে করে এসে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তারা ঘুমন্ত গ্রামবাসীর উপর হামলা চালায় তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। নিহতের বোন ফাতেমা বলেন, আমার ভাই নিরীহ লোক ছিল। কোন দল করতো না। আতিক মল্লিক, জাহাঙ্গীর ইউসুফ এর নেতৃত্বে এক থেকে দেড় শত লোক ভোর পাঁচটার দিকে ককটেল, বন্দুক নিয়ে আমাদের চর ডুমুরিয়া গ্রামে এসে হামলা চালায়। তারা একাধিক বাড়িতে গুলি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ভাঙচুর ও লুটপাট করে। নিহতের স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, ভোর চারটা হতে ওরা আমাদের গ্রামে হামলা চালাচ্ছে। আমার স্বামী কোন দল করত না। শ্রমিকের কাজ করতো। সকালবেলা কাজ করার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় ওরা ৬০ থেকে ৭০ জন আমার বাড়িতে এসে ওকে গুলি করে চলে যায়। এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা: রুহুল আমিন বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুইজনকে আমাদের হাসপাতালে পৌনে আটটার দিকে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছে। অপরজনকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেরন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি এম সাইফুল সাইফুল আলম বলেন, যিনি নিহত হয়েছেন তার মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে। এই অঞ্চলে একাধিক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লা কান্দি ইউনিয়নে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। দুপক্ষের একপক্ষের নেতৃত্বে আছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওয়াহিদ মোল্লা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিক মল্লিক। অপর পক্ষে রয়েছেন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উজির আলী ও তার অনুসারীরা। গত এক সপ্তাহ আগে ওই বিরোধের জেরে তুহিন দেওয়ান নামের যুবক খুন হয়। নিহত তুহিন ওয়াহিদ-আতিক গ্রুপের সমর্থক ছিলো। ওয়াহিদ আতিক গ্রুপের তুহিন হত্যার বদলা নিতে সোমবার ভোর ওয়াহিদ আতিক গ্রুপের লোকজন প্রতিপক্ষ উজির আলী, আওলাদ গ্রুপের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এতে আরিফ মোল্লা নিহত ও ইমরান গুলিবিদ্ধ হয়। আরও জানা গেছে, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দল ভারী করতে থাকে বিএনপি’র দুটি পক্ষই। আওয়ামীলীগের লোকজনকে দলে ভেড়াতে শুরু করে। শুরু হয় ওয়াহিদ, আতিক ও উজির আলী, আওলাদ গ্রুপের দ্বন্দ্ব। এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর দুপক্ষের দ্বন্দ্বে আটজন গুলিবিদ্ধ হন।

Leave a Reply