নওগাঁ-১ ও ৩ এবং ৪ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের জোরালো দাবিতে উত্তাল রাজপথ
নওগাঁ-১, নওগাঁ-৩ ও নওগাঁ-৪ আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের জোরালো দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্ব স্ব এলাকার রাজপথ। প্রতিবাদী নেতা কর্মীদের অভিযোগ, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মতামত ও দাবি উপেক্ষা করে বির্তকিত ও অগ্রহণযোগ্য প্রার্থী ঘোষণা করার ফলশ্রুতিতে ক্রমেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এসব আসনভুক্ত এলাকায়। নওগাঁ-১ (সাপাহার-পোরশা-নিয়ামতপুর) আসনে তিনবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. ছালেক চৌধুরীকে এবার মনোনয়ন দেয়া হয়নি। দেয়া হয়েছে নতুন প্রার্থী মেস্তাফিজুর রহমানকে। এ কারনে ডাক্তার ছালেক চৌধুরীর সমর্থক নেতা কর্মীরা তাঁকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করছেন। গত মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার সরাইগাছী স্কুল মাঠে ঘন্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও পরে সরাইয়াছি আড্ডা মহাসড়কের সরাইগাছি চারমাথার মোড় এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে ডা. ছালেক চৌধুরীর পক্ষে সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুর উপজেলার বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহন করেন। গত ৩ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাদেশের ২৩৭ আসনে প্রাথমিকভাবে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। এ হিসেবে নওগাঁ-১ আসনে নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নাম ঘোষণা করা হয়। ফলে এই আসনের তিনটি উপজেলায় ডা. ছালেক চৌধুরীর সমর্থক, কর্মী ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করছেন। অন্য ২ আসনেও প্রার্থী পরিবর্তনের জোরালো দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নওগাঁর নির্বাচনী মাঠ। এর আগে গত ৫ নভেম্বর বিকেলে-নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে সর্বপ্রথম মহাসড়ক অবরোধ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করে এমএ মতিনের অনুসারী মান্দা উপজেলা বিএনপির হাজারো নেতাকর্মীরা। ডা. ইকরামূল বারী টিপুকে মনোনয়ন দেয়ার প্রতিবাদে নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের মান্দা ফেরিঘাট এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মান্দা উপজেলা বিএনপি সভাপতি এম এ মতিনের সমর্থকরা। তারা তৃণমূলের মতামত ও চাওয়াকে উপেক্ষা করে একজন জনপ্রিয় প্রার্থীকে বাদ দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগপন্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে অভিযোগ করেছেন এবং তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এমএ মতিনকে পুনরায় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার দাবি করেন। এছাড়া আরেক প্রার্থী দাবিদার নওগাঁ জেলা বিএনপি’র সদস্য প্রকৌশলী আক্কাস আলীর হাজারো কর্মী সর্মথকরা গত শুক্রবার (৭ নভেম্বর) মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে।

এছাগা নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে বিএনপির ঘোষিত ফজলে হুদা বাবুলের ধানের শীষের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে। শনিবার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ডে প্রধান সড়কের দুধারে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মরহুম আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী (জনি) এর সমর্থকেরা এ আয়োজন করে। স্মরণকালের দীর্ঘ এ মানববন্ধন স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডের উত্তরে লিচুবাগান ও দক্ষিণে শিবগঞ্জের মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। কর্মসূচি চলাকালে বক্তারা এই আসনে বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুলের মনোনয়ন বাতিল ও পূনর্বিবেচনা করে জনিকে চুড়ান্ত মনোনয়ন দেয়ার জোর দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বকের মোড়ে জনির বাসভবনের সামনে গিয়ে বিশাল সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে ‘বয়কট বয়কট-ফজলে হুদা বয়কট’ শ্লোগানে শ্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে মহাদেবপুরে রাজপথ। সমাবেশে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি নেতাকর্মীদের শান্তনা দিয়ে বলেন, এই মনোনয়নই চুড়ান্ত নয়। দলের মহাসচিব বলেছেন এটি পরিবর্তন হতে পারে। তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে প্রয়াত আখাতার হামিদ সিদ্দিকীর পরিবারকে মাইনাসের ষড়যন্ত্র চলছিল। তাদের দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র এখনও সক্রিয়। তিনি সাধারণ ভোটারদের সাথে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারিদের রুখে দেয়ার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, ১৯৯১ থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে মরহুম আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু পর পর চার বার এই আসন থেকে বিজয়ী হন এবং ২০০১ টার্মে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকারের দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুর পর ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনিকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হলে শেখ হাসিনার মধ্যরাতের সাজানো নির্বাচনেও তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। এবার এই আসনে কর্পোরেট চাকরিজীবি উক্ত ফজলে হুদা বাবুল’কে মনোনয়ন দেয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, মহাদেবপুর উপজেলার ভোটার সংখ্যা বদলগাছীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুন। এখানকার ভোটেই নির্ধারিত হবে জয় পরাজয়। এই আসনটি ধানের শীষের ঘাটি হলেও মনোনয়নের ভূলে এবার এটি জামায়াতের দখলে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। তাই অবিলম্বে মনোনয়ন পরিবর্তন করে জনিকে মনোনয়ন দেয়ার দাবি তাদের।

Leave a Reply