হারিয়ে যাওয়া সেই গ্রামীণ দৃশ্য ॥ মৌসুমে ফিরে আসে পুরোনো স্মৃতি

হারিয়ে যাওয়া সেই গ্রামীণ দৃশ্য ॥ মৌসুমে ফিরে আসে পুরোনো স্মৃতি

 

একসময় গ্রামবাংলার গৃহস্থ পরিবারের আঙিনায় প্রাণের স্পন্দন ছিল অন্যরকম। ছেলে-মেয়েরা ক্ষেতের ধান রোপণ, ধান কাটা, ধান মাড়াই কিংবা ধান শুকানোর কাজে মেতে থাকত হাসি-আনন্দে। সেই দৃশ্য ছিল এক বিশুদ্ধ গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি। এখন শহরমুখী জীবনের টানে, যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে এবং চাষাবাদের পদ্ধতিগত পরিবর্তনে সেই চিরচেনা চিত্র হারিয়ে গেছে প্রায়।

আজকাল গ্রামবাংলায় এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায় না। তবে আউশ, আমন কিংবা বোরো মৌসুম এলেই কোথাও কোথাও দেখা মেলে পুরোনো দিনের কিছু দৃশ্যের। ক্ষেতের আইলে পায়জামা গুটিয়ে মেয়ে-ছেলেরা ধানের চারা রোপণ করছে, কেউ পানি সেচছে, কেউ বা গরুর লাঙ্গল ধরেছে— এমন দৃশ্য দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। মনে পড়ে যায় সেই দিনগুলোর কথা, যখন গ্রামের প্রতিটি পরিবারই ছিল কৃষিনির্ভর, পরিশ্রম আর আনন্দে ভরপুর।

এখন অধিকাংশ গ্রামীণ তরুণ শহরে কর্মসংস্থানের খোঁজে ছুটে যায়। কৃষিকাজে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে অনেকেই। ফলে ঘরে থাকা ছেলে-মেয়েরা বইয়ের পাতা কিংবা মোবাইলের পর্দায় সীমাবদ্ধ। আর তাই আজকের প্রজন্মের কাছে সেই প্রাণবন্ত কৃষিজীবনের দৃশ্যগুলো যেন কেবল গল্প বা ছবির মতো মনে হয়।

তবুও, মাঝে মাঝে মৌসুমভিত্তিক চাষাবাদের সময় সেই পুরোনো দৃশ্যের কিছু অংশ ফিরে আসে। ধানের চারা রোপণের সময় মাঠে মেয়েদের দলবদ্ধ হাসি, ছেলেদের কর্মচাঞ্চল্য, আর কৃষকের কণ্ঠে সুরেলা ধান কাটার গান— যেন বাংলার মাটির সুর আবারও বাজিয়ে তোলে।

এই ক্ষণস্থায়ী দৃশ্যগুলো শুধু কৃষিকাজ নয়, বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর আত্মপরিচয়ের প্রতীক। তাই এসব দৃশ্যকে টিকিয়ে রাখা মানে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা। নতুন প্রজন্মের উচিত সেই মূল্য বুঝে মাঠে-মাঠে ফিরে আসা, মাটির ঘ্রাণে আবারও প্রাণ খুঁজে নেওয়া।
যন্ত্রের যুগেও মাটির টানে ফিরে আসে মানুষ। তাই মৌসুম এলেই যদি সেই পুরোনো দৃশ্যগুলো একটু বেশি দেখা যায়, তবে গ্রামের আকাশে আবারও বাজবে জীবনের সুর – “ধান কাটবো, গান গাইবো, হাসবো আপন মনে।”

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *